বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

অশ্লীল গানের সঙ্গে নাচ, নেশার ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ বিহারের হোমে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বছরেই বিহারের মজফফরপুরের অনাথ আশ্রমে যৌন কেলেঙ্কারির হদিশ মিলেছিল। তার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সিবিআইকে। সম্পতি সিবিআই ওই মামলায় ৭৩ পাতার চার্জশিট দিয়েছে। তাতে জানা গিয়েছে, হোমে ভয়াবহ অত্যাচার চালাতেন একশ্রেণির রাজনীতিক ও আমলা। কিশোরীদের অশ্লীল গানের সঙ্গে নাচতে বাধ্য করা হত। মাদক সেবন করানো হত তাদের। তারপর রাজনীতিক ও আমলারা তাদের ধর্ষণ করত।

ওই মামলায় মূল অভিযুক্তের নাম ব্রজেশ ঠাকুর। রাজনীতিক ও প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ ছিল তার। ওই শেল্টার মূলত সে-ই চালাত।

ব্রজেশ ঠাকুর ও হোমের অপর ২০ জন কর্মীকে ওই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে পকসো আইনে। সিবিআই বলেছে, মেয়েদের শরীর দেখানো পোশাক পরতে বাধ্য করা হত। অশ্লীল ভোজপুরী গানের সঙ্গে নাচতে বাধ্য করা হত। তারপরে মাদক খাইয়ে তাদের ধর্ষণ করত ব্রজেশের ‘অতিথিরা’। কোনও মেয়ে আপত্তি করলে মারধর করত। অন্যভাবেও অত্যাচার করা হত। ১০ বছর ধরে হোমে কয়েক ডজন মেয়ের ওপরে এমন অত্যাচার চালানো হয়েছে। টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সের এক সমীক্ষায় একথা প্রথমে জানা যায়। ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা যায়, হোমের আবাসিক ৪২ টি মেয়ের মধ্যে ৩৪ জনের ওপরেই অমন অত্যাচার করা হয়েছে।

ব্রজেশ ঠাকুর জানিয়েছে, বিহারে শাসক জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বলেছেন, ব্রজেশ খুবই প্রভাবশালী লোক ছিল। তাকে বিহারের বাইরে কোনও জেলে রাখা হোক। না হলে সে তদন্ত প্রভাবিত করতে পারে।

মুজফফরপুরে হোমে কেলেঙ্কারি ধরা পড়ার পরে নীতীশ কুমারের দলের তীব্র সমালোচনা করে রাষ্ট্রীয় জনতা দল। তাদের অভিযোগ, সরকারের মদতেই ব্রজেশ দিনের পর দিন অপরাধ করতে পেরেছে। তদন্তে জানা যায়, বিহারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মঞ্জু বর্মার স্বামী চন্দ্রশেখর বর্মা মাঝে মাঝে ওই হোমে যেতেন। ব্রজেশের সঙ্গেও একাধিকবার কথা বলেছেন। একথা জানাজানি হওয়ার পরে মঞ্জু বর্মা ইস্তফা দেন।

ওই কেলেঙ্কারির কথা প্রকাশিত হওয়ার পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ জানান, পকসো আইনের বিভিন্ন ধারা কঠোর করা হচ্ছে। কোনও শিশুর ওপরে অত্যাচারে মদত দিয়েছে প্রমাণিত হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। কোনও শিশু যাতে যৌন নিপীড়নের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ।

Shares

Comments are closed.