সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় জীবনে কোনওদিন সেক্রেটারি রাখেননি

৩৩,২০১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

গৌতম ঘোষ

চিত্রপরিচালক

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে শেষ বিদায় জানানো আমার মনে হয় সমস্ত বাঙালির পক্ষে সত্যিই একটা বিষাদের পর্ব। এই বেদনা, এই বিষাদ আমরা কবে কাটিয়ে উঠতে পারব জানি না। তার কারণ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় প্রায় ছয় দশক ধরে আমাদের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আলোকিত করে রেখেছিলেন বিভিন্নভাবে। তাঁর সিনেমা ও মঞ্চে অভিনয়, আবৃত্তি, নাটক পরিচালনা, নাটক-কবিতা-প্রবন্ধ রচনা এবং পত্রিকা সম্পাদনা– এই সব কিছু মিলিয়ে তিনি একজন চিন্তাশীল ব্যক্তি।
সৌমিত্রদার সঙ্গে দীর্ঘদিন মিশেছি। তারপরে তাঁর সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্যও হয়েছে। ওঁর মধ্যে একটা সন্ধানের, উৎকর্ষের খোঁজ করার চেতনা সবসময় কাজ করেছে। ফলে উনি যেটা করেছেন, উৎকর্ষের দিকে এগিয়েছেন। তাঁকে প্রচুর ছবি করতে হয়েছে। সব ছবি যে তাঁর খুব মনমতো তাও নয়। বলেছেন, এটা করতেই হয়। নানারকম চরিত্রে অভিনয় বা যখন নায়ক ছিলাম, অনেক পরপর ছবি করতে হত। সব ছবি যে তাঁর নিজের খুব মনমতো হয়েছে তা নয়, তবে অসম্ভব পেশাদারী একটা মনোভাব ছিল বলে তিনি প্রতিটি কাজই মন দিয়ে করেছেন। যেরকম স্ক্রিপ্ট এসেছে সেরকমভাবে তিনি চেষ্টা করেছেন তাঁর মতো করে কাজ করার।
আমার ছবিতে উৎপল দত্ত, রবি ঘোষ, অনিল চট্টোপাধ্যায় এবং বাংলার আরও অনেক দুর্দান্ত সব অভিনেতা-অভিনেত্রী কাজ করেছেন। সৌমিত্রদার সঙ্গে কাজ করা হয়নি প্রথম দিকে। যখন ‘দেখা’ করি, তার আগে সৌমিত্রদা বললেন, চলো বাবু একটু কাজ করি। জানো তো এখন না এইসব সিনেমা ভাল লাগছে না। এই একই বাবার চরিত্র, পিসেমশাইয়ের চরিত্র, কতগুলি গতেবাঁধা চরিত্র, প্রায় একই রকমের সংলাপ, তাই চেষ্টা করছি যত বেশি সম্ভব থিয়েটার করতে। কিন্তু কী করব, লোকে বললে না-ও করতে পারি না। অত্যন্ত সভ্য মানুষ ছিলেন তো, চট করে কাউকে নাকচ করতে পারতেন না। করে দিতেন। কিন্তু অপেক্ষা করে থাকতেন একটা ভাল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। শুধু চরিত্রটা নয়, সিনেমাটাও উন্নতমানের হবে। প্রাণমন দিয়ে কাজটা যেখানে করতে পারবেন। এটা সবসময় ওঁর বাসনা ছিল।
শুরু ২৩ বছর বয়সে সত্যজিৎ রায়ের হাতে। তারপর মানিকদার অত ছবি করেছেন। তপনদার ছবি করেছেন, মৃণালদার ছবি করেছেন, অজয় করের ছবি করেছেন, শ্রেষ্ঠ পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন। পরবর্তীকালে আমাদের প্রজন্মের পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। পাশাপাশি নাটক, কবিতা লেখা এগুলো তো চলেছেই।
একটা অসাধারণ টাইম ম্যানেজমেন্ট ছিল। এত কাজ করতেন কিন্তু সময়টাকে ঠিক ম্যানেজ করে নিতেন। আমার ধারণা, এই টাইম ম্যানেজমেন্ট মানিকদার কাছে শিখেছেন। সৌমিত্রদা সেকথা আমার কাছে স্বীকারও করেছেন। সত্যজিৎ রায়ের টাইম ম্যানেজমেন্ট ছিল ফ্যান্টাস্টিক। প্রতিভা তো ছিলই। দু’জনেই প্রতিভাবান মানুষ। কিন্তু শুধু প্রতিভা থাকলেই হয় না, সেটাকে প্রকাশ করার জন্য একটা গভীর পরিকল্পনা করতে হয়। এই পরিকল্পনার জায়গাটা চমৎকার ছিল সৌমিত্রদার।

আর একটা বিষয় আগেও দেখেছি, আজকাল তো আকছারই দেখা যায় প্রায় সব অভিনেতা-অভিনেত্রী সেক্রেটারি রাখেন। সৌমিত্রদার সমসাময়িক অনেকেরই দেখেছি। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় জীবনে কোনওদিন সেক্রেটারি রাখেননি। তিনি নিজেই ফোনে কথা বলতেন। বলতেন, একটু দাঁড়াও বাপু, আমি তোমায় কালকে জানাব, আমার খাতাটা দেখে নিই। ওঁর একটা খেরোর খাতা ছিল, সেখানে সব লেখা থাকত। তিনি যে সব্যসাচী। একসঙ্গে অনেক কাজ করতে পারতেন। তাও ওই টাইম ম্যানেজমেন্টটা নিজেই করে নিতেন। ওঁর পরিকল্পনার মধ্যে সবই থাকত। চলচ্চিত্রে, থিয়েটারে, নিজের লেখালিখি বা কাব্যচর্চাতে কতটা সময় দেব– পুরো জিনিসটা নিজের মধ্যেই থাকত। সংগঠিতভাবে। এইভাবেই উনি করে গেছেন। এটা রিমার্কেবল।
আসলে আমাদের বঙ্গীয় নবজাগরণ তো ইওরোপীয় নবজাগরণের মতো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে পারেনি। ফলে নবজাগরণের রং আস্তে আস্তে ফিকে হয়ে গেছে। বঙ্গীয় নবজাগরণের যে বীক্ষণ, শিক্ষাদীক্ষা, বড় মাপের চিন্তাচেতনা সেগুলো নিয়ে আমরা তাদের কাছে পৌঁছতে পারিনি। তাই সেটা টেকেনি। আমাদের কুশিক্ষা গ্রাস করেছে সমগ্র বাঙালি জাতিকে। তার জন্য আমরা দেখতে পাচ্ছি মধ্যমেধার জয়জয়কার। এসবের বাইরে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন, আমার মনে হয়, বঙ্গীয় নবজাগরণের খণ্ডাংশ। যে ছিটেফোঁটা উদ্দীপনা বা যে প্রজ্ঞা কিছু কিছু মানুষ রপ্ত করেছিলেন তাঁদের মধ্যে অবশ্যই সৌমিত্রদা একজন। এই সারির মানুষদের অন্যতম শেষ নক্ষত্র বোধহয় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এরকম বহুমুখী প্রতিভাধর এবং প্রতিটি জিনিসের মধ্যে উৎকর্ষ খোঁজা এবং সেটাকে চালিয়ে যাওয়া শেষমুহূর্ত পর্যন্ত, শেষপর্যন্ত জানার ইচ্ছে, বোঝার ইচ্ছে, পড়াশোনা করার ইচ্ছে– এগুলো কখনও ফিকে হয়নি বলেই তিনি এত রকমের কাজ করে গিয়েছেন।
