সোনায় বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ সোনালি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের, পঞ্চাশ হাজার কারণ রয়েছে হলুদ ধাতু কেনার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রে মনমোহন সিংহ জমানায় সোনা আমদানির উপর বিপুল বহিঃশুল্ক চাপিয়েছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়। এমনিতেই ঘরোয়া আলোচনায় উনি বলতেন, সোনা হল ‘ডেড অ্যাসেট’! ভারতীয়রা সোনা কিনে সিন্দুকে ভরে, সেই সোনা নড়েও না চড়েও না! আর বাইরে তথা সংসদে প্রণব বলেছিলেন, সোনা আমদানির বহর এতোটাই যে তাতে সরকারের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় কমে যাচ্ছে!

    কিন্তু প্রণববাবুর সেই পদক্ষেপও উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ভারতীয়দের দমাতে পারেনি। সোনা কেনার হিড়িক বেড়েছে বই কমেনি। আর এখন বিশেষজ্ঞরা বলতে শুরু করছেন, এই মন্দার বাজারে সোনাতে বিনিয়োগই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। অন্তত পঞ্চাশ হাজার যুক্তি রয়েছে তার সপক্ষে!

    কেন সে কথা বলছেন তাঁরা?

    কোভিড ফণা তোলার আগে থেকেই ভারতীয় অর্থনীতিতে মন্দার ছায়া ঘনাতে শুরু করেছিল। বাজারে চাহিদা নেই, উৎপাদনের বৃদ্ধিও ছিল মন্দ। বিশ্ব অর্থনীতির হাল ব্যতিক্রম ছিল না। তার পর এখন কোভিডে আরও কাত হয়ে পড়েছে বিশ্বজনীন অর্থনীতি। ফলে সব রকম বিনিয়োগের উপর ফেরতেরই খুবই কাহিল অবস্থা। তবে এতো নেতির মধ্যেও সোনা কিন্তু উজ্জ্বল। গত ১৮ মাসে সোনায় বিনিয়োগের উপর মোটামুটি ভাবে ৫৩ শতাংশ ফেরত পাওয়া গিয়েছে। এত বড় সুযোগ অবশ্য এখন আর নেই। তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার ভবিষ্যৎ এখনও সোনালি!

    তাঁদের মতে, বাজারের সম্ভাবনার কথা ষোল আনা সঠিক ভাবে অনুমান করা মুশকিল। অন্তত এই বাজারে তো বটেই। কিন্তু সোনার ব্যাপারে একটা আশার ঝিলিক রয়েছে। তার বড় কারণ হল সোনায় বিনিয়োগের উপর ফেরতের গত কয়েক বছরের দৃষ্টান্ত।

    ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত সোনায় বিনিয়োগের উপর ফেরতের হার ১৩ শতাংশ। গত ১৫ বছরের হিসাব নিলে দেখা যাবে ফেরতের হার ১৪.৭ শতাংশ। গত দশ বছরের হিসাবে ফেরতের হার ১০.১ শতাংশ। আর গত পাঁচ বছরে সোনায় বিনিয়োগ করে ১২.৮ শতাংশ ফেরত পাওয়া গিয়েছে। প্রশ্ন হল, আর কোনও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কি এই ধারাবাহিকতা দেখা গিয়েছে?

    হয়তো না। ফলে সামগ্রিক বিনিয়োগের ঝুলিতে একাংশ ‘সোনা’-র জন্য বরাদ্দ রাখা ভুল কাজ হবে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এর সপক্ষে আরও জোরালো যুক্তি রয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে সোনা কেনাবেচা টাকায় হয় না। তা হয় মার্কিন ডলারে। এবং সেই কারণেও সোনার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারে। কারণ ভারতে সোনার উৎপাদন খুবই কম। ২০১৮-১৯ সালে ভারতে মোট সোনা উৎপাদিত হয়েছিল ১৬৬৪ কেজি। বিয়ের মরশুমে ওই পরিমাণ সোনায় দেশের ছোট শহরেরই চাহিদা মেটে না। তাই আমদানিই ভরসা। সেই আমদানি করতে হয় ডলারে। এখন যদি মন্দার কারণে ভবিষ্যতে ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার আরও অবমুল্যায়ণ ঘটে, তা হলে বিনিয়োগের উপরে টাকার অঙ্কে ফেরত তথা লাভের সম্ভাবনা বেশি।

    এ ছাড়াও আরেকটা বড় ছবি রয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার জানিয়েছে চলতি আর্থিক বছরে বিশ্ব অর্থনীতি ৪.৯ শতাংশ হারে সংকুচিত হতে পারে। সেই ধাক্কা সামলাতে ব্রিটেন, জাপানের মতো দেশ ইতিমধ্যে টাকা ছাপানো শুরু করেছে। উন্নত দেশগুলির কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এই পথে হাঁটা শুরু করলেই অর্থনীতির শর্ত মেনে অদূর ভবিষ্যতে সোনার দাম আরও বাড়ার কথা।

    অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, এই মুহূর্তে বিশ্ব অর্থনীতি টলমল ঠিকই। কিন্তু কোভিডের মোকাবিলায় কোনও ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলেই আমেরিকা ও ইউরোপের দেশ গুলিতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। তখন বাজারে চাহিদা থাকবে বেশি, কিন্তু যোগান কমই থাকবে। কারণ, উৎপাদন তখনও পুরোপুরি শুরু হবে না। অর্থাৎ মুদ্রাস্ফীতি অনিবার্য। আর মুদ্রাস্ফীতির পরিবেশে সবথেকে বড় ভরসার বিষয় বরাবরই ছিল সোনা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More