শনিবার, মার্চ ২৩

শুভ জন্মদিন কুমিরপ্রেমী স্টিভ আরউইন! অভিনব ডুডলে শ্রদ্ধা গুগলের

দ্য ওযাল ব্যুরো: মানুষের তো কত রকমেরই শখ থাকে, ভালবাসা থাকে, প্যাশন থাকে। কিন্তু কুমিরের প্রতি প্যাশন বড় একটা শোনা যায় না। কিন্তু সেই প্যাশনের কারণেই সারা পৃথিবীর কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদ স্টিভ আরউইন এবং কুমির যেন সমার্থক হয়ে গিয়েছিল এক সময়ে। সেই স্টিভের জন্মদিনেই হোমপেজে বিশেষ এক ডুডল তৈরি করে সম্মান জানাল গুগল।

কুমিরের সঙ্গে কাটানো তাঁৎ নানা মুহূর্ত, তাঁর কাজ ও স্মৃতিগুলির কোলাজ করেই এই বিশেষ গুগল ডুডলটি মন কেড়ে নিয়েছে নেটিজেনদের। অস্ট্রেলিয়ার চিড়িয়াখানায় তাঁর জীবনের নানা সময় ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি পশু রাজ্যে তাঁর অবাধ বিচরণ ও প্রেমই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই ডুডলে।

বন্যপ্রাণের প্রতি স্টিভ আরউইনের এই অভিনব ও তীব্র ভালবাসার নেপথ্যে রয়েছেন তাঁর বাবা-মা বব এবং লিন আরউইন। ছেলে স্টিভের ছ’বছরের জন্মদিনে ১১ ফুট লম্বা একটি অজগর উপহার দিয়েছিলেন তাঁরা। তখন থেকেই সেটিকে খুব ভালবাসত ছোট্ট স্টিভ। পরে আরউইন পরিবার অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে চলে যায়। সেখানে তাঁরা একটি সরীসৃপ পার্ক উদ্বোধন করেন, যা বিয়ারওয়াহ রেপটাইল পার্ক নামে পরিচিত।

স্টিভের যখন ন’বছর বয়স, তখন থেকেই কুমিরদের সঙ্গে তাঁর অবাধ সখ্য। কুইন্সল্যান্ডের ইস্ট কোস্ট ক্রোকোডাইল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। পৃথিবীর সব চেয়ে বড় জীবন্ত সরীসৃপ অর্থাৎ নোনাজলের বিপন্ন কুমিরদের ধরা এবং তাদের ঠিক জায়গায় সরাতে সহায়তা করতেন স্টিভ। তিনি পরে তাঁদের পারিবারিক রেপটাইল পার্কটি পরিচালনা করতে শুরু করেছিলেন। পরে সেটিই অস্ট্রেলিয়া চিড়িয়াখানা হয়ে ওঠে।

স্টিভের প্রেমের শুরুও চিড়িয়াখানাতেই। তাঁর স্ত্রী তেরি যখন চিড়িয়াখানা ঘুরতে আসতেন তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় স্টিভের। এমনকী নিজেদের হানিমুনও স্টিভ এবং তেরি কাটিয়েছিলেন কুমির ধরে, কুমিরদের মধ্যেই।

স্টিভ আরউইনের বিখ্যাত টেলিভিশন শো, ‘ক্রোকোডাইল হান্টার’-এর প্রথম পর্বের বিষয়ই ছিল স্টিভ ও তাঁর স্ত্রী তেরির হানিমুনে তোলা কুমিরদের একটি ভিডিও ফুটেজ। স্টিভ আরউইন এবং তেরি আরউইন একসঙ্গেই এই অনুষ্ঠান হোস্ট করতেন। পরে অবশ্য তাঁদের দুই সন্তান রবার্ট এবং বিন্দিও নিয়মিত এই শোয়ের অংশ হয়ে উঠেছিলেন। স্টিভের ক্রোকোডাইল হান্টার শো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। সারা বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মানুষ এই শো দেখতেন।

২০০১ সালে স্টিভ আরউইন শতাব্দী পদক সম্মান পান। ২০০৪ সালে স্টিভ মনোনীত হন অস্ট্রেলিয়ান অফ দ্য ইয়ারের জন্য হন। হলিউড ওয়াক অফ ফেমের মরণোত্তর সম্মানও পেয়েছেন তিনি।

সারা জীবন বন্যপ্রাণ ভালবেসে, শেষমেশ অবশ্য জলের এক প্রাণীর আক্রমণেই মারা যান তিনি। ২০০৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, ৪২ বছর বয়সে স্টিংরে-র হুলের আঘাতে মৃত্যু হয় তাঁর। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে ডুব-সাঁতার দেওযার সময়েই ঘটে এই দুর্ঘটনা।

Shares

Comments are closed.