সৌমিত্রদা তিনশোর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার মধ্যে রিমার্কেবল সব চরিত্র তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন, যেগুলো চিরকাল থেকে যাবে। আবার চুটিয়ে থিয়েটার করেছেন। ‘নামজীবন’ অসম্ভব মঞ্চসফল নাটক। সেখান থেকে আরম্ভ করে পরপর নাটক করেছেন, নাটক লিখেছেন। আর একটা বিষয় ভাবতে হবে, উনি তো এত ব্যস্ত অভিনেতা সব দিক থেকে, তার মধ্যেও তিনি ‘এক্ষণ’-এর মতো কাগজের সহ-সম্পাদনা করেছেন নির্মাল্য আচার্যর সঙ্গে। বাংলা সাহিত্যের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লিটল ম্যাগাজিন এক্ষণ। শুধু তাই নয়, সেই পত্রিকা নিয়ে নানা রকমের ভাবনাচিন্তা, পরীক্ষানিরীক্ষা এবং অনেক কিছু খুঁজে বের করেছেন তাঁরা। নির্মাল্য আচার্যরও বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রচুর হারিয়ে যাওয়া লেখা খুঁজে বের করা কিংবা কোনও একটি বিশেষ উপন্যাসকে ছাপা অথবা কমলকুমার মজুমদারের মতো একজন অসাধারণ লেখকের রচনাকে ক্রোড়পত্র হিসেবে নিয়ে আসা। এসবের জন্য একধরনের মেধা দরকার হয়। তিনি যথার্থই একজন মেধাবী মানুষ। যতদিন ওঁর সঙ্গে মিশেছি, একগাল হাসি নিয়ে শুরু হত তাঁর কথাবার্তা, সংলাপ। তারপরে বিভিন্ন বৌদ্ধিক আলোচনা, বিশ্লেষণে ঢুকে পড়তেন। এসবের সঙ্গী হতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। আমরা অনেক তর্কবিতর্ক করেছি। শিল্পসাহিত্য থেকে আরম্ভ করে সমাজবিজ্ঞান, লোকায়ত দর্শন কী না বিষয়ে ওঁর উৎসাহ ছিল।
খেলাধুলা নিয়েও দারুণ উৎসাহ ছিল। আমরা একবার ইতালিতে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গিয়েছিলাম। রেট্রোস্পেক্টিভ হয়েছিল। মানিকদার ছবি দেখানো হয়েছিল, আমার ছবি দেখানো হয়েছিল। সৌমিত্রদা সঙ্গে ছিলেন। উৎসব দারুণ উপভোগ করলেন। তারপর দেখি সবাইকে জিজ্ঞেস করছেন, আচ্ছা বিশ্বকাপ কীভাবে দেখা যায় বলো তো? তখন আমাদের এক বন্ধু, তাঁর গ্রামে ক্যাসেলের মতো একটা সুন্দর বাড়ি ছিল, বললেন, তোমরা আমার বাড়িতে এসে খেলা দেখো। যতক্ষণ খুশি। সৌমিত্রদার অদম্য উৎসাহে অনেকটা পথ আমরা গেলাম সেই খেলা দেখতে। বিশ্বকাপের খেলা না দেখলে চলবে না। এইরকম একটা আর্তি সব কিছু নিয়ে। যেটা করতেন তার পেছনে একটা প্রচণ্ড আবেগ ছিল। সৌমিত্রদা আবৃত্তি করেছেন অল্প বয়স থেকে। তাঁর উচ্চারণ, শব্দগুলো সর্বদা কানে বাজে আমার।
