মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

একই পরিবারের ছ’জন খুন, তদন্তের পিছনে ‘ঈশ্বরের হাত’ দেখছেন মৃতের কন্যা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কেরলে রহস্যময় মৃত্যু হয়েছিল একই পরিবারের ছ’জনের। ২০০২ সালে প্রথমবার পরিবারের একজনের মৃত্যু হয়। ষষ্ঠজনের মৃত্যু হয় ২০১৬ সালে। অভিযোগ, খাবারে সায়নাইড বিষ দিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়েছিল। মৃতদের একজনের নাম রয় টমাস। তাঁর বোন রেঞ্জি টমাস বলেছেন, ঈশ্বর খুনিদের ধরিয়ে দিচ্ছেন। খুব ছক কষে এতগুলি খুন করা হয়েছিল। ঈশ্বর আমাদের প্রতি সদয় না হলে এতদিন বাদে ষড়যন্ত্রের কথা জানাজানি হত না।

রয় টমাসের স্ত্রী জলি ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার হয়েছেন। ৪৭ বছরের জলি বাদে গ্রেফতার হয়েছেন এম এস ম্যাথু ও প্রাজিকুমার নামে দুই ব্যক্তি। ম্যাথু জলির বন্ধু বলে পরিচিত। প্রাজিকুমার চাকরি করেন জুয়েলারির দোকানে। তিনিই খাবারে মেশানোর জন্য সায়ানাইড এনে দিতেন বলে অভিযোগ।

রয় টমাসের ভাই রোজো থাকেন আমেরিকায়। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অতগুলি মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করে। মৃতদের পরিবার কোঝিকোড় জেলার কোদাথায়ি নামে এক গ্রামে থাকত। ২০০২ সালে রোজোর মা আন্নাম্মা মারা যান। তাঁর স্বামী টম মারা যান ২০০৮ সালে। রয় মারা যান ২০১১ সালে। এক বছরের শিশু ও তার মা ফিলি মারা যান ২০১৬ সালে। তাঁদের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে দু’মাস আগে। তদন্তের জন্য গত শুক্রবার মৃতদেহগুলি কবর খুঁড়ে তোলা হয়েছে।

স্বামী রয়ের মৃত্যুর পরে জলি বিয়ে করেন শাজু নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি ছিলেন ফিলির স্বামী। পুলিশ জানিয়েছে, জলি অন্যের কাছে মিথ্যা করে বলতেন, তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি নামে এক বিখ্যাত কলেজের শিক্ষক। তাঁর কাছে একটি ভুয়ো পরিচয়পত্র ছিল। তিনি রোজ সকালে গাড়ি চড়ে বেরিয়ে যেতেন। সবাই জানত, তিনি কলেজে পড়াতে যাচ্ছেন।

পুলিশ জানতে পেরেছে, তিনি কমার্স গ্র্যাজুয়েট। এনআইটি-তে পড়ানোর যোগ্যতা তাঁর নেই। রেঞ্জি বলেন, আমরা জলিকে নিজের দিদি বলেই মনে করতাম। সেও আমাদের সঙ্গে দিদির মতোই আচরণ করত।

Comments are closed.