শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

থানার মধ্যে চুলের মুঠি ধরে মহিলাকে মার, ভাইরাল ভিডিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো : হাঁটু মুড়ে মাটিতে বসে আছেন তিন মহিলা। তাঁদের একজনের কোলে বাচ্চা। এক পুলিশ অফিসার তাঁদের উঠে দাঁড়াতে হুকুম দিচ্ছেন। মহিলারা তবুও হাঁটু মুড়ে বসে রইলেন। কান্নাকাটি শুরু করলেন। অনুনয়, বিনয় করতে লাগলেন। তখন ওই পুলিশ অফিসার চুলের মুঠি ধরে এক মহিলাকে দাঁড় করালেন। লাঠি দিয়ে মারতে লাগলেন তার পিঠে। হাঁটু মুড়ে বসে থাকা মহিলাদের প্রতি হাত দেখিয়ে কিছু একটা ইঙ্গিত করলেন। এমনই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে নেট দুনিয়ায়।

যতদূর জানা যাচ্ছে, ওই পুলিশ অফিসার মধ্যপ্রদেশ পুলিশের কর্মী। সম্ভবত গোয়ালিয়র থানার মধ্যে তিনি ওইভাবে মহিলাকে মারধর করছিলেন। ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, সেই মহিলা কাঁদতে কাঁদতে একটি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। আরও তিন পুলিশ অফিসারকে ভিডিওয় দেখা গিয়েছে। তাঁদের একজনকে দেখা যাচ্ছে, যখন মহিলা মার খাচ্ছেন, তখন তিনি হাসছেন।

গোয়ালিয়র পুলিশের দাবি, ওই ভিডিওটি দু’বছরের পুরানো। সোশ্যাল মিডিয়ায় আচমকাই ভিডিওটি কেউ আপলোড করেছে। যে অফিসারকে মারধর করতে দেখা গিয়েছে, তিনি এখন ভোটের ডিউটিতে বাইরে আছেন। ফিরে এলে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কী ঘটেছিল?

গোয়ালিয়রে ভোট হবে ১২ মে। সেখানে বিজেপির প্রার্থী নরেন্দ্র সিং তোমার। তিনি গতবার ওই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন। এবার তাঁর বিপক্ষে আছেন কংগ্রেসের অশোক সিং।

এর আগেও গোয়ালিয়রে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, স্টেশন চত্বরে এক কিশোরকে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। মারের চোটে সে অজ্ঞান হয়ে গেল। যিনি মারছিলেন তিনি রেল পুলিশের হেড কনস্টেবল। তিনি পরে বলেন, ওই কিশোরটি ছিঁচকে চোর। সে চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে।

ভিডিওয় দেখা যায়, ওই পুলিশকর্মী ছেলেটির মাথা মাটিতে ঠুকে দিলেন। ঘাড় ধরে তাঁকে তুললেন। তারপর ফের মাথাটি ঠুকে দিলেন। তারপর জামার কলার ধরে তাকে টানতে টানতে নিয়ে গেলেন। তখন ছেলেটি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। স্টেশনে বহু লোক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কনস্টেবলের কীর্তি দেখছে। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করছে না।

ওই ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পরে প্রশ্ন ওঠে, ছেলেটিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়নি কেন? অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল বলেন, থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে সে পালিয়েছিল। ওই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

Comments are closed.