Latest News

নেতাজির ভূমিকায় শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, মুক্তি পাচ্ছে সায়ন্তন ঘোষালের নতুন থ্রিলার

নেতাজির জন্মদিনের ঠিক আগেই ২১ জানুয়ারি মুক্তি পাবে পরিচালক সায়ন্তন ঘোষালের ছবি ‘স্বস্তিক সংকেত’। এসকে মুভিজ প্রযোজিত এই ছবিতে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের ভূমিকায় দেখা যাবে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে। ইতিমধ্যেই যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে তাঁর ‘নেতাজি’ লুকস। ছবি মুক্তির আগে এসকে মুভিজের অফিসে একেবারে খোশমেজাজে পাওয়া গেল শাশ্বতকে। স্বভাবসিদ্ধ রসবোধের সঙ্গে আড্ডা দিলেন চৈতালি দত্তর সঙ্গে। আলাপচারিতায় উঠে এল ছবি ছাড়াও আরও নানান অজানা গল্প।কেমন আছেন?
শাশ্বত: (হেসে) ভালো।
২০২২ অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের বছর, এমনটাই শোনা যাচ্ছে। কোনও ডেটই না কি খালি নেই!
শাশ্বত: সেটা তো আমাদের পেশাতে হয়েই থাকে। যখন কাজ থাকে তখন দম ফেলার ফুরসৎ মেলে না।আবার যখন হাতে কোনও কাজ থাকে না, তখন তো ঘরে বসা। গত দু’বছর তো আমাদের প্রত্যেককে কোভিডের কারণে কষ্ট করতে হয়েছে। কোনও কাজই ছিল না। সেটা একটা ভয়ঙ্কর সময়। এখন কাজের মধ্যে আছি, বেশ ভালো লাগছে।গত বছর আপনি এক সাক্ষাৎকারে আমাকে বলেছিলেন হাতে কোনও কাজ নেই, বউয়ের পয়সায় খাচ্ছি, সেই দুঃখ কেটেছে তবে?
শাশ্বত: (খুব হেসে) হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন। এখন সেই দুঃখটা আর নেই।
গত বছর মানস বসুর ‘ছবিয়াল’ তো প্রচুর নামিদামি ফেস্টিভ্যালে গেছে, উচ্চ প্রশংসিতও হয়েছে…
শাশ্বত: হ্যাঁ। গল্পের বিষয়টা ছিল একটু অন্যরকম। লন্ডন, ইতালি, নাইজেরিয়া ছাড়াও ভারতের বেশ কয়েকটি নামি ফিল্ম ফেস্টে গেছে ‘ছবিয়াল’। আগামী দিনে আরও কয়েকটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যাওয়ার কথা।
পরিচালক সায়ন্তন ঘোষালের ‘স্বস্তিক সংকেত’ ছবিতে নেতাজি হয়ে ওঠার প্রস্তুতি কেমন ছিল?
শাশ্বত: আমরা বাঙালিরা ছেলেবেলা থেকেই নেতাজির সঙ্গে পরিচিত। আমি ছোট থেকেই নেতাজির অনেক ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ছবি দেখে বড় হয়েছি। বহু বছর আগে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ওপর ছবি হয়েছিল, সেটি টেলিভিশনে দেখেছি। এছাড়াও এই ছবির জন্য আমার প্রধান গাইডলাইন ছিল নেতাজি কীভাবে কার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন, সেই সঙ্গে ওঁর চলাফেরা, অভিব্যক্তি, মুখের এক্সপ্রেশন। কীভাবে উনি দাঁড়ান, কীভাবে কথা বলেন- সেটার জন্য প্রস্তুতি হিসেবে নেতাজির অরিজিনাল ভিডিও ফুটেজ আমি দেখেছিলাম। কীভাবে উনি বক্তৃতা দিচ্ছেন, পেছনে হাত রেখে কীভাবে হাঁটছেন, সেইসব দেখে একটু সেরকম কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেছি।আপনার এই প্রস্তুতি কত দিনের ছিল?
