সোমবার, এপ্রিল ২২

বোতসোয়ানায় তারাভরা আকাশের নীচে প্রেমের অঙ্গীকার

চান্দ্রেয়ী সেনগুপ্ত

১৯৯৭ সালের ৩১শে অগস্ট। এক আকস্মিক দুর্ঘটনায়, মাত্র ৩৬ বছর বয়সে, মারা যান প্রিন্সেস ডায়ানা। শোকস্তব্ধ সারা বিশ্ব। ৬ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ – প্রিন্সেস ডায়ানার শেষ যাত্রা। রাষ্ট্রীয় সম্মানে সজ্জিত মায়ের কফিনের পিছনে বারো বছর আর পনেরো বছরের দুই কিশোর নতমস্তকে ধীর পদক্ষেপে হেঁটে চলেছে তাদের বাবা ও মামার সঙ্গে– তাদের মায়ের শেষ যাত্রায়।
যারা এই দৃশ্য সেইদিন দেখেছে, তাদের কেউ চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি। ডায়ানার দুর্ঘটনায় অসময়ে মৃত্যুর চেয়েও হৃদয়বিদারক ছিল দুই মাতৃহীন কিশোরের শোকস্তব্ধ মূর্তি।
মায়ের শেষকৃত্যের পর, মাতৃহারা শোকবিহ্বল বারো বছরের হ্যারিকে তার বাবা প্রিন্স চার্লস নিয়ে যান আফ্রিকার বোতসোয়ানায়। অপ্রিয় ঘটনা, রটনা, বিশ্লেষণ, সমালোচনা সবকিছু থেকে বহুদূরে প্রকৃতির কোলে শান্তি পেয়েছিল শোকাতুর শিশুমন। সেখানকার দিগন্ত বিস্তীর্ণ আদিম বনভূমি, পশুপাখি, সহজ মনের মানুষগুলোর সঙ্গে সহজ ভাবে মেলামেশা, অনেকটা স্বাভাবিক করে তুলেছিল ভারাক্রান্ত মনকে।
সেই থেকেই বোতসোয়ানা অত্যন্ত প্রিয় প্রিন্স হ্যারির কাছে। তাঁর সুখ দুঃখের সাথী এই বনভূমি; মায়ের অবর্তমানে মাতৃস্নেহের প্রতীক এই বনভূমি। দৈনন্দিন জীবনের নিয়ম শৃঙ্খলা থেকে মুক্তি পেতে, বুক ভরে নিশ্বাস নিতে, প্রাণ খুলে হাসতে, একজন সাধারণ মানুষের মত বাঁচতে, মাঝে মাঝেই দক্ষিণ আফ্রিকায় পালিয়ে যান হ্যারি। মেগানকে নিয়ে যেতে হবে সেখানে। রাজবেশ খুলে নিজের পরিচয় দিতে, তাঁকে তো মেগানের সাথে বোত্সোয়ানায় যেতেই হবে।
বিবিসি-র এক সাক্ষাৎকারে হ্যারি এবং মেগান বলে যে বোত্‌সোয়ানায় ছুটির পাঁচ দিন তাদের দুজনের কাছেই এক অভাবনীয়, অপূর্ব অভিজ্ঞতা – ‘এই কদিনে আমরা একে অপরকে খুব কাছে থেকে চিনেছি, জেনেছি’। হ্যারি আরও বলেন যে ‘আমি চেয়েছিলাম মেগান যেন আমি ‘মানুষটাকে’ চেনে’। দুজনে জঙ্গলে ট্যুরিস্ট ক্যাম্পে থেকেছেন, রাতে খোলা আকাশের নিচে শুয়ে তারায় ভরা গাঢ় নীলের দিকে চেয়ে মন খুলে কথা বলেছেন। এই পাঁচ দিনে, অকৃত্রিম প্রকৃতির কোলে, তাঁরা একে অপরের প্রতি গভীর প্রেমে আবদ্ধ হন। বাগদানের সময়, নিজের ডিজাইন করা, যে হিরের আংটিটি হ্যারি তার প্রেয়সীকে পরিয়েছেন, তার মাঝখানের ৩ ক্যারেটের হিরেটিও আনা হয়েছে বোত্‌সোয়ানা থেকে। আংটিতে মাঝের হিরেটির দুধারে অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের দুটি হীরে বসানো হয়েছে যা হ্যারির মায়ের ব্যবহৃত। জীবনের অন্যতম আনন্দের অধ্যায় শুরু করার এর চেয়ে সুন্দর উপায় আর কি হতে পারে?   
 সে সব তো ভালই হল। কিন্তু সমস্যা হল দুজনের অবস্থানের দূরত্ব। তাও আবার একটু আধটু নয়। একেবারে সাগর পার; পাঁচ হাজার মাইলের উপর, পাঁচ ঘণ্টার উপর সময়ের ব্যাবধান। এতটা দূরত্বে পূর্বরাগ সম্ভব হবে কী ভাবে (ক্রমশ)
লন্ডনবাসী ডঃ চান্দ্রেয়ী সেনগুপ্ত পেশায় শিশুচিকিৎসক। সেন্ট মেরি’স হাসপাতালে কর্মরতা। চান্দ্রেয়ীর জন্ম ও শিক্ষা প্রধানত কলকাতায়। পেশায় চিকিৎসক হলেও তাঁর নেশা সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতি, যার অনেকটা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। নির্বাক চলচিত্র যুগের অভিনেতা চারু রায়ের দৌহিত্রী তিনি।  তিনি লন্ডনে গড়েছেন এক নাট্যদল, ইস্টার্র্ন থেস্‌পিয়ান্স। যেটি মননশীল মৌলিক নাটক পরিবেশন করে ইংল্যান্ডে সুখ্যাতি অর্জন করেছে। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ‘রয়েল ওয়েডিং’ নিয়ে তাঁর রচনা সাগরপারের রূপকথা।
Shares

Leave A Reply