সৌমিত্রদার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, পর্যাপ্ত হোমওয়ার্ক করে আসতেন। আমি প্রস্তুত হয়ে এসেছি। যখন আমি শ্যুটিংয়ের ময়দানে সেটা স্টুডিও সেটের মধ্যে হোক, আউটডোর হোক, একেবারে প্রস্তুত। উনি বিশ্বাস করতেন চলচ্চিত্র হচ্ছে পরিচালকের মাধ্যম। ফলে মনে করতেন পরিচালক যেটা চাইছেন সেটা আমাকে দিতে হবে। তাই চরিত্রগুলোকে উনি এভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন যেটা সিনেমার টাইম অ্যান্ড স্পেসের মধ্যে আবদ্ধ। ভাল অভিনয় শুধু নয়, বিশ্বাসযোগ্য অভিনয় করতে জানতেন। দৃষ্টিহীন মানুষের চরিত্র করতে গিয়ে আমরা যেমন স্টাডি করেছিলাম, সৌমিত্রদাও ওঁর নিজের মতো করে স্টাডি করেছিলেন। খুব সূক্ষাতিসূক্ষ্মভাবে অবজার্ভ করে নোট করেছিলেন। আমি ঠিক যা যা চেয়েছিলাম সেটাই পেয়েছিলাম। যেহেতু অত্যন্ত দক্ষ অভিনয়শিল্পী ছিলেন আর প্রস্তুতি নিয়ে আসতেন তাই ওঁর কারণে কখনও আমাকে রিটেক করতে হয়নি।
অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী মঞ্চাভিনয় আর চলচ্চিত্রাভিনয়ের ক্ষেত্রটি গুলিয়ে ফেললেও সৌমিত্রদা ছিলেন একেবারে সাবলীল। উনি অতি সহজেই মঞ্চ থেকে ক্যামেরার সামনে বা ক্যামেরার সামনে থেকে মঞ্চে গিয়ে দাঁড়াতে পারতেন। টেকনিকটা ওঁর কাছে এতটাই পরিষ্কার ছিল। এই যে অনায়াস আসা-যাওয়া, এটা খুব কম শিল্পীর মধ্যে পাওয়া যায়। যার জন্যই তিনি মহান শিল্পী। আর একটা কথা, এই যে এত বড় বড় পরিচালকের ছবিতে কাজ করেছেন, দেশে-বিদেশে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সমালোচকদের বিস্তর প্রশংসা কুড়িয়েছেন, এত স্বীকৃতি ও সম্মান পেয়েছেন, তা সত্ত্বেও তাঁর পা ছিল মাটিতেই। এই যে বাজার অর্থনীতি, তার গ্ল্যামার, এই যে ভিআইপি, সেলিব্রিটি, স্টার এইসবের ধারেকাছেও থাকতেন না। এসব তাঁকে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করত না। এটা কিন্তু খুব কাল্টিভেটেড। যেহেতু তাঁর মেধা ছিল উচ্চমানের এবং একধরনের স্বপ্ন পুষতেন ভেতরে তাই ওসব তুচ্ছজ্ঞান করতেন। ওসব নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। বিচলিত হতেন না। কখনও কোনও অভিযোগ ছিল না। যে গাড়ির ব্যবস্থা হত তাতেই আসতেন। ইউনিটের সবার সঙ্গে বসে খেতেন। অনাবিল আড্ডা, মজা করে জীবনটা উপভোগ করতেন। জীবনের সমস্ত সংকটের মোকাবিলা করতে পারা, জীবনকে আনন্দ করে দেখা, মানুষের সঙ্গে মেশা আর পরিস্থিতি অনুযায়ী সুইচ অফ-অন করতে জানতেন। আর তা পারতেন বলেই ওঁর মধ্যে কোনও ক্লান্তি, গ্লানি, বিরক্তি ছিল না।
তাঁর সঙ্গে কোনও নিরাপত্তারক্ষী থাকত না, পার্ষদ থাকত না। একা আসতেন, কাজ করতেন, চলে যেতেন। গোড়া থেকেই সেই মানসিকতা, সেই শিক্ষা এবং অনুপ্রেরণা দেওয়ার মতো অসাধারণ মানুষদের পেয়েছিলেন। এসবই তাঁকে নিশ্চয়ই এভাবে তৈরি করেছিল, ঋদ্ধ করেছিল। শিশির ভাদুড়ী, সত্যজিৎ রায়, অসাধারণ সব পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল।
