‘শিক্ষার অবহেলা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আঘাত করে’, রাজ্য শিক্ষা দফতরকে আক্রমণ রাজ্যপালের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: টুইট করেছিলেন আগেই। অভিযোগ তুলেছিলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ‘রাজনৈতিক খাঁচাবন্দি’ করে রাখলে ফল ভয়াবহ হতে বাধ্য। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের এই টুইটের পরে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, এ রাজ্যে কেউ রাজনীতির খাঁচায় বন্দি নন। এর পরে ফের সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন রাজ্যপাল। একহাত নেন শিক্ষাব্যবস্থাকে। এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই ফের সামনে চলে এল রাজ্য ও রাজ্যপালের সংঘাত।

    আজ, বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় প্রথমেই শুভেচ্ছা জানান সদ্য ফলপ্রকাশিত হওয়া ছাত্রছাত্রীদের। যাঁদের ফল আশানুরূপ হয়নি, তাঁদেরও উৎসাহ দেন ভেঙে না পড়তে। পাশাপাশি উল্লেখ করেন, এর পরে যাঁরা কলেজে ভর্তি হবেন, তাঁদের যেন কোনও অসুবিধা বা সমস্যা না হয়।
    এই প্রসঙ্গেই রাজ্যপাল বলেন, “রাজ্যে শিক্ষার পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক কালে যাঁরা কলেজে ভর্তি হয়েছেন, তাদের আর্থিক ভাবে রীতিমতো শোষণ করা হয়েছে। গত ২ বছর ধরে এই পরিস্থিতি চলছে রাজ্যে।”

    শুধু তাই নয়, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তাঁর যা উদ্বেগ বা অভিযোগ, তা নিয়ে রাজ্য সরকার আদৌ ভাবিত নয় বলেও দাবি করেছেন তিনি। তিনি নিজে উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক করেও এই সমস্যার সুরাহা হয়নি। তাঁর কথায়, “দেশের কোনও রাজ্যে এমন পরিস্থিতি নয়। আমি বারবার উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক করেও ফল পাইনি। গত ১৫ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও লিখি। ৬ মাস পরেও মুখ্যমন্ত্রী উত্তর দেওয়ার সময় পাননি।”

    এমনকি সম্প্রতি কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তিনি ভার্চুয়াল বৈঠক করার জন্য আবেদনও করেছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু সরকার তাতেও সাড়া দেয়নি বলে দাবি তাঁর। তাঁর কটাক্ষ, কেন এই বৈঠকের প্রস্তাব গৃহীত হয়নি, তা রাজ্য নিজেও জানে না। রাজ্যপালের মতে, “শিক্ষার প্রতি এই অবহেলা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আঘাত করে। এই রাজ্যে তাই হচ্ছে।”

    রাজ্যপালের প্রশ্ন, “পড়ুয়াদের এক বছর নষ্ট হলে, ক্ষতিপূরণ হবে কীভাবে? এই সমস্ত ইস্যুকে অবহেলা করা হচ্ছে কেন? পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। আমার সঙ্গে আলোচনা করছেন না কেন কেউ?” রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় ক্রমেই রাজনীতির ফাঁস চেপে বসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    আজকের সৈংবাদিক বৈঠকে ধনকড়ের আরও দাবি, রাজ্যে শিক্ষাব্যবস্থার মান ক্রমেই নামছে এই রাজ্যে। তিনি জানান. প্রাক্তন উপাচার্যরাও এ নিয়ে একমত। বর্তমানের ২৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষামন্ত্রীও নিশ্চয়ই এ বিষয়টি জানেন বলেই মত তাঁর। তাঁর কথায়, “কোনও দেশ ঠিকঠাক শিক্ষা পেলে তবেই এগোতে পারে। রাজ্যের মানুষের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতার কথা বলাই আমার কাজ।”

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য রাজ্যপালের টুইটের পরেই একটি চিঠি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উপাচার্যরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলি স্বাধীন ভাবে কাজ করে। শিক্ষা দফতরের তত্ত্ববধানে গোটা পরিকাঠামো পরিচালিত হয়।

    ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল এই প্রসঙ্গে বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থেই উপাচার্যদের বৈঠকে যোগ দেওয়া উচিত। উপাচার্যদের পক্ষপাতমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকা উচিত। যাতে রাজ্যে শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত করা যায়, তাতে উপাচার্যদেরই সদর্থক ভূমিকা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More