এই উস্কানি ও সংবিধান বিরোধী কাজ বন্ধ করুন! মমতার মিছিল নিয়ে বিস্ফোরক রাজ্যপাল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় সোমবার দুপুরে বাবাসাহেব আম্বেদকরের মূর্তির সামনে থেকে তৃণমূলের মহামিছিল বেরোনোর কথা। তার নেতৃত্ব দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের শীর্ষ সারির মন্ত্রীরাও মিছিলে থাকবেন বলে প্রত্যাশিত। তার আগে এদিন সাতসকালে টুইট করে মুখ্যমন্ত্রীকে বিরত করার চেষ্টা করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

    রাজ্যপাল বলেন, “দেশের আইনের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের অন্য মন্ত্রী মিছিল করবেন শুনেই প্রচণ্ড বেদনায় রয়েছি। এটা একেবারেই অসাংবিধানিক। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, এই ধরনের অসাংবিধানিক এবং উস্কানিমূলক কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। পরিবর্তে যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রাজ্য রয়েছে তা শুধরোনোর চেষ্টা করুন।”

    আরও পড়ুন: পোশাক দেখেই বোঝা যাচ্ছে কারা হিংসা ছড়াচ্ছে! ক্যাব-আন্দোলন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য মোদীর

    রাজ্যপালের এই অনুরোধে শাসক দল কর্ণপাত করবে বলে কেউই মনে করছেন না। হয়তো রাজ্যপালও সেটা ভাল করে জানেন। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, পরিস্থিতি দেখে এটাই মনে হচ্ছে যে নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতকে ক্রমশ আরও তীব্র করতে চাইছে তৃণমূল। শাসক দলও জানে যে কেন্দ্রের আইনের বিরোধিতায় মুখ্যমন্ত্রী মিছিল করতে পারেন না বা রাজ্য সরকার বিজ্ঞাপন দিতে পারে না। কিন্তু জেনেবুঝেই হয়তো এই আইন অমান্যের পথে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যপালও যে শুধু সংবিধানের কথা মাথায় রেখেই যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, এমনও হয়তো না। বরং অনেকেই সন্দেহ করছেন, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে চলতি মেরুকরণের রাজনীতির শরিক তিনিও। মুখ্যমন্ত্রী অসাংবিধানিক কাজ করছেন— একথা বারবার বলে জগদীপ ধনকড়ও হয়তো একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করে রাখছেন। যাতে প্রয়োজন হলেই তা কাজে লাগাতে পারেন। তা হল, রাজ্যে সংবিধানের ৩৫৫ ধারা বা ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের সুপারিশ।

    আরও পড়ুন: দেশটাকে ছিঁড়েখুঁড়ে রক্তাক্ত করা হচ্ছে! একাধিক জ্বলন্ত সমস্যার কথা লিখে টুইট করলেন অপর্ণা

    রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের বক্তব্য, বাংলায় সে ধরনের কোনও সাংবিধানিক পদক্ষেপ কেন্দ্র করবে কিনা তা একেবারেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কারণ, বিজেপিও আন্দাজ করছে যে মমতা চাইছেন কেন্দ্র কঠোর পদক্ষেপ করুক। পারলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করুক। যাতে শহিদের মর্যাদা পেয়ে যায় তৃণমূল। কিন্তু বিজেপি সেই সুবিধা তৃণমূলকে দিতে চায় না। ফলে কৌশলে পা ফেলছেন মোদী-অমিত শাহরাও।

    তবু শেষপর্যন্ত যদি কোনও চরম পদক্ষেপ করতেও হয়, তা হলে তার আগে বাংলায় রাজনৈতিক আন্দোলন তীব্র করে তাদের পক্ষে জনমত তৈরি করে রাখতে চান তাঁরা। হতে পারে সেই জনমত তৈরিতেও সাহায্য করছে রাজ্যপালের এইসব মন্তব্য।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More