মাথায় চুল বসাতে গিয়ে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি’ করাতে গিয়ে মৃত্যু হল ৪৩ বছরের এক ব্যবসায়ীর। মুম্বইয়ের ডঃ এল এইচ হীরানন্দানি হসপিটালের ঘটনা।  ৯ই মার্চ মৃত্যু হয়েছে শ্রবণ কুমার চৌধুরির। সার্জারির ৫০ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর। অথচ বাড়িতে কেউ কিছুই জানতেন না!
    যে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে সেখানকার ডাক্তাররা একটি ইংরেজি দৈনিকে বলেছেন, অ্যাকিউট অ্যালার্জি নিয়ে ওই ব্যবসায়ী ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। তাঁর মৃত্যুর কারণ অ্যানাফাইলেটিক শক। অর্থাৎ অ্যালার্জির কারণেই ওষুধ থেকে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাস নিতে অসুবিধা, বারবার মুখের ভিতরে ফুলে যাওয়া,শ্বাসনালী ফুলে যাওয়া, ব্লাডপ্রেশার কমে যাওয়া, হার্ট ফেল, এমনকি মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকেই, আর এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। রোগীকে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টেশনের ১৫ ঘণ্টার পরে কিছু পেইনকিলার জাতীয় ওষুধও দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি বাড়ি ফেরার পরে আর নেননি। ফলে আরও সমস্যা বেড়েছে।

    ৭ই মার্চ তাঁর মাথায় প্রায় ৯০০০ হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়, হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে শুধু তাঁর ড্রাইভার ছিলেন। ৭ই মার্চ এই ট্রান্সপ্লান্টেশনের পরে চৌধুরি তাঁর বাড়িতে ফিরে আসেন। তারপরই তাঁর প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। স্ত্রী প্রথমে বুঝতেও পারেননি ঠিক কী হয়েছে। এরপরই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় চিঙ্কপোকলি হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। শ্রবণের বাড়িতে তাঁর তিনটি বাচ্চা এবং স্ত্রী রয়েছেন। এই নতুন চুল গজানোর কারবারে তিনি খরচ করে ফেলেছেন ৫ লাখ টাকা!
    স্থানীয় পুলিশ চিঙ্কপোকলি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ১৭৪ ধারায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় গাফিলতির কারণে মৃত্যুর অভিযোগে দায়ের করেছে। পুলিশ এটাও তদন্ত করছে আদৌ ওই হাসপাতালে এ জাতীয় চিকিৎসার পরিকাঠামো ছিল কি না!
    আপাতত এই ঘটনার পর ডার্মাটোলজিস্টরা বলছেন কখনোই এজাতীয় চিকিৎসা বহুবার না ভেবে করা ঠিক নয়। বারবার ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে তবেই চিকিৎসা শুরু করা উচিত। তাঁরা বলছেন, আগে যেভাবে হত এখন তা অনেকটাই বদলেছে। দুরকম ভাবে এই ট্রান্সপ্লান্টেশন হয়। একক্ষেত্রে দেহের অন্য জায়গা থেকে লোম নিয়ে মাথায় বসানো হয়। যা আগে খুব বেশি করা হত। আর এখন হেয়ার ফলিকল ট্রান্সপ্লান্টেশন করা হয়। এক্ষেত্রে মাথার যে জায়গায় চুল কমছে, বা বাজে অবস্থা সেখানে একটা করে হেয়ারস্ট্রিপ বসানো হয়। সেই এক একটা স্ট্রিপে ৫০০ থেকে ২০০০ গ্রাফ্ট থাকে। এক একটা গ্রাফ্টে প্রচুর চুল থাকে। এছাড়াও  ম্যানুয়ালি ইমপ্ল্যান্টও করা হয় এই হেয়ার ফলিকল।
    সাধারণত এই পুরো বিষয়টাতেই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন খুবই জরুরি। যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক থেকে পেইনকিলার সবই থাকতে পারে। কারণ ব্যথা বা ইনফেকশন কোনওটাই যাতে না হয় সেদিকে নজর রাখতে হয়। এমনকি শোওয়ার সময় সোজা হয়ে থাকবেন না পাশ ফিরে সেটাও ডাক্তারের থেকেই জেনে নেওয়া উচিত। এই সার্জারির পর কোথাও কোনও ব্যথা বা সমস্যা হলে, রস গড়ালে, ঘা মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে যান ডাক্তারের কাছে। সাইড এফেক্ট হতে পারে শ্বাসক্ষ্ট, বা সেই জায়গাটা থেকে রক্ত পড়া ইত্যাদি। কখনও কখনও অ্যানাফাইলেটিক শক হতে পারে, যা থেকে মৃত্যু হতেই পারে। তাই খুব স্পর্শকাতর এই বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই সাবধান থাকতে হবে ।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More