শাশ্বত: সেটা তো একবার দেখেছি, তাতেই আমার হয়ে গেছে। বলতে দ্বিধা নেই, আজ পর্যন্ত প্রথম দিনের শ্যুটিং আমার খুব কঠিন লাগে। একবার সেটা করলে তারপর ঠিক হয়ে যায়।
ছবিতে নেতাজিকে কীভাবে দেখা যাবে?
শাশ্বত: নেতাজির চরিত্র ছবিতে খুব ছোট হলেও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ছবিটি থ্রিলারধর্মী, তাই এর থেকে বেশি বলা সম্ভব নয়। তবে এইটুকু বলতে পারি যে নেতাজির বাড়িতে ওঁর স্ত্রীর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া, অ্যাডলফ হিটলার ও নেতাজির সাক্ষাৎ, জার্মানি থেকে নেতাজি যে সাবমেরিনে করে জাপানে গিয়েছিলেন ওই বিষয়গুলো অবশ্যই আছে। ট্রেলার লঞ্চ হতেই আপনার লুক নিয়ে তো সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমত প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা…
শাশ্বত: সেটার কৃতিত্ব অবশ্যই আমি দেব মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুন্ডুকে। সেই সঙ্গে পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল, প্রযোজক অশোক ধানুকা ও হিমাংশু ধানুকাকে। কারণ আমি নিজে তো কোনওদিন ভাবিনি যে নেতাজি চরিত্রে অভিনয় করব।
এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আপনাকে কি কোনও প্রস্থেটিক মেকআপের সাহায্য নিতে হয়েছে?
শাশ্বত: অবশ্যই। যেমন মাথার পেছনে টাক তৈরি করতে হয়েছে, নাক অনেকটা বোল্ড করতে হয়েছে।মেকআপ করতে কতটা সময় লাগত?
শাশ্বত: তিন, সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগত। আবার তুলতেও প্রচুর সময় লাগত। খুবই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এর জন্য প্রচন্ড ধৈর্য দরকার।
ছবির কস্টিউম কে করেছেন?
শাশ্বত: সাবর্ণী দাস।
নেতাজির পোশাক পরার পর একজন অভিনেতা, সর্বোপরি ভারতীয় হিসাবে কেমন অনুভূতি হত?
শাশ্বত: শট দেবার আগে যে কোনও অভিনেতার সেই চরিত্র সম্পর্কে একটা ধারণা হয়ে যায়। ফলে কস্টিউম পরার পর তখন কিন্তু একটা অন্যরকম ফিলিং হয় এই ভেবে যে আমাকে এরকম একটা চরিত্র হতে হবে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, উনি দেশনায়ক, সেই চরিত্রে অভিনয় করার সময় একটা টেনশন কাজ করেছিল। আবার বেশি টেনশন থাকলে সব সময় কাজটা ভালো হয় না। কাজেই পোশাক পরার পর নিজেকে নেতাজিই মনে করতাম (স্বভাবসিদ্ধ রসিকতার ভঙ্গিতে)।

