যাদবপুর নিয়ে চুপ মমতা, রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাত চরমে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘেরাও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করতে নিজেই ময়দানে নামেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তাঁর এই সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। তার জবাবও দিয়েছেন রাজ্যপাল। বিজেপি নেতা মুকুল রায় থেকে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সকলেই সরব যাদবপুর ইস্যুতে। কিন্তু চুপ রইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করলেও যাদ‌বপুর ইস্যুতে একটি শব্দও খরচ করেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এনআরসি ইস্যুতে নিজের বক্তব্য জানানোর পরে সাংবাদিকরা যাদবপুর নিয়ে প্রশ্ন করার আগেই চলে যান মমতা।

এদিকে যাদবপুর ইস্যুতে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্যপাল ও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে। বৃহস্পতিবারের পরে শুক্রবারও একটি বিবৃতি প্রকাশ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর যাওয়া থেকে শুরু করে গোটা ঘটনাপর্বের ব্যাখ্যা করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। গতকাল রাজ্য সরকারের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারকে না জানিয়েই রাজ্যপাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছেন। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী যেতে বারণ করা সত্বেও তিনি গিয়েছেন।

এর জবাবে এদিন রাজভবনের পক্ষে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, রাজ্য প্রশাসন কাজ করছিল না বলেই গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। সেখানে লেখা হয়েছে, সেই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছিলেন উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য। মুখ্যমন্ত্রী-মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে রাজ্য প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেও উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত না পেয়েই রাজ্যপাল পড়ুয়াদের অভিভাবক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন বলেই দাবি করা হয়েছে বিবৃতিতে।

বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্ঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির উদ্যোগে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে চরম হেনস্থার মুখে পড়েন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। এক সময়ে উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য ক্যাম্পাস ছাড়েন। তার পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা কমাতে উদ্যোগ নেন রাজ্যপাল। নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কার্যত ঘেরাও থাকার পর মন্ত্রী বাবুলকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাস ছাড়েন। এর পরেই শুরু হয় বিতর্ক।

এ দিনের প্রেস বিবৃতিতে রাজ্যপাল তথা আচার্য জানিয়েছেন তাঁর উদ্যোগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। রাজভবনের বিবৃতি বলা হয়েছে, গণতন্ত্রের রক্ষক রাজ্যপাল হিসেবেই শুধু নয়, তিনি ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক হিসেবেও। কারণ পড়ুয়াদের অভিভাবক উপাচার্য, সহ-উপাচার্য কেউই সেই সময় ক্যাম্পাসে ছিলেন না।

তৃণমূল দাবি করেছিল, রাজ্য প্রশাসনকে না জানিয়েই সক্রিয়তা দেখিয়েছেন রাজ্যপাল। সেই বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে রাজভবনের বক্তব্য, রাজ্যপাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র এবং মুখ্যসচিব মলয় দে-র সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কিন্তু কোনও উপায় বার হয়নি। শেষ চেষ্টা হিসাবে দিল্লিতে থাকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং তার জেরে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা বোঝানোর চেষ্টা করেন। বেশ কয়েক বার দু’জনের মধ্যে কথোপকথন হয়। কোনও সমাধানের ইঙ্গিত না পেয়ে রাজ্যপাল নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More