Latest News

Jamaishosthi: জামাইয়ের পাতে থাকছে তো মাংসের স্পেশাল এই রেসিপি

সাবিনা ইয়াসমিন রিংকু

Image - Jamaishosthi: জামাইয়ের পাতে থাকছে তো মাংসের স্পেশাল এই রেসিপি

জামাইষষ্ঠীর দিন জামাইকে নিয়ে কিছু লেখার আগে ‘জামাই’ শব্দটি ক’দিন আগে কীভাবে আমাকে বিপদে ফেলেছিল সেটা আপনাদের জানাতে চাই।
টুকটাক লেখার সুবাদে এপার এবং ওপার বাংলার বেশ কিছু মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা আমাকে ভালোবাসতে শুরু করেছেন। ওপার বাংলার এক রসিক রমণী একদিন মেসেঞ্জারে মেসেজ করে বললেন…
“আপু আমি আপনার লিখার ফ্যান হয়ে গেসি। “
আমি তাকে ধন্যবাদ জানালাম। তিনি আরও বললেন
“আপনি দেখতে খুব সুন্দর। চোখ দু’খানাতে মায়া ভর্তি। “
এভাবে কেউ বললে লজ্জা লাগে। এই উনপঞ্চাশেও কেমন যেন একটা হয়!
মেয়েটির সঙ্গে আমার কথোপকথনের অংশটি হুবহু তুলে দিলাম।
মহিলা—”আপু, জামাই কী করে?”
আমি— জামাই নেই। মেয়ে কলেজে পড়ছে।
মহিলা— “জামাই নাই!!! হায় আল্লাহ্! জামাইয়ের ভালোবাসা আদর কিসসু পান না?”
আমি— জামাইয়ের আদর পেতে যাবো কোন্ দুঃখে!!
শুধু আমি কেন! আমার মা ,আমার দিদা,আমার ঠাকুমা কেউই কখনো জামাইয়ের আদর পাননি। জামাইয়ের ভক্তি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং তিরস্কার পেয়েছেন।
মহিলা— “আপনি জামাইয়ের আদর পান না, সোহাগ পান না! তাও আপনার মুখে কী সুন্দর শান্তি লেগে থাকে!”
মেয়েটির কথা শুনে চরম দ্বন্দ্বে পড়ে গিয়েছিলাম। কী বলতে চাইছে মেয়েটি! জামাইয়ের সঙ্গে শাশুড়ির পালানোর খবর নিউজপেপারে একবার পড়েছিলাম বটে! কিন্তু সে তো ব্যতিক্রমী খবর। একটা আধটা ওরকম ঘটে। ওটা তো সমাজের আসল ছবি নয়!
মেয়েটির প্রোফাইলটি কি ফেক! আজেবাজে কথা বলে সময় নষ্ট করছে! তখন বিষয়টা সেখানেই শেষ করার জন্য বললাম, তুমি যে আমার লেখা পড়ো সেজন্যে অনেক ধন্যবাদ। ভালো থেকো।
মহিলাটি আমাকে সহজে ছাড়লেন না। বললেন, “জামাইয়ের কথা বললাম ব’লে রাগ করলেন আপু?”
আমি— ‘জামাই’ শব্দটাই আমার কাছে অবান্তর। তাই রাগের প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া আমার মেয়ের বিয়ে হলে তারপর আমার পরিবারে জামাইয়ের অনুপ্রবেশ ঘটবে।
মহিলা— “আপনার মেয়ের বিয়ের সাথে জামাইয়ের কি সম্পর্ক সেটাই তো বুঝতেসি না!”
আমি— আমিও তো বুঝতে পারছি না মেয়ের বিয়ে না হলে জামাই কীভাবে আসবে!
মহিলা— “দাঁড়ান। দাঁড়ান। আই থিঙ্ক কিছু একটা ভুল হস্সে।”
আমি— আমারও সেটাই মনে হচ্ছে।
মহিলা— “জামাই মানে আমি এতক্ষণ আপনার হাসব্যান্ডের কথা বলসি।”
আমি— ও হরি! তাই বল! কী কাণ্ড!
পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ মেয়েই স্বামীকে বর বলে।
আর মেয়ের স্বামীকে জামাই বলে। সেই কারণেই এই ভুল বোঝাবুঝি ।
“আমার বরের যে আজকাল কী হয়েছে! উঠতে বসতে খ্যাচখ্যাচ্ করছে। “
“আমার বর একদম ঝাল খেতে পারে না। রান্নায় শুকনো লঙ্কা ইউজ করা অনেকদিন আগে থেকেই বন্ধ করে দিয়েছি।”
“আমার বর আজকাল ফোনে খুব ব্যস্ত থাকে।” ওদিকে, বাংলাদেশের অনেক মেয়ে স্বামীকে জামাই বলে। বান্ধবীর সঙ্গে গল্প করতে করতে বলে— “আমার জামাই আমার জন্য একটা ফিনফিনে শিফন শাড়ি কিনে এনেছে।”
“জামাইকে কত্ত বলি বাড়িতে লুঙ্গি পরে থেকো না, লুঙ্গি আমার দুচোখের বিষ… জামাই একদম কথা শোনে না।”
“জামাই মনে বড্ড ব্যথা দিয়েছে। কাল থেকে কথা নাই।”