সৌমিত্রদার ঝুড়িতে ছিল অসংখ্য গল্প। ছবি বিশ্বাসের গল্প, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প, জহর রায়ের গল্প, দুর্গাদাসবাবুর গল্প। সেই গল্পের ঝুড়ি উপুড় করে দিলে সে আর শেষ হতে চাইত না। এইসব মানুষদের কাজকর্ম থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার জন্যই তাঁদের কথা বলতেন। আবার জানতে চাইতেন নাসির, প্রাণ, শাবানা কীভাবে কাজ করেন। রবি ঘোষ ছিলেন অসম্ভব কাছের বন্ধু। ওঁদের দু’জনের সঙ্গে বসে আড্ডা মারাটা যে কী আনন্দের ছিল ভাবা যায় না। তাদের কথায়, আলাপচারিতায়, মশকরায় হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাবে। সৌমিত্রদাকে দেখে কখনও মনে হত না কোনও সমস্যা তাঁকে বিচলিত করতে পারে। বলতেন, কিছু সমস্যা হলেই বাড়িতে গিয়ে গীতবিতানটা খুলে বসে পড়ি। মন ভাল হয়ে যায়।
একজন উন্নত মনের মানুষ তিনি। বুদ্ধির জগৎ, চিন্তার জগৎ সবসময় ওঁকে আলোড়িত করত। রাজনৈতিক ভাবনাতেও তিনি দ্বান্দ্বিকতায় বিশ্বাস করতেন। ফলে সেই দ্বান্দ্বিক চেতনা সবসময় ওঁর আলোচনা, ওঁর লেখনী, ওঁর চিন্তাভাবনা ও অধিকাংশ কাজের মধ্যে আমরা দেখতে পেয়েছি। সৃষ্টিশীল জগৎকে আশ্রয় করে স্বপ্ন দেখতেন একটা সুন্দর সমাজের। মানিকদার মতোই মানবিকতায় বিশ্বাসী ছিলেন আজীবন। আশাবাদী ছিলেন, সমাজটা আরও সুশৃঙ্খল আরও বৈষম্যহীন হবে। সেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনাও ছিল। ফলে মানবিকতার দিকটি আঁকড়ে ছিলেন শেষ দিন পর্যন্ত।
সৌমিত্রদার একটা বড়সড় কাব্যের জগৎ ছিল। ‘দেখা’ ছবিতে একজন কবি শশীভূষণের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্রদা। সেই কবি দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেছেন। তাঁর স্মৃতিতে অনেক কিছু রয়ে গেছে। এখন দৃষ্টিহীন হলেও অন্তরের চোখ দিয়ে অনেক কিছু দেখেন। এই চরিত্রটা করতে গিয়ে কী যে আনন্দ পেয়েছিলেন। একটা জায়গায় কবিতা ছিল। সৌমিত্রদা বললেন, এই কবিতাটা আমি লিখে দিই? বললাম, লিখুন না। খুব ভাল হবে তবে। আপনি তো কবি। সেই কবিতাটা লিখলেন। সেই দৃশ্যে শশীভূষণের প্রতিফলন এসে পড়ছে রবীন্দ্রনাথের একটি আত্মপ্রতিকৃতির ওপরে। সংলাপ শেষে  সেই কবিতা পঙক্তি : ‘‘পৃথিবীর সব রং সব আলো হারিয়ে যাবার বেলায় শেষ কবিতা লিখেছিলাম। অসমাপ্ত কবিতা… ‘স্বপ্নের মতো একটি বিন্দু দুলছে অন্ধকারে/স্মৃতিগুলি আজ স্তব্ধ নিথর তাই তো চারিধারে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More