শনিবার, নভেম্বর ১৬

চপ শিল্পের পর প্রোমোটিংই হল বাংলার একমাত্র আইনি শিল্প, বলল ‘গোত্র’! পুলিশ বাধা দেয়নি কিন্তু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক’দিন আগেই নন্দিতা রায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের পরিচালনায় গোত্র ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি কিছু দূর এগোতেই দেখা যাচ্ছে, খরাজ মুখোপাধ্যায় তথা ছবির খল চরিত্র, ‘শকুন বাপি’ বলছেন, বাংলায় চপ শিল্পের পর প্রোমোটিংই একমাত্র আইনি শিল্প! ওমনি হাসির রোল গোটা প্রেক্ষাগৃহে!

পুলিশ কিন্তু বাধা দেয়নি এই ছবির প্রদর্শনে। সমাজে যা ঘটছে তার প্রতিফলন সমসাময়িক চলচ্চিত্রে থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। তাতে মানুষ কখনও মজা পাবে, কখনও দুঃখ পাবে, কখনও বা রাগে কিড়মিড় করবে। সেটাই দস্তুর।
অথচ ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবিটার কথা মনে পড়ে?

৬ মাস আগের ঘটনা। শনিবারের এক সন্ধ্যায় প্রেক্ষাগৃহের সামনে টিকিট কেটে ভিড় করে আছেন দর্শকরা। হলে ঢুকবেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই পুলিশ কোনও অজানা কারণে ছবিটি দেখানো বন্ধ করে দিয়েছিল।

স্পষ্ট করে কারণ তখন জানানো হয়নি। পুলিশ সূত্রে শুধু বলা হয়েছিল, ছবিটি হলে দেখালে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কী ছিল সেই ছবিতে?

সিস্টেম তথা শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে কেউ গেলে যে কোণঠাসা হতে পারে, এমনকী ভূতে বিলীন হতে পারে, সে কথাই ওই ছবিতে বলেছিলেন পরিচালক অনীক দত্ত। ভিলেনের মাথায় অক্সিজেনের অভাব, চড়াম চড়াম, হোক কলরবের মতো এমন অনেক বিষয় ওই ছবিতে উঠে এসেছিল। যাকে সহজে রাজ্যের বর্তমান রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা যাচ্ছিল।

সিনেমা হলে ভবিষ্যতের ভূত প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়ায় পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অভিনেতা ও পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় সহ অনেকেই সমালোচনা করেছিলেন। নোয়াম চমস্কিকে উদ্ধৃত করে সৃজিত বলেছিলেন, “আপনার বিরুদ্ধ মত যদি আপনি শুনতে না চান, তা হলে বোঝা যাবে আপনি বাক স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেন না।” আর পরমব্রত বলেছিলেন, “যদি স্রেফ রাজনৈতিক কারণে ছবিটির প্রদর্শন বন্ধ করা হয়, তা হলে তা জঘন্য। বিরুদ্ধ মতকেও স্বাগত জানাতে হবে। মানুষ সঠিকটা বেছে নেবেন।”

পুরনো কথা থাক। ‘গোত্র’ অবশ্য শুধু চপ বা প্রোমোটিংয়ের কথাই বলেনি। আসলে প্রোমোট করতে চেয়েছে সমাজে সম্প্রীতির ভাবনাকে। শুধু বাংলায় নয়, গোটা দেশ জুড়ে এখন সেটা সব থেকে বড় সমস্যা– ভাত, কাপড়, রুটির পরই যে সমস্যা অনেককেই ভাবাচ্ছে। তা হলে ধর্মীয় হানাহানি, বিভেদ, রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক উদ্দেশে সমাজে বিভাজন তৈরি করার জন্য এক শ্রেণির মানুষের চেষ্টা। তা যে আসলে সমাজের জন্যই বিপজ্জনক তা বোঝাতে চেয়েছে গোত্র। বরং বাংলা তথা গোটা ভারতর্ষের সনাতন ছবিটাই দেখাতে চেয়েছে। বলেছে, ধর্মের উপরে মানুষ সত্য।

Comments are closed.