শনিবার, মার্চ ২৩

রোজ বেরিয়ে যাচ্ছে মাধ্যমিকের প্রশ্ন, মন্ত্ৰী ও পর্ষদ চুপ, এ ভাবেই চলবে নাকি!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। প্রতি বারের মতোই কড়া নিরাপত্তার আবহে এবং সমস্ত রকম আগাম ব্যবস্থাপনা ও সতর্কতার সঙ্গে। কিন্তু সে সব কিছুকে যেন রীতিমতো বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, চার দিনের পরীক্ষার মধ্যে চার দিনই পরীক্ষা শুরুর কিছু ক্ষণের মধ্যেই ফাঁস হয়ে যায় প্রশ্নপত্র। প্রশ্ন উঠেছে, এ ভাবে কি মাধ্যমিকের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা প্রহসনে পরিণত হয়ে যাচ্ছে না?

মাধ্যমিকের প্রথম দিন ছিল বাংলা পরীক্ষা। পরীক্ষা শুরুর পরে এক ঘণ্টাও কাটেনি তখন। হঠাৎই খবর চাউর হয়, ফাঁস হয়ে গিয়েছে প্রশ্নপত্র। বহু জায়গাতেই হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরেছে সেই বাংলার প্রশ্নপত্র। তবে আদতে সেই প্রশ্নপত্র সে দিনের বাংলা পরীক্ষারই প্রশ্ন ছিল কি না, তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন অনেকেই। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হতে দেখা যায়, হোয়াটসঅ্যাপে যে প্রশ্নপত্রের ছবি ঘুরছিল, পরীক্ষা হয়েছে সেই প্রশ্নপত্রেই। শুধু বাংলা নয়। এর পরে ইংরেজি, ইতিহাস এবং ভূগোল পরীক্ষার ক্ষেত্রেও হয়েছে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।

সোমবার অঙ্ক পরীক্ষা। তাই স্বাভাবিক ভাবেই দুশ্চিন্তায় অভিভাবকেরা। শেষমেশ নির্বিঘ্নে মিটবে তো পরীক্ষা পর্ব? কারণ প্রথম দিন পরীক্ষা মিটে যাওয়ার পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মাধ্যমিক পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, পরীক্ষা বাতিল করা হবে না। তবে কী ভাবে পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্নপত্রের ছবি বাইরে এল তা খতিয়ে দেখছে পর্ষদ।

এ জন্য পর্ষদের তরফে বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তাঁরা। কিন্তু পরবর্তীতে পরপর তিনদিন একই ভাবে পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্নপত্রের ছবি বাইরে চলে আসায় পর্ষদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজ্যের শিক্ষামহল। পরীক্ষার নামে প্রহসন চলছে বলেও তাঁদের অভিযোগ।

প্রধানশিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্রীদামচন্দ্র জানার কথায়, ‘‘প্রযুক্তি এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গেছে, অতি সতর্ক না হলে তার এই অসৎ ব্যবহারকে আটকানো যাবে না। স্কুলে ঢোকার আগে সমস্ত পরীক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পরিদর্শক সবাইকে তল্লাশি করা হোক। এটা নিয়ে ভাবুক পর্ষদ। কোনও এক জনের উপর দোষারোপ করে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না কিছুতেই।’’

তবে দোষারোপের প্রশ্নই তুললেন নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সভাপতি কৃষ্ণপ্রসন্ন ভট্টাচার্য। তাঁর যুক্তি, শিক্ষকদের উপর পর্ষদের আস্থা আর বিশ্বাসটাই নষ্ট হয়ে গেছে। যাবতীয় সমস্যার মূল এখানেই।

তিনি বলেন, ‘‘ময়নাগুড়ি যে একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তা মানতেই চাইল না পর্ষদ। পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে একটা স্কুলের প্রধান শিক্ষক-সহ অন্য সকলেই নিজেদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেন। এখন পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে প্রধান শিক্ষকের মাথার উপর বসিয়ে দেওয়া হল লেবার কমিশনারকে। তাঁর পক্ষে পরীক্ষার খুঁটিনাটি বোঝা কি সম্ভব?’’ বোর্ড সভাপতির পদত্যাগও দাবি করেছেন তাঁরা।

এ দিকে পরপর চার দিন পরীক্ষা শুরু হতেই প্রশ্নপত্রের ছবি বাইরে আসার পিছনে সংবাদমাধ্যমের অতি সক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তাই আরও এক কদম এগিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতেই নিষেধ করে দিয়েছেন বোর্ড সভাপতিকে।

কিন্তু এই চার দিনের মতো পরীক্ষার বাকি কয়েক দিন যাতে পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে প্রশ্নপত্র বাইরে না আসে, তার জন্যে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বোর্ডের তরফে? সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

এ প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছেও। প্রতিদিনই পরীক্ষা শুরু হতেই বাইরে চলে আসছে প্রশ্নপত্রের ছবি। এ বিষয়ে কেন কোনও বিবৃতি মিলছে না? কেনই বা মুখোমুখি মোকাবিলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে না এই অসৎ পদ্ধতিকে। এই অযাচিত ঘটনা রুখতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে শিক্ষা দফতর? জানতে চেয়ে ফোন করা হলে, ফোন ধরেননি পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জবাব দেননি মেসেজেরও।

Shares

Comments are closed.