শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

সংরক্ষণের দাবিতে রেল রোকো, দিল্লি-মুম্বই যোগাযোগে বিঘ্ন

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজস্থানে সরকার গড়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হল কংগ্রেস। সংরক্ষণের দাবিতে শুক্রবার আন্দোলনে নেমেছে গুজ্জর সম্প্রদায়ের কয়েকশ মানুষ।  সাওয়াই মাধোপুর অঞ্চলে শুরু করেছে রেল রোকো। তাতে আটকে পড়েছে বহু ট্রেন। দিল্লি-মুম্বই রুটেই ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আগামী দিনে গুজ্জরদের আন্দোলন আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

রেল রোকোর জেরে চারটি ট্রেনকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে গন্তব্যস্থলের আগে। একটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। সাতটি ট্রেন ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে অন্য পথে।

এদিন সন্ধ্যায় শুরু হয় অবরোধ। বিক্ষোভকারীরা মিছিল করে গিয়ে জয়পুর থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে সাওয়াই মাধোপুর অঞ্চলে ট্রেনলাইনে বসে পড়ে। গুজরদের নেতা কিরোরি সিং বৈঁসলা বলেন, আমরা পাঁচ শতাংশ সংরক্ষণ চাই। সরকার আমাদের দাবিতে কান দিচ্ছে না। তাই আমরা আন্দোলন শুরু করছি। গুজ্জরদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিন মন্ত্রীর এক কমিটি তৈরি করেছে রাজ্য সরকার।

প্রায় মাসখানেক আগে উচ্চবর্ণের গরিব মানুষের জন্য চাকরি ও শিক্ষায় ১০ শতাংশ সংরক্ষণের বিল পাশ করিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেজন্য সংবিধান সংশোধন করা হচ্ছে। ওই সংরক্ষণ নিয়ে ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কারণ অতীতে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, সংরক্ষণের উর্ধ্বসীমা যেন ৫০ শতাংশের বেশি না হয়। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা জাতপাতের ভিত্তিতে সংরক্ষণ করছে না। অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তাই এক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের উর্ধ্বসীমা প্রযোজ্য নয়।

গুজ্জরদের বক্তব্য, অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাৎপদদের জন্য যদি ১০ শতাংশ সংরক্ষণ সম্ভব হয়, তাদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে না কেন?

২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে চারবার গুজ্জররা সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলন করে। তারও আগে, ২০০৭-০৮ সালে গুজ্জরদের আন্দোলনে ৭০ জনের প্রাণহানি হয়। রাজস্থান সরকার ২০১৭ সালে গুজ্জরদের আশ্বাস দেয়, তাদের জন্য পাঁচ শতাংশ সংরক্ষণ করা হবে। অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণিগুলির জন্যও সংরক্ষণ ২১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৬ শতাংশ করা হবে বলে জানানো হয়। সেক্ষেত্রে রাজ্যে শিক্ষায় ও চাকরিতে সংরক্ষণের হার ৫০ শতাংশের চেয়ে বেশি হয়ে যাচ্ছিল। ২০১৭ সালের বাদল অধিবেশনে রাজস্থান বিধানসভায় সংরক্ষণের বিলটি আনা হয়। কিন্তু রাজস্থান হাইকোর্টে এর বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়। ফলে সেই বিল এখনও পাশ করানো সম্ভব হয়নি।

Shares

Comments are closed.