Latest News

Photography: ফোটোগ্রাফিতে ভিন্টেজ লুক, তথাগতর ‘সই’ পুরনো দিনের গল্প বলবে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জনপ্রিয় চিত্রগ্রাহক তথাগত ঘোষের সোলো ফটোগ্রাফি (Photography) প্রদর্শনী এবারে সপ্তম বর্ষে পা রাখতে চলেছে।

জনপ্রিয় চিত্রগ্রাহক তথাগত বেশ কয়েক বছর ধরে সোলো ফটোগ্রাফি একজিবিশন করছেন। এ বছরে সপ্তম বর্ষে পা রাখতে চলেছে এই প্রদর্শনী। বিড়লা অ্যাকাডেমিতে ১৮ মে-২২ মে পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে। এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত। প্রদর্শনীর আগেই পুতুলবাড়িতে হয়ে গেল শ্যুটিং পর্ব। এই এক্সক্লুসিভ শ্যুটিং-এ দ্য ওয়াল উপস্থিত ছিল। ফটোশ্যুটের ফাঁকে প্রদর্শনী সম্পর্কে নানা কথা জানালেন তথাগত ঘোষ। শুনলেন চৈতালি দত্ত।

এই ধরনের ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী আগেও আপনি করেছেন এবারে ক’ বছরে পা রাখল ?

তথাগত : এই প্রদর্শনী এবারে সাত বছরে পা রাখতে চলেছে। আমি ২০১৩ থেকে সোলো ফটোগ্রাফি একজিবিশন করে আসছি। সেই সময় আমি বেঙ্গালুরুতে থাকতাম । প্রথম সেমিস্টারে এসে এখানে শ্যুটিং করতাম। পরে এসে তার ওপর এগজিবিশন হত। এখনও আমি তা করে চলেছি । কোভিড অতিমারীর কারণে অর্থাৎ ২০২০-২০২১ সালে আমি একজিবিশন করতে পারিনি।

আপনার এই ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীর একটা স্টোরি লাইন থাকে। এ বছরে কী ধরনের চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করছেন ?

তথাগত : আগে আমার ফটোগ্রাফির পাঁচ-ছ’টা ভিন্ন সেকশন থাকত। সেটাকে কভার করে তবে একজিবিশন করতাম। অর্থাৎ দশটা ছবি হাই-ফ্যাশন, আবার দশটা ছবিতে অন্য কিছু থাকত। সেটাকে অ্যাসেম্বেল করে বিভিন্ন সেকশনে ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী হত। কিন্তু ২০১৯ সালে একটা ফটো স্টোরি করেছিলাম। প্রদর্শনীতে যদি ৫০ টা ফটো থাকে তবে ঘুরে দেখলে বোঝা যাবে যে একটা ধারাবাহিকভাবে গল্প রয়েছে। আমি কনসেপ্টটা এই ভেবে এনেছিলাম। যা বিপুল সাড়া ফেলে। সিনেমায় যেভাবে ছবি দেখি সেখানে সবই স্টিল ছবি ,হাই স্পিডে যাচ্ছে বলে একটা মোশন আছে। কনসেপ্টটা এখানে একটু অন্যভাবেই আনার চেষ্টা করেছি। ছবিগুলো একটা দিনের অথবা একটা সময়ের বা একটা মুহূর্তের কোনও ঘটনার গল্প তৈরি হচ্ছে ।

২০১৯-এ আমাদের থিম ছিল ‘আ ওয়েটিং’। ওটা আমার প্রথম ফটোস্টোরি ছিল যা অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে নিয়ে আমি করেছিলাম। এ বছরে ওই জিনিসই আরেকটু ডেভেলপ এবং ইম্প্রোভাইজ করে কাজটা করছি।

এবারের স্টোরিলাইন কী?

