রবিবার, আগস্ট ২৫

এবার কাশ্মীর থেকে পুত্রবধূ আনব, রসিকতা খট্টরের, বিতর্ক, প্রতিবাদে রাহুল, মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ‘সামান্য ঠাট্টা’। সেই নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। চলতি সপ্তাহের শুরুতে উত্তরপ্রদেশের এক বিজেপি বিধায়ক বলেছিলেন, আমাদের দলের কর্মীরা এবার ফরসা কাশ্মীরি মেয়েদের বিয়ে করতে পারবে। এবার অনেকটা একইসুরে মন্তব্য করলেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর। তিনি বলেন, কাশ্মীর তো এখন খোলামেলা। সেখানকার মেয়েদের পুত্রবধূ করে আনতে বাধা নেই।

গত সপ্তাহেই দলের বিধায়ক ও সাংসদদের নিয়ে ‘ডিসিপ্লিন ক্লাস’ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সবাইকে সতর্ক করে দেন, কেউ যেন প্রকাশ্যে বেফাঁস কিছু না বলেন। তারপরেও ওই ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী।

এর আগে উত্তরপ্রদেশের বিধায়ক বিক্রম সাইনি বলেন, আমাদের সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে আমরা এবার কাশ্মীরে যেতে পারব। সেখানে জমি কিনতে পারব। সেখানকার মেয়ে বিয়েও করতে পারব।

শুক্রবার হরিয়ানার ফতেহাবাদে জনসভায় খট্টর বলেন, আমাদের মন্ত্রী ধনকরজি বলতেন, আমাদের বিহার থেকে পুত্রবধূ আনতে হবে। কারণ আমাদের রাজ্যে ছেলের সংখ্যা বাড়ছে, মেয়ের সংখ্যা কমছে। কিন্তু এখন সবাই বলছে, কাশ্মীর তো খুলে দিয়েছে। এবার আমরা কাশ্মীর থেকেও পুত্রবধূ আনতে পারব।

২০১৪ সালে বিজেপি নেতা ও পি ধনকর তরুণদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কেউ যদি বিয়ে করার জন্য পাত্রী না পায়, বিহার থেকে এনে দেওয়া হবে।

প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী খট্টরের মন্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেন, হারিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী কাশ্মীরি মহিলাদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা নিন্দনীয়। ওই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, আরএসএস তার স্বেচ্ছাসেবকদের কী শেখায়। মহিলারা পুরুষদের সম্পত্তি নন।

কংগ্রেসের অপর সাংসদ পি এল পুনিয়া বলেন, মনোহরলাল খট্টর মুখ্যমন্ত্রীর পদে আছেন। তাঁর এইরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা উচিত নয়। খট্টর পালটা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, বিকৃত খবরের ভিত্তিতে কারও মন্তব্য করা উচিত নয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি খট্টরের নাম না করে বলেছেন, আমরা যারা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে আছি, তাদের কথাবার্তায় সংযত হওয়া উচিত। জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের সম্পর্কে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা উচিত নয়। এতে শুধু জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষতি হবে না, সারা দেশেরই ক্ষতি হবে।

Comments are closed.