দেশ বা অঞ্চল ভেদে একই শব্দ কীভাবে বাক্যের অর্থটাই বদলে দিতে পারে… ‘জামাই ‘শব্দটা তার একটা শক্তিশালী নিদর্শন।
মেয়ে গড়িয়া থেকে বীরভূমের যজ্ঞনগরে বাপেরবাড়িতে ফোন করে মাকে বলছে “তোমার জামাইয়ের খুব কাজের চাপ পড়েছে। এবার মনে হচ্ছে জামাইষষ্ঠী করতে যেতে পারবে না।”
ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে মেয়ের ফোন গেছে খুলনায়। মা ফোন রিসিভ করেছেন। মেয়ে বলছে “বাবার বাজার করা হয়ে গেছে? এবার খাসি কোরো না। জামাইয়ের শরীরটা ভালো নেই। ডাক্তার রেড মিট খেতে মানা করেছে।”

যারই জামাই হোক না কেন, আর যে বাংলারই জামাই হোক না কেন. জামাইষষ্ঠী উদযাপন করার জন্য খানেওয়ালা এবং মৌজমস্তি করনেওয়ালা একটা দুর্দান্ত জামাই চাই-ই। খাবে আর সাদা রুমালে ঘনঘন মুখ মুছবে।
নতুন জামাই শাশুড়ির গর্ব। পড়শির ঈর্ষা। জামাই বিশাল একখান ‘জব’ করে। মাঝেমাঝে দেশের বাইরে যেতে হয়। ষষ্ঠী-মষ্ঠী অত মানে না। তবু শ্বশুর শাশুড়ির কথা ফেলতে পারেনি বলে কাজ কাটছাঁট করে এসেছে। ‘বড়ো’ অফিসে রবিবারেও কাজ থাকে। শুধু শ্বশুর শাশুড়িকে ভক্তি শ্রদ্ধা করে বলেই নয়,বেশ কটা চুলবুলি শালির টানেও এই দিনটায় শ্বশুরবাড়ি আসতে ভালো লাগে জামাইদের। নিজের শালি, তুতো শালিতে ঘর ভর্তি। যেন চাঁদের হাট! একাধিক মেয়ে, একাধিক জামাই। এখন আবার ড্রেস কোড আছে। গরমে নীল রঙের লিনেন শাড়ি। সবাইকে একইরকম দেখতে লাগে। যেন প্রত্যেকে প্রত্যেকের জমজ বোন! আধুনিক শাশুড়ি-মা লিনেন না পরলেও হ্যান্ডলুমের যে শাড়িটি পরেন, তাতেও হালকা নীলের পরশ থাকে। জামাইরাও নীল পাঞ্জাবিতে শোভিত। একইরকম নীল। মুখগুলো কেবল আলাদা। পছন্দও আলাদা আলাদা। বড় জামাই মাটন খাবেন না। মেজ জামাই মাটন না পেলে রাগ করবেন। ছোট জামাই বছরখানেক হলো মাছ মাংস ছেড়েছেন, তাঁর জন্য আলাদা ব্যবস্থা। (Jamaishosthi)

Image - Jamaishosthi: জামাইয়ের পাতে থাকছে তো মাংসের স্পেশাল এই রেসিপি

রবিবারের বাজার এমনিতেই জমজমাট। তারওপর রবিবারে জামাইষষ্ঠী পড়লে বাজার একেবারে জ্যামে জমাট। পুরো মাছ-বাজারটা বড়লোক শ্বশুরদের কব্জায়। গলদা, বাগদা, চিতল, ভেটকি, ইলিশের চারপাশে সেইরকম মারাত্মক ভিড়। মাছি গলবার উপায় নেই। আগের রাতেই ফোনে সওদা হয়ে গিয়েছে। এখন টাকা দেওয়া আর জিনিস বুঝে নিয়ে থলেয় পুরে বাড়ির দিকে রওনা হওয়া।

