রাজ্যপালের কথায় রহস্য ও কৌতূহল বাড়ল, বললেন, “কাল ইতিহাস হবে বিধানসভায়”

রাজ্যপালের বক্তৃতা নিয়ে সংঘাত রাজভবন ও নবান্নের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন শুরু হবে কাল, শুক্রবার। সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের বক্তৃতা দিয়েই অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু নবান্নের একরোখা মনোভাব আর রাজ্যপালের যা জেদ, তাতে কাল শেষমেশ কী হতে চলেছে তা নিয়ে উৎকন্ঠা, কৌতূহল আর রহস্যে আজ সন্ধ্যা থেকেই জমজমাট পরিস্থিতি।

    নিয়ম অনুযায়ী বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের বক্তৃতা লিখে দেয় সরকার। রাজ্য মন্ত্রিসভা সেই বক্তৃতা অনুমোদন করে। কিন্তু নবান্নের লিখে দেওয়া বক্তৃতার কয়েকটি পরিচ্ছদ, লাইন ও শব্দের ব্যবহার নিয়ে রাজ্যপালের আপত্তি রয়েছে। সেই সঙ্গে রাজ্যপাল তাতে কিছু সংযোজন করতে চেয়েছিলেন। তাঁর সেই সব পরামর্শ রাজভবনের সচিবালয় বৃহস্পতিবার সকালে নবান্নে পাঠিয়েছিল। কিন্তু নবান্নও সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, মন্ত্রিসভায় যে বক্তৃতা অনুমোদিত হয়েছে তা আর বদলানো হবে না।

    সংঘাতের পরিবেশ জমজমাট হয়েছে এতেই। এদিন শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি তাৎপর্যপূর্ণভাবেই বলেন, “শুক্রবার বিধানসভায় ইতিহাস তৈরি হবে। ” তাঁর কথায়, “রাজ্য সরকারে যেমন বক্তৃতার বয়ান লিখে দেওয়ার অধিকার রয়েছে, তেমনই রাজ্যপালেরও সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে নিজের মত জানানোর। এ রাজ্যে রাজ্যপালদের মধ্যে আমিই প্রথম, যে স্বাধীনতার পর জন্মেছি।”

    রাজনৈতিক সূত্রে খবর, তৃণমূল তথা সরকারের শীর্ষ নেতারা এমন আশঙ্কা আগে থেকেই করছিলেন। তাই রাজ্যপালকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে চলার চেষ্টা করা হয়েছিল। দফায় দফায় রাজভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র, পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা। এমনকি রাজ্যপাল জেলা সফরে গেলে যে সরকার হেলিকপ্টার পর্যন্ত দিতে আগে কখনও রাজি ছিল না, তারা হঠাৎই সেই ব্যবস্থাও করে দেন। বৃহস্পতিবার সরকারি হেলিকপ্টারে চড়েই শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল।

    তবে এদিন শান্তিনিকেতনে পৌঁছেই রাজ্যপাল বুঝিয়ে দেন, হেলিকপ্টার দেওয়া হয়েছে মানে তিনি আপস করে চলবেন এমনটা ভাবা ভুল। তাঁর কথায়, হেলিকপ্টার তো আগে দিতই না। আজ হেলিকপ্টার দিয়েছে বলে সকাল ৮ টায় বেরিয়েছি। না দিলেও ক্ষতি ছিল না, ভোর চারটেয় বেরোতাম।

    পরে সন্ধ্যায় রাজভবনের তরফে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়। তাতে পরিষ্কার জানানো হয় যে বক্তৃতার বয়ান পরিবর্তন করার ব্যাপারে রাজ্যপালের পরামর্শ সরকার মানতে চায়নি। রাজ্যপাল তাতে এও বলেন, আমি লক্ষণরেখা অতিক্রম করব না। সাংবিধানিক শর্ত মেনেই চলব। তবে একই সঙ্গে এও ঠিক যে রাজ্যের কোনও আমলা যদি মনে করেন তিনি ইচ্ছামতো সংবিধানের শর্ত লঙ্ঘন করতে পারেন, তাও বরদাস্ত করব না।

    রাজ্যপালের এ কথার মধ্যেই রহস্য ও কৌতূহল লুকিয়ে রয়েছে। ‘কাল ইতিহাস হবে’ এবং খামখেয়ালিপনা বরদাস্ত করব না বলে রাজ্যপাল কীসের ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন অনেকেই তা আন্দাজ করার চেষ্টা করছেন।

    প্রশ্ন হল, কী করতে পারেন রাজ্যপাল?

    ইতিমধ্যে একই ধরনের ঘটনায় কেরলের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান নজির তৈরি করেছেন। সরকারের লিখে দেওয়া বক্তৃতা পাঠ করার পরে বলেছেন, এগুলোর কোনওটাই আমার কথা নয়। পড়তে হবে বলে পড়েছি। ধনকড় কি তাই করবেন, বিধানসভার মধ্যে দাঁড়িয়েই এমন কথা বলে দেবেন, নাকি কোনও ডিসেন্ট নোট পেশ করবেন সভায়—সবটাই এখনও রহস্য।

    তবে এরকম যদি কিছু কাল বিধানসভায় হয়, তবে সত্যিই শুক্রবার ইতিহাস হতে পারে। রাজ্য বিধানসভায় এমন ঘটনার নজির এখনও পর্যন্ত নেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More