শনিবার, মার্চ ২৩

প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের রাজভবনে তলব রাজ্যপালের, উত্তাপ বাড়ছে পরিস্থিতির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘দেশ বাঁচাতে’ শহরের প্রাণকেন্দ্রে ধর্ণায় বসেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, সংবিধান লঙ্ঘন করে কাজ করেছে কেন্দ্রের মোদী সরকার। এই কারণে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান যখন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ধর্ণায় বসেছেন, সেই সময়েই আর এক পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান তথা রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। রবিবার রাতেই খবর এসেছে, নবান্নের শীর্ষ কর্তাদের রাজভবনে তলব করেছেন রাজ্যপাল। মুখ্যসচিব মলয় দে, স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টচার্য এবং ডিজি বীরেন্দ্রকে তলব ডেকে পাঠিয়েছেন তিনি।

তবে ঠিক কী কারণে রাজ্য প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্তাদের জরুরি ভিত্তিতে রাজভবনে তলব করা হয়েছে, সেই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি বিশদে জানতে এবং পর্যালোচনা করতেই তাঁদের ডাক পড়েছে হঠাৎ।

ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত চরমে উঠেছে রাজ্যের। রবিবার রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তা, নগরপাল রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআইয়ের প্রতিনিধি দল তল্লাশি চালাতে এলে বাধা দেওয়া হয় কলকাতা পুলিশের তরফে। ধস্তাধস্তি পর্যন্ত গড়ায় বিষয়টি।

এখানেই শেষ নয়, চিটফান্ড কাণ্ডের তদন্ত চালাতে আসা সিবিআই কর্তাদের রীতিমতো টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় শেক্সপিয়র সরণি থানায়। পরে অবশ্য তাঁদের ছেড়েও দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে রাজীব কুমারের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে কার্যত ছুটে গিয়ে পৌঁছন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি বলেন, সংবিধান বাঁচানোর স্বার্থেই কেন্দ্রীয় এই পদক্ষেপের বিরোধিতায় ধর্ণায় বসবেন তিনি৷ এ কথা ঘোষণার মিনিট কুড়ির মধ্যেই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে শুরু হয়ে যায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্ণা কর্মসূচি৷ হাজির হন রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্যান্য মন্ত্রী ও তৃণমূলের নেতা কর্মীরা৷ সারা রাজ্য থেকে আসতে শুরু করেন কর্মী-সমর্থকেরা।

প্রসঙ্গত, এ দিনই সকালে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন সিবিআই আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধিদল। দীর্ঘক্ষণ তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী নিজে। তবে সেই বৈঠকের সঙ্গে নগরপাল রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

সিবিআই কর্তারা অবশ্য এর মধ্যেই ঘোষণা করেছেন, তাঁদের হাতে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, চিটফান্ড কেলেঙ্কারির বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করেছেন তিনি। এ দিন বাধা পাওয়ার পরে সিবিআইয়ের তরফে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এ দিকে ধর্ণা মঞ্চে ভিড় ক্রমেই বাড়ছে, শহর ও শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে বিক্ষোভ-অবরোধ। সোমবার সারা রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই অবস্থায় সোমবারের বৈঠকে রাজ্যপাল কী বার্তা দেন প্রাশাসনিক কর্তাদের, সেই দিকেই তাকিয়ে সকলে। কোনও সমাধান সূত্র বেরোয় কি না, তা কালই বোঝা যাবে বলে মনে করছেন অনেকে।

Shares

Comments are closed.