তথাগত: এবারের স্টোরিলাইন ‘সই’। গল্পটা একটু পিরিওড। ধরা যাক ১৭ কিংবা ১৮ শতকের। যখন একটি মেয়ের বাড়িকে ঘিরেছিল গোটা দুনিয়া। ওই সময় বহির্জগতের সঙ্গে মহিলাদের কোনও সম্পর্ক ছিল না। এমনকি মহিলাদের বাড়ির বাইরে যাওয়া ছিল নিষিদ্ধ । ঠিক সেইসময় একটি বাড়িতে একটি মেয়ের সই ছিল । যার সঙ্গে তার ছিল অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। এই দুই সহচরীর বন্ধুত্ব থেকেও তাদের সম্পর্কের গভীরতা ছিল আরও গাঢ়। নিজেদের সুখ-দুঃখ আনন্দ তারা একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিত । তারা নিজেদের মতো করে আনন্দ ফূর্তি করা , গান করা, খেলাধুলা করা , গয়নার আদান প্রদান করা, একে অপরকে সাজিয়ে তোলা এভাবেই ওরা নিজেদের মতো করে একটা জগত তৈরি করত। যেহেতু আমার একজিবিশন একটু প্যান ইন্ডিয়া তাই পুরোপুরি সই-এর কনসেপ্ট রাখছি না। তার সঙ্গে একটা মুহূর্তের গল্প রয়েছে।

প্রদর্শনী কোথায় হবে?

তথাগত: এটি বিড়লা অ্যাকাডেমিতে হবে। উদ্বোধন করবেন অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত। ১৮মে-২২ মে দুপুর ৩টে- রাত ৮ টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে। শনি,রবি খোলা থাকবে।

কী কী জিনিস মাথায় রেখে এই ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী করছেন?

তথাগত: এমন টেক্সচার ভেবেছি যা ক্যানভাসে দেখতে ভাল লাগে। আমাদের প্রদর্শনীর ছবিগুলো ক্যানভাসে প্রিন্ট হয়। যেহেতু কাপড়ের একটা নিজস্ব টেক্সচার থাকে তাই ভাবতে হয় কিসে ভাল লাগবে। তার মধ্যে যখন রঙ পড়বে তখন কী রকম দেখাবে। সেটা ভেবে প্রস্তুতি চলে। তার জন্য আমাদের প্রদর্শনী খুবই এক্সক্লুসিভ থাকে, যা গ্যালারিতে এসে দেখতে হয়।

এবারের মডেল হিসেবে অভিনেত্রী অনুশা এবং মডেল সৌম্যশ্রীকে নির্বাচন করলেন কেন?

তথাগত : আসলে প্রদর্শনী খুবই পার্সোনাল একটা ব্যাপার। এটা কোনও ব্র্যান্ডের জন্য আমি করি না। দীর্ঘ বছর ধরে কমার্শিয়াল ছবি কাজ করতে গিয়ে একটা প্যাশন কাজ করে। সেইসঙ্গে মনের মধ্যে একটা খিদে জন্মায়। আর এই ধরনের কাজ করলে এটা সারা জীবনের জন্য থেকে যাবে। সেই আনন্দেই করি। আমার এই শ্যুটের মডেলদের মেকআপ করেছেন মেকআপ আর্টিস্ট নুর আলম (বাবাই)। এই বিষয়টা নিয়ে অনুশা, সৌম্যশ্রীর সঙ্গে গল্প, আড্ডার ছলে আলোচনা করেছিলাম।

কাজ করতে গিয়ে বারে বারে মনে হচ্ছে যে ওদের জন্যই যেন গল্পটা ভাবা। আমি কিন্তু গল্প ভেবে কাস্টিং করিনি।গল্পটাকে সেভাবেই ভাবা হয়েছে যাতে অনুশা, সৌম্যশ্রী বডি ল্যাঙ্গুয়েজ যতটা ন্যাচারাল রাখা যায়।

ফটোশ্যুটের মডেলদের পোশাক কী ধরনের রেখেছেন?

তথাগত : পিরিওডের ওপর কাজ করছি। যখন মহিলাদের শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ পরার প্রচলন শুরু হয়নি সেই সময়ের গল্প । এখন যেমন সিল্কের শাড়ি বা বেনারসিতে জরি ব্যবহার হয়, কিন্তু সেই সময় সোনা, রুপোর ব্যবহারের প্রচলন ছিল। রাজ পরিবারের মহিলাদের শাড়িতে সোনা অথবা রুপোর ব্যবহার হত। আবার প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য শাড়িতে রেশম ব্যবহারের প্রচলন ছিল। আমার মডেলদের প্রায় ওরকম দেখতে রেশমের মোটিভ দেওয়া রেশমের শাড়ি পরানো হয়েছে ।

এছাড়া কী ধরনের গয়নায় মডেলদের দেখা যাবে ?

তথাগত : অনর্ঘ চৌধুরীর সোনার ও রুপোর গয়না মডেলরা পরেছেন। অনর্ঘদা গয়না নিয়ে প্রচুর প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন । তাই সেই সময়ে কি ধরনের গয়নার ব্যবহার হত সেইসব ডিজাইন সোনার ও রুপোর ওপর ফুটিয়ে তুলেছেন।আগেকার দিনে গয়নার মধ্যে মানুষের মুড প্রতিফলিত হত। বাড়িতে মহিলারা তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী গয়না পরতেন। ওই সময় বাড়ির মহিলাদের মধ্যে ভাল-মন্দ মুডের ওপর সাযুজ্য রেখে গয়না পরার চলন ছিল। আমার এই ফটোগ্রাফিক এগজিবিশনে সেই কনসেপ্ট রেখেছি । গয়না কিন্তু এই ধরনের এক্সিবিশনে প্রচন্ড একটা রোল প্লে করে।

মোট কটা ছবি গ্যালারিতে থাকবে ?
তথাগত:
৪০-৫০ টা ছবি থাকবে।

ছবিগুলো কি কালারে থাকছে?
তথাগত :
একটু কনট্রাস্টে থাকছে। মেকআপে একটা অদ্ভুত টেকনিক ব্যবহার করেছেন মেকআপ আর্টিস্ট নূর আলম। মেকআপটা করার পর পুরো মেকআপ মুছে ফেলেছেন। মুছে ফেলার পর যেটুকু মেকআপ মুখে লেগে থাকবে সেইটুকুই থাকছে। যেহেতু আমার এই প্রদর্শনী সমবেতভাবে করে থাকি ফলে এটা সম্পূর্ণ একটা টিম ওয়ার্ক। তাই প্রতিটা ক্ষেত্রেই ডিটেলিং রয়েছে ।

যখন কোনও ফটোগ্রাফার তাঁর ফটোগ্রাফি এগজিবিশন করেন সেক্ষেত্রে একটা কালারের ওপর জোর দেন। আপনি কী ধরনের কালার নিয়ে খেলা করেছেন?

তথাগত : আমি প্রধানত চারটে প্রাইমারি কালারের ওপর জোর দিয়েছি। যেহেতু এটা ভিন্টেজ অর্থাৎ পুরনো দিনের গল্প তাই রেড, ব্লু, গ্রিন, ইয়োলো প্রাইমারি কালারের ওপর পুরো গল্পটা থাকবে।

এবার অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে মডেল হিসেবে নির্বাচিত না করার পেছনে কী কারণ রয়েছে?

তথাগত: আমি ,অনুশা ,সৌম্যশ্রী তিনজনে মিলে গল্পটা তৈরি করেছি । গল্প তৈরি করে কাকে নেব সেটা ভাবিনি ।আমরা তিনজনে মিলে যখন গল্পটা বসে তৈরি করছি এক্ষেত্রে অনুশার মা এবং দিদা ইনপুট দিয়েছেন। যদি আমরা গল্পটা আগে তৈরি করতাম তারপর চিন্তা করতাম কাকে নিলে ঠিক হবে সেখানে নির্বাচনের ব্যাপার থাকে। এখানে সেই অপশনটা ছিল না।

প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে আপনার ব্রেকআপের জেরেই কী উনি ফটোগ্রাফি এক্সিবিশন থেকে বাদ পড়লেন ?

তথাগত : একদমই না। প্রিয়াঙ্কা আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল । বন্ধুত্বের মধ্যেও তো অনেক সময় ঝগড়াঝাঁটি মনোমালিন্য হয়। ওরকমই একটা হয়েছে। তার জন্য আমাদের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু আমি খুবই আশাবাদী সেটা খুব শিগগির মিটে যাবে। আমরা একে অপরকে নিজেদের জায়গায় দাঁড়িয়ে অসম্ভব শ্রদ্ধা করি। এরই মধ্যে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে বিজ্ঞাপন এবং আনুষাঙ্গিক কিছু কাজ হত। কিন্তু প্রিয়াঙ্কার মাঝে একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়। তাই কাজটা আর হল না। প্রিয়াঙ্কা তখনও আমার বন্ধু ছিল এখনও আছে ।

You might also like