Latest News

আভিজাত্যে সোনাকে টক্কর দেবে মেহগনি কাঠের এই গয়না

মেহগনি কাঠের অভিজাত আসবাবের প্রতি আকর্ষণ তো চিরন্তন, কিন্তু গয়না? তাও আবার মেহগনি কাঠের! সূক্ষ্ম উড কার্ভিংয়ের কারুকাজ করা? ডিজাইনার ইরানি মিত্রর এই এক্সক্লুসিভ গয়নার সন্ধান দিচ্ছেন সোমা লাহিড়ীমেহগনি কাঠের পলিশ করা আসবাব এখন সোনার মতো দামি। তাই বাজার দখল করেছে প্লাই উড, ইঞ্জিনিয়ারড উড ও এম ডি এফ বোর্ডের ফার্নিচার। মেহগনি কাঠের আসবাবে যে কার্ভিংয়ের কারুকাজ হয় তা অন্য কোনও কাঠে হয় না। সেই ফিনিশটাই আসে না। গয়নার ক্ষেত্রেও সেই একই কথা। তাই যেকোনও কাঠ নয়, ডিজাইনার ইরানি মিত্র এক্সক্লুসিভ উড কারভিং নকশার গয়না তৈরি করছেন মেহগনি কাঠে। পলিশের পর গয়নার লুকটাই হচ্ছে একেবারে আলাদা।হঠাৎ মেহগনি কাঠের গয়না তৈরির কথা মাথায় এল কী করে?
ইরানি-  সব সময়েই আমার মন চায় নতুন কিছু করতে। তাই শাড়ি হোক বা ড্রেস, পাঞ্জাবি হোক বা গয়না, আমি চাই এমন কিছু দিতে যা আগে কেউ দেখেননি। আমাদের বনেদি বাড়ির মেহগনি কাঠের ফার্নিচারগুলো দেখেই গয়না তৈরির কথা মাথায় আসে। মেহগনি কাঠের টুকরো কিনে এনে কীভাবে করা যেতে পারে ভাবতে থাকি। পেন্সিল দিয়ে ডিজাইন করে ফেলি। খুঁজতে খুঁজতে উড কর্ভিংয়ের কাজ জানেন এমন একজন শিল্পীকেও পেয়ে যাই। তারপর আর থেমে থাকতে হয়নি। এখন আমার ওয়ার্কশপে নিজস্ব শিল্পী আছেন। আমি পেম্সিল দিয়ে ডিজাইন করে দিই। নানান সাইজের বাটালি দিয়ে কেটে কেটে নিখুঁত নকশা ফুটিয়ে তোলেন কারিগর। তারপর শিরীষ কাগজ দিয়ে খুব ভালো করে ঘষে মেহগনি রঙে পলিশ করা হয়। অদ্ভুত একটা সাবডিউড সফিস্টিকেটেড লুক আসে জুয়েলারিতে। অনেক সময় দুটো তিনটে টুকরো জুড়ে বড় হাঁসুলি হার বা নেকলেস তৈরি হয়। এত ছোট্ট ছোট্ট নব ব্যবহার করা হয় যে বোঝা যায় না। এই গয়না সম্পূর্ণভাবে হ্যান্ডমেড, মেশিন দিয়ে কিছু করা হয় না।কী কী গয়না তৈরি হচ্ছে মেহগনি দিয়ে?
ইরানি- গলার জন্য ছোট বড় নানান শেপের লকেট, পেন্ডেন্টস, নেকলেস, হাঁসুলি হার, কানের ছোট বড় টপ, ঝোলানো ড্যাংলার, হাতের রিস্টলেট, বালা তৈরি হচ্ছে মেহগনি কাঠে।কী ধরনের পোশাকের সঙ্গে পরা যায় এই গয়না?
ইরানি- মেহগনি কাঠের কালার এবং টেক্সচারে অদ্ভুত একটা আভিজাত্য আছে। তাই সিল্ক, তসর, তাঁত, ঢাকাই, কাঁথাকাজ করা শাড়ি, হ্যান্ডলুম, ওড়িশার বোমকাই- এই সব শাড়ির সঙ্গে পরলে খুব ভালো লাগে। অন্যদিকে শিফন, জর্জেট বা ক্রেপের সঙ্গে মেহগনি নেকপিস পরলে বেশ এলিগেন্ট দেখায়। আবার ওয়েস্টার্ন আউটফিট, যেমন লং ড্রেস, নি-লেন্থ ড্রেস  বা ফর্মাল ট্রাউজার শার্টের সঙ্গে পরলেও মানায়। তবে খুব লাউড কালার কনসেপ্টে সাজতে চাইলে মেহগনি জুয়েলারি না পরাই ভালো। খুব জরির কাজ করা শাড়ি বা পোশাকের সঙ্গে এই  গয়না পরতে চাইলে মানাচ্ছে কিনা দেখে নেবেন।মেহগনি জুয়েলারির দাম কেমন?
ইরানি- এটা পুরোপুরি হস্তশিল্প। আর হাতের কাজের মূল্য তো একটু দিতেই হবে। যাঁরা খুব ইলাবরেট ব্রড জুয়েলারি পরতে ভালবাসেন তাঁরা মেহগনি কাঠের হাঁসুলি হার ট্রাই করতে পারেন। এখন সোনার যা দাম তাতে ভারী একটা হাঁসুলি কেনা মানে লক্ষ লক্ষ টাকার ধাক্কা। আভিজাত্যে মেহগনি কিন্তু অনায়াসে সোনার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে। দাম সাইজ ও কারুকাজ অনুযায়ী ৫০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে।

কীভাবে ভালো থাকবে এই মেহগনি গয়না?
ইরানি- যেহেতু পলিশ করা কাঠের গয়না তাই জল ময়েশ্চার যতটা কম লাগে ততই ভালো। বাড়ি ফিরে শুকনো নরম কাপড় দিয়ে মুছে রাখতে হবে।  খসখসে কাপড় দিয়ে মুছলে পলিশ নষ্ট হয়ে যাবে।মেটাল বা বিডসের গয়নার সঙ্গে না রেখে আলাদা করে নরম কাপড় জড়িয়ে রাখলে বহুদিন ঝকঝকে থাকবে মেহগনি গয়না।
কোথায় পাবেন মেহগনি কাঠের গয়না?
ইরানি- সাউথ সিটি মলের কাছে প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে ডিজাইনার ইরানি মিত্রর স্টুডিওতে এই গয়না পাবেন। যোগাযোগ:  9830591973

You might also like