 

এই ছবির শ্যুটিং তো লন্ডনে হয়েছে!
শাশ্বত: হ্যাঁ। ২০২০ সেপ্টেম্বরে প্রথম লকডাউন ওঠার পর লন্ডনে এই প্রযোজনা সংস্থার ‘অনুসন্ধান’ ছবির শ্যুটিং করতে গেছিলাম। ওখানে গিয়েই নেতাজি চরিত্রের প্রস্তাব পাই। ছবিতে আমার অংশের শ্যুটিং লন্ডনের একটু বাইরে হয়েছে। তিন চারদিনের কাজ ছিল।
এই নিয়ে এসকে মুভিজ প্রযোজনা সংস্থার দুটি ছবিতে অভিনয় করলেন, কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
শাশ্বত: মানুষ বিদেশে শ্যুটিং করতে ভয় পায়। আর এস কে মুভিজ লন্ডন ছাড়া শ্যুটিং করে না। ওঁদের ওখানে খুব সুন্দর সেটআপ করা। ফলে ওখানে শ্যুটিং করা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের। প্রযোজক হিমাংশু পরিকল্পনা করেছিল ওখানে যে হোটেলে আমরা ছিলাম সেটাকে কিনে নেবেন। সে ক্ষেত্রে খরচ আরও কমে যাবে। এখনও অবধি বোধহয় সেটা কেনা হয়ে ওঠেনি (হেসে)। দু’বছর আগে প্রথম লকডাউন ওঠার পর এসকে মুভিজ, ভারতের প্রথম প্রোডাকশন হাউজ, যারা লন্ডনে শ্যুটিং করে। কোভিডের অতিমারির কারণে যখন বাড়িতে দীর্ঘসময় বসে ছিলাম, হাতে কোনও কাজ ছিল না, সে যে কী যন্ত্রণা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। কিন্তু যেদিন শ্যুটিং-এর জন্য লন্ডনের ফ্লাইটে চড়লাম, মনে হল যেন খাঁচা থেকে বাইরে বেরিয়ে এলাম। লন্ডনের মতো শহরে অত সুন্দর সব জায়গায় নির্দ্বিধায় ঘুরে বেরিয়েছি। ভীষণ সুন্দর অভিজ্ঞতা। এসকে মুভিজের ব্যবস্থাপনার তুলনা হয় না।

 

ছবির গল্পটা যদি একটু সংক্ষেপে বলা যায়-
শাশ্বত: দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের ‘নরক সংকেত’ উপন্যাস অবলম্বনে এই ছবির কাহিনি। স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে গল্পের একটা লিংক আছে। এছাড়াও নব্য-নাৎসি আন্দোলন, ইউরোপে অভিবাসী সমস্যা, এক ধরনের নোভেল ভাইরাস ও তার অ্যান্টিডোটের ফর্মুলা আবিষ্কার ইত্যাদির নানা উপাদান ছবিতে রয়েছে। যেহেতু ছবিটি থ্রিলার, তাই এর থেকে বেশি গল্প বলা যাবেনা । ছবি দেখার মজাটা নষ্ট হয়ে যাবে।
তথাকথিত মেনস্ট্রিম ছবির নায়ক না হয়েও একজন বলিষ্ঠ নায়ক হয়ে ওঠার পেছনের রহস্যটা কি?
শাশ্বত: (একটু হেসে) রহস্য কিছু নয়। আসলে আমি একটু অন্যভাবে ছবিতে চরিত্র পাই। সেভাবে ভাবলে, এক দিক থেকে আমার ভাগ্য হয়তো ভালো।আপনার কেরিয়ার গ্রাফে দেখি একটা চরিত্র থেকে আরেকটা চরিত্রের সাবলীল উত্তরণ, সচেতনভাবে চরিত্র নির্বাচন কি একটা মুখ্য কারণ?
শাশ্বত: দেখুন, একটা লক্ষ্য তো থাকেই নতুন কিছু করার। আমার সব সময়ই ইচ্ছে ছিল যে বিভিন্ন চরিত্র হয়ে আমি উঠব। তাই ছবির প্রথমে আমি গল্প দেখি এবং গল্পে চরিত্রটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা দেখে ইন্টারেস্টিং মনে হলে তবেই আমি সেই চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হই। আমার মনে হয় একজন শিল্পীর সেটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।
কিছুদিন আগেই নাগ অশ্বিনের তেলুগু ছবিতে দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে শ্যুটিং করলেন, কেমন সেই অভিজ্ঞতা?
শাশ্বত: খুব মজার। হায়দ্রাবাদে শ্যুটিং করেছি। প্রথম শেডিউলের শ্যুটিং হয়েছে। এটি তেলুগু, হিন্দি ডাবল ভার্সন ছবি। সবেমাত্র শুটিং করে ফিরেছি। যেরকম ডেট পাওয়া যাবে সেভাবে আগামী দিনে আবার শ্যুটিং হবে। একটা শট হিন্দিতে, একটা শট তেলেগুতে শ্যুটিং হয়েছে। তেলুগু ছবি, তাই না বুঝেই ডায়লগ বলেছি। সেজন্য হিন্দিটা আগে করে নিলে সুবিধা হচ্ছে যে, সিনটা কী আছে সেটা বুঝতে পারছি। সেই অনুযায়ী তেলুগু ডায়লগ যেভাবে পরিচালক বলছেন সেটা শুনে নিয়ে নিজের মতো করে বলছি। দীপিকার সঙ্গে কাজ করে ভালো লেগেছে। আগামী দিনে ছবির শ্যুটিং নানা জায়গায় হবে।

 

টলিউড, বলিউড, এবার দক্ষিণ ভারত- এই ত্রয়ীর ব্যালেন্স কীভাবে করছেন?
শাশ্বত: দক্ষিণ ভারত মানে তাকে তো আবার টলিউড বলা হয়। খুবই ব্যস্ত বলতে পারেন। ব্যালেন্স করতে হচ্ছে (মুচকি হেসে)।
তবে কি আগামী দিনে বাংলা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে?
শাশ্বত: না, বাংলা ছেড়ে কোথাও যাব না। কাজ করব, চলে আসব। পার্মানেন্টলি অন্য কোথাও গিয়ে থাকা সম্ভব নয়। জোছন দস্তিদারের ‘চার্বাক’ দিয়ে আপনার অভিনয় যাত্রা শুরু। যেখানে ঘর মোছা থেকে অনেক কিছুই করতে হয়েছে। আজ এত সাফল্যের পর পিছন ফিরে তাকালে সেই দিনগুলো কেমন লাগে?
শাশ্বত: হ্যাঁ, ‘চার্বাক’ দিয়ে আমার অভিনয় যাত্রা শুরু। আর ঘর মোছা ব্যাপারটা ডিসিপ্লিনের মধ্যে পড়ে, যা থিয়েটারে শেখানো হয়। আমি প্রথম জোছন দস্তিদারের কাছে গেলে আমায় দেখে বলেছিলেন, ওই শুভেন্দুর ব্যাটা কী করবি? আমি বলেছিলাম আপনার কাছে অ্যাক্টিং প্রফেশন করব, কাজ শিখতে চাই। ওঁর প্রথম প্রশ্ন ছিল ‘ঘর মুছতে পারিস?’ আমি বলেছিলাম, ‘না মোছার কী আছে?’ তখন উনি বললেন, ‘বালতি, জল রাখা আছে, প্রতিদিন রিহার্সাল রুম মুছবি’। আমাদের মধ্যে যে আগে পৌঁছতাম তাকেই রিহার্সাল রুম মুছতে হত। এটা একটা ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ বলা যায়। ঘর মোছা ছাড়াও মাল ঠেলে নিয়ে গেছি, ট্রাঙ্ক বয়েছি, সেট তৈরি করেছি। আমাকে জোছন দস্তিদার সেই সুযোগ দিয়েছিলেন। ওঁর সোনেক্স নামে যে সিরিয়াল প্রযোজনা হত সেখানে আমি অ্যাসিস্ট করতাম। অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেকশন থেকে শুরু করে ক্যামেরা অপারেট করেছি, ট্রলি ঠেলেছি, বুম ধরেছি। অনেক কাজ শিখে তবেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি। এতে আমার সুবিধা হয়েছে। কেউ আমাকে বলতে পারবে না যে, ওটা করা সম্ভব নয়। আমি সেটা নিজে করে দেখিয়ে দিতে পারব। যখন ‘এক আকাশের নীচে’ ধারাবাহিকে আমি অভিনয় করি, যিনি প্রধান ক্যামেরাম্যান ছিলেন তিনি অন্য কাজে একটু ব্যস্ত হওয়াতে সেই জায়গায় অন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওঁকে যেটাই বলতাম উনি বলতেন, ‘খুব ডিফিকাল্ট’। তখন সেটা আমি করে দিতাম।আপনি তো কয়েক মাস ‘এক আকাশের নীচে’ পরিচালনা করেছিলেন। এছাড়া কয়েকটি টেলিফিল্মও পরিচালনা করেছেন। আবার কবে পরিচালকের আসনে দেখা যাবে আপনাকে?
শাশ্বত: হ্যাঁ,  ‘এক আকাশের নীচে’ ধারাবাহিক সাড়ে পাঁচ বছর চলেছিল। শেষের ন’মাস আমি পরিচালনা করি। দুটো টেলিফিল্ম পরিচালনা করেছি। এখন ছবি পরিচালনা করতে গেলে ছ’ মাস সময় দিতে হবে। আগে প্রি প্রোডাকশন করতে হবে। সেই সময় এখন সত্যিই আমার নেই।

 

ভালো অফার এলে কি পরিচালনা করবেন?
শাশ্বত: নিশ্চয়ই করব। কিন্তু সে জন্য গল্পটা খুব ইন্টারেস্টিং হতে হবে। আমার তো ভীষণ কমেডি পছন্দ। কিন্তু আজকাল তো কমেডি সেভাবে কেউ লিখছেনই না। এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে অভিনয়ের জন্যই আমি ঠিক মতো সময় দিতে পারছি না। ফলে ছবি পরিচালনা আরও মুশকিল। এই বছর আমার ডেট প্রায় সবই ফুল আছে। তবে প্যানডামিকে যা অবস্থা, দেখা যাক পরিস্থিতি কী হয়!

আপনি তো বহু বছর আগে নিজের লেখা গল্প নিয়ে টেলিফিল্ম পরিচালনা করেছিলেন, ছবির জন্য সেরকম তো আবারও লিখতে পারেন-
শাশ্বত: হ্যাঁ ,আবার আমি গল্প নিশ্চয়ই লিখতে পারি। কিন্তু সময়টা কোথায়? খুব ব্যস্ত শেডিউল থাকে।
অনিল কাপুরের সঙ্গে কাজ কি শুরু হয়ে গেছে?
শাশ্বত: না, এখনও শুরু হয়নি। তবে শুরু হবে। এটা একটা সিরিজ হবে। পরিচালক সন্দীপ মোদি। ‘দ্য নাইট ম্যানেজার’ বলে ইংরেজিতে একটা সিরিজ হয়েছে, সেটারই হিন্দি হবে। তবে নাম এখনও ঠিক হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে এই সিরিজের শ্যুটিং হবে।

 

‘ধাকড়’ ছবিতে কঙ্গনা রানাওয়াতের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
শাশ্বত: খুবই ভালো। ভীষণ পেশাদার। খুব এনজয় করে আমরা শ্যুটিং করেছি। আমরা সবাই মিলে সিনেমা দেখতে আর রেস্তরাঁয় খেতেও গিয়েছি। বেশ মজা হয়েছে।

 

এত সাফল্যের পর বাবা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়কে কতটা মিস করেন? কখনও মনে হয়, যে উনি বেঁচে থাকলে আপনাকে আরও ভালো গাইডেন্স দিতেন?
শাশ্বত: দেখুন বাবা হিসেবে তাঁকে সব সময় মিস করব এটাই তো স্বাভাবিক। তবে উনি কিন্তু আমার কাজের ব্যাপারে কোনওদিন ইন্টারফেয়ার করেননি। ওঁর সঙ্গে ‘বৈশাখী ঝড়’ বলে বিশ্বরূপা থিয়েটারে ওঁর পরিচালনায় নাটক করেছিলাম। উনি কোনও টিপস দিতেন না। আমি যে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেব সেটাই তো উনি জানতেন না। সবকিছুই কিন্তু ধীরে ধীরে হয়েছে। বাবা ২০০৭-এ চলে গেছেন। তার আগে ওঁর সঙ্গেও আমি অভিনয় করেছি এক দুটো ছবিতে। আমার কিছুটা দেখে গেছেন। বাকিটা কিছুই দেখে যেতে উনি পারেননি ।সেটা তো ছেলে হিসেবে অবশ্যই দুঃখের।

You might also like