খাসির দোকানের সামনেও বিশাল লাইন। বাজখাঁই শ্বশুরদের নির্দেশে মাংসবিক্রেতা গফফার সিনা, গর্দান, রাংয়ের মাংসে ঝপাঝপ কোপ মারছে। দু’তিনজন শাশুড়ি পিওর কটন শাড়ি পরে লাইন বাদ দিয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে। ওসব রক্ত ফক্ত আর ছাগলের ঝুলন্ত মুন্ডু দেখলে গা শির শির করে। একটু ফাঁকা হলে ধীরেসুস্থে কিনবেন। অনেকটা কিমা নিতে হবে। বিকেলে চায়ের সঙ্গে ডেভিল।
ওদিকে বাড়িতে মেয়ের মা হাতে চিরকুট নিয়ে অপেক্ষা করে আছেন। কর্তা ফিরলে বাজার মিলিয়ে নিয়ে তারপর শান্তি।

এখন বিশেষ দিনগুলোতে হোম ডেলিভারি থেকে মনপসন্দ খাবার অর্ডার করলেও হয়! দারুণ ব্যবস্থা। কিন্তু বছরভর জামাই এবং মেয়ের নাগাল না পাওয়া শাশুড়ি মা এই একটা দিন নিজের হাতে রান্না করে তাদের খাওয়ানোর লোভটুকু ছাড়তে চান না। ইউটিউব দেখে মনে মনে ঝালিয়ে নেন পাঁঠার লিভার দিয়ে সোনা মুগের ডাল। ফলুই মাছের কোপ্তাকারি। হিমসাগর আমের রসগোল্লা। লিচুর পুডিং। সেগুলো রেঁধে বেড়ে মেয়ে জামাইয়ের সামনে না রাখা অব্দি মন শান্ত হয় না। জামাইয়ের সঙ্গে মেয়ের আসাটাও তো বড় প্রাপ্তি। মেয়ে যা যা খেতে ভালোবাসে ,এই জামাইষষ্ঠীর বাহানায় সেগুলো মেয়েকে খাইয়ে তৃপ্তি পাওয়া যায়! শুধু খাওয়া? শুধু একগাদা টাকা খরচের শঙ্কা! জামাইয়ের পাশে দাঁড়ানো মেয়ের সুখী মুখখানি দেখাটাও কি আনন্দের নয়! প্রতিবছর আড়চোখে মেয়ের ভালো থাকার মুখচ্ছবিটা দেখার লোভে এই ঝামেলাগুলো অনায়াসেই সয়ে নেওয়া যায়।

আর যে জামাইরা শ্যালক ও শ্যালিকাদের কাছে জামাইবাবু, জাম্বু, জিজু না হয়ে দাদা হয়ে উঠতে পেরেছেন, শ্বশুর এবং শাশুড়িমার কাছে অনায়াসেই ঘরের ছেলে হয়ে উঠেছেন… সেইরকম এক জামাইয়ের কথা বলে পাততাড়ি গুটোবো। এইরকম ছেলে হয়ে ওঠা জামাইরা জামাইষষ্ঠীর দিন সক্কাল সক্কাল নিজেই এত্ত এত্ত বাজার করে নিয়ে নিঃশব্দে শ্বশুরবাড়িতে ঢোকেন।
নিজেই অনেককটা পদ রান্না করেন। রান্নাঘরটাকে পুরো তছনছ করে দিয়ে বিজয়ীর হাসি হাসেন। জামাইষষ্ঠী তখন সত্যিই এক নির্ভেজাল আনন্দের রূপ নেয়। মেয়ের মঙ্গল কামনার উৎসব হয়ে ওঠে জামাইষষ্ঠী।
সেই উৎসবে অংশ নেওয়া দুটো রেসিপির কথা আজ আপনাদের জানাবো।

মাটন ভুনা

উপকরণ: মাটন এক কেজি, একটা মাঝারি সাইজের পেঁপে, পাঁচখানা পেঁয়াজ ঝিরি ঝিরি করে কাটা, আদা রসুন বাটা, টক দই অথবা টমেটোর টুকরো এক কাপ, লঙ্কা গুঁড়ো, হলুদ,ধনে, জিরে, গোলমরিচের গুঁড়ো, নুন, চিনি, শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা, ১০ টা আস্ত গোলমরিচ, চারটে ছোট এলাