সোমবার, এপ্রিল ২২

রক্তের সম্পর্কেই অবাধ যৌনমিলন,নিস্তার নেই কোল্ট পরিবারের শিশুদেরও

 

রূপাঞ্জন গোস্বামী –  হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের বুরোওয়ার পাহাড়ি উপত্যকায় এলাকায় স্বেচ্ছা-নির্বাসিত কোল্ট ফ্যামিলীর এটাই নারকীয় সিক্রেট।
শহর থেকে দূরে ভাঙ্গাচোরা কাঠ ও প্ল্যাস্টিক শিটের বাঙ্কার সদৃশ আবাসস্থল। নেই শাওয়ার, নেই টয়লেট, নেই কলের জল। কিন্তু সেখানে বাস করে চল্লিশ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ , মহিলা ও শিশু, কিশোর, কিশোরী। এরকম নারকীয় অবস্থায় বসবাস করে আসছে বছরের পর বছর। দূরের হবি ফার্মের গুটিকয় লোকজন কোল্ট পরিবার থেকে মাঝে মাঝে করাত কাঠ কাটার আওয়াজ ছাড়া আর কিছু শুনতে পেতেন না। না হাসির আওয়াজ না বাচ্চাদের খেলাধুলোর শব্দ।
প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষেরা জ্বালানি কাঠ বেচে ও কেউ কেউ কাউন্সিলের শ্রমিক হিসাবে কাজকরে দিন গুজরান করতেন। কখনো কখনো কোল্ট পরিবারের মহিলারা দলবেঁধে পুরোনো ফোর হুইলার চালিয়ে শহরে আসতেন ।তাঁদের নোংরা জামাকাপড় ও সঙ্গের রোগা রোগা অপরিচ্ছন্ন শিশুদের দেখে শহরবাসী অবাক হতেন। কিন্তু কিছু বলতেননা বরং এড়িয়ে চলতেন। বুরোওয়ার মানুষ তাদের নামও জানতো না।কচিৎ কদাচিৎ ওয়েলফেয়ার অফিসাররা কোল্ট পরিবারের বাড়ি বা জঙ্গল ক্যাম্পে যেতেন। জোরকরে শিশুদের কিছুদিনের জন্য স্কুলে পাঠানো হতো।সেখানে তাদের রেমিডিয়াল টিচিং দেওয়া হতো। কিন্তু কদিন পরেই আবার যেই কে সেই। স্কুলে আসতো না শিশুগুলি।

কোল্ট পরিবারের জঙ্গল ক্যাম্প

এসব দেখে, একদিন কিছু না জানিয়ে পুলিশ ও শিশু সুরক্ষা অফিসারের দল হানা দেন কোল্ট পরিবারের বাড়িগুলোতে।আর তখনই প্রকাশিত হয়ে যায় কোল্ট পরিবারের নারকীয় সত্য।কোল্ট পরিবার কয়েকপুরুষ ধরে অজাচারের ফসল। চল্লিশ জনের পরিবারের সূত্রপাতই হয়েছিল আপন ভাইবোনের যৌনমিলনে। তারপর যুগযুগ ধরে চলছে সহোদর সহোদরার যৌনমিলন। বাড়ছে কোল্ট পরিবারের সদস্য সংখ্যা।চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে একে একে। কোল্ট পরিবার এর আগে অস্ট্রেলিয়ার তিনটে স্টেট ঘুরে থিতু হয়েছে নিউ সাউথ ওয়েলসের নির্জন গ্রামীণ এলাকায়। এখন কোল্ট পরিবারের চতুর্থপুরুষও সভ্যতার সকল সুবিধা থেকে নিজেদের বঞ্চিত রেখে বিকৃত পারিবারিক যৌনপ্রথা বাঁচিয়ে রেখেছে।

আরও পড়ুনঃ ওরা হায়না,ওদের কাজ কিশোরীদের জোর করে ভোগ করা

কোল্ট পরিবারের বয়স্কা সদস্যা বেটি কোল্ট, যিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে বিছানায় শুয়েছেন। তাঁর চোখের সামনেই পরিবারের বালক বালিকারা একে অপরের সঙ্গে যৌনসঙ্গমে মেতে ওঠে। বয়স্ক পুরুষ ও মহিলারাও নির্বিচারে সঙ্গম করে বালক, বালিকা, কিশোর কিশোরীদের সাথে। যে কেউ যখন তখন বাড়ী যেকোনো সদস্য বা সদস্যার সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হতে পারে। সবার চোখের সামনে, আড়াল আবডাল না রেখেই। লাগামহীন উদ্দাম অজাচারই কোল্ট পরিবারের একমাত্র এবং বাধ্যতামূলক বিনোদন।রক্তের সম্পর্কের নারী পুরুষের বে-লাগাম যৌনমিলনের ফসল কিছু স্বল্পবুদ্ধি শিশু বালক বালিকা। যারা মানসিক দিক থেকে সমবয়সীদের থেকে পিছিয়ে আছে কয়েক আলোকবর্ষ।মেডিক্যাল টেস্টে ধরা পড়েছে তারা বুদ্ধিগত প্রতিবন্ধকতার শিকার।নিদারুণ ভাবে অবহেলিত, এমনকি তারা জানেওনা কিভাবে শাওয়ার ও টয়লেট পেপার ব্যবহার করতে হয়।সারা গায়ে চর্ম রোগ ও অনান্য রোগ থাবা বসিয়ে দিয়েছে কচি বয়েসেই। দাদার সঙ্গে বোনের,কাকার সঙ্গে ভাইঝির,বাবার সঙ্গে মেয়েদের বিকৃত যৌনতা যে অস্বাভাবিক ও সমাজস্বীকৃত নয় তাও কোল্ট পরিবারের কচিকাঁচার দল জানেনা।

কোল্ট পরিবারের অ্যালবাম থেকে পাওয়া ছবিতে পরিবারের এক শিশু

কোল্ট ফার্মের কোনো বালিকা গর্ভবতী হয়ে গেলে ফার্মের ভেতরই সন্তান ভূমিষ্ঠ অন্যথায় গর্ভপাত করানো হতো। কাকপক্ষীও টের পেতোনা।শোচনীয় ঘটনাটা প্রকাশ্যে আসার পর অবশ্য কোল্ট পরিবারের মহিলারা বলেছেন যে তাঁদের সন্তানদের বাবারা পরিবারের বাইরের লোক। কেউ গম চাষী, কেউ ভবঘুরে,কেউ চালচুলোহীন বেকার। কিন্তু পরে যখন ল্যাবরেটরীতে জিন টেস্ট করা হয়, বিজ্ঞানীরা উন্মোচন করেন জিনগত বংশলতিকা। ধরাপড়ে ‘হোমোজাইগোসিটি’, মোদ্দা কথায় সন্তানগুলি অতিনিকট রক্তের সম্পর্কিত বাবা মার মিলনের ফসল।কোল্ট পরিবারের আটটি শিশুকে পাওয়া গেছে যাদের বাবা মা-রা পরস্পরের আপন ভাই-বোন,মা-ছেলে,বাবা-মেয়ে।এছাড়াও ছটি শিশু পাওয়া গেছে যাদের বাবা মা-রা হয় কাকিমা-ভাইপো, নয় কাকা-ভাইঝি। এছাড়াও তুতো ভাইবোন এমনকি ঠাকুরদা-নাতনীও কোল্ট পরিবারে নির্বিচারে সন্তান জন্ম দিয়ে চলেছে কোন অপরাধবোধ ছাড়াই।

কোল্ট পরিবারের জঙ্গল ক্যাম্পের কিছু ছবি

কোল্ট পরিবার,একটি ইন্টারভিউতে জানান ,রক্তের সম্পর্কে যৌনমিলনের প্রথা শুরু হয়েছিল ১৯৭০ সালে,নিউজিল্যান্ডে।আপন সহোদর সহোদরা টিম ও জুন কোল্টদের দিয়ে শুরু হয় কোল্ট পরিবার।আপন ভাইবোনের যৌনমিলনে জন্ম নেয় চার মেয়ে ও দুই ছেলে। তিন কন্যা রোন্ডা(৪৯),বেটি(৪৮),মার্থা(৩৫) ও এক ভাই চার্লি (৩২) তাঁদের বাবা-মার অজাচারের প্রথা এগিয়ে নিয়ে চলেন নিউ সাউথ ওয়েলসের জঙ্গল ক্যাম্পেও। বেটির তেরোটি সন্তান , এবং বেটি বলেন তাঁর সন্তানদের পিতা ফিল ওয়ালটন, তিনি মৃত ও পরিবারের বাইরের লোক। কিন্তু ডিএনএ টেস্টে প্রমাণ হয়েছে যে বেটির বছর পনেরোর পুত্র ববির পিতা হয় বেটির বাবা টিম, নয় তার ভাই চার্লি। বেটির আরো চারটি সন্তানের পিতা রক্ত সম্পর্কিত নিকটাত্মীয়।বেটির বড় মেয়ে রেলেনের (৩০) তেরো বছরের মেয়ে কিম্বার্লি। রেলেন, পুলিস ও কাউন্সিলরদের জানিয়েছেন যে কিম্বার্লির বাবা সুইডেনের স্বোয়েন।কিন্তু জিন পরীক্ষার ফলাফল জানাচ্ছে যে কিম্বার্লির বাবা হয় রেলেনের জ্যাঠতুতো বা খুড়তুতো ভাই, নয়তো কাকা বা জ্যাঠা বা ঠাকুর্দা। বেটির দ্বিতীয় কন্যা টামির(২৯) তিন কন্যা সন্তান। এর মধ্যে একজন দুর্লভ জিনগত রোগে মারা যায়। টামি স্বীকার করেন এই তিনটি কন্যার পিতাই তাঁর সহোদর ভাই ডেরেক(২৭)।
বেটির ছোটবোন মার্থা কোল্ট(৩৫) পাঁচ সন্তানের মা। পাঁচটি সন্তানের মধ্যে চারটি পিতা হল মার্থার আপন পিতা টিম , ভাই চার্লস এবং একটির পিতা মার্থার আপন ছেলে বা বোনপোর মধ্যে কেউ।

কোল্ট পরিবারের বংশলতিকা

শিশু সুরক্ষা দপ্তর জানাচ্ছেন, এই নারকীয় প্রথা চালিয়ে যাবার পরেও কোল্ট পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কোন অপরাধবোধ, বিবেকদংশন, অনুশোচনার  নেই। পরিবারের সদস্যরা বরং তাঁদের ফ্রি-সেক্স জীবনযাপনে খুশি। তাই ১৯৭০ সাল থেকে স্বেচ্ছায় সভ্যতা ও সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে পরিবারটি কাটিয়ে ফেলেছে প্রায় অর্ধ-শতাব্দী।পরিবারের কয়েকটি শিশু যেমন রুথ, নাদিয়া, অ্যালবার্ট, জেড ও কার্ল জানিয়েছে তাদের নিয়মিত পর্ণগ্রাফিক ম্যাগাজিন দেখানো হত। তাদের যৌনাঙ্গে নির্বিচারে হাত দিতো ও তাদের সঙ্গে যৌনসঙ্গম করতো পরিবারের যেকোনো বয়েসের পুরুষ ও মহিলা। অল্পবয়েসে যৌনঅত্যাচার এই শিশুদের হটাৎ করে বড় ও কিছুটা নৃশংস করে তুলেছে। তাই জেড কার্ল অ্যালবার্ট, ববি বিলি অক্লেশে পোষা বেড়াল কুকুরের যৌনাঙ্গ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে আনন্দ পায়। ভাই বোনেরা শিশু বয়েসে ধর্ষণকেই ভালোবাসা বলে চিনতে শেখে।পরিবারের মধ্যে অবাধ যৌনমিলন এভাবেই কোল্ট পরিবারকে আবাদ করে আসছিল যুগের পর যুগ। কিন্তু বাধ সেধেছে অস্ট্রেলিয়ার শিশু সুরক্ষা দপ্তর। তারা বারটি শিশুকে পিতামাতার থেকে বিচ্ছিন্ন করে পূনর্বাসন দেবার চেষ্টা করছে। শিশুদের বাধ্যতামূলক যৌনতায় মদত ও নরকযন্ত্রণায় বসবাস করতে বাধ্য করার জন্য এবং সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে শিশুগুলিকে কিডন্যাপের চক্রান্তের দায়ে পরিবারের বর্তমান কত্রী বেটি কোল্টের দু’বছর কারাদণ্ড হয়েছে। কিন্তু কোল্ট পরিবারের বাকি মায়েরা উকিল নিয়োগ করেছে শিশুদের জঙ্গল ক্যাম্পে ফেরানোর জন্য।

বর্তমানে বেটি কোল্টের সাজা প্রায় শেষ, পুরো কোল্ট পরিবারটিকেই অস্ট্রেলিয়া থেকে পরিবারের উৎসস্থল নিউজিল্যান্ড ফেরত পাঠানোর চিন্তাভাবনা চলছে কয়েকবছর ধরে। কিন্তু দুই দেশের আইনী প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতায় তা কতটা সম্ভব সেটা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।ততদিনে কোল্ট পরিবারের লাগামহীন যৌনতায় পরিবারের সদস্য সংখ্যা আড়ে-বহরে কতটা বাড়ে সেটাই এখন দেখার।

Shares

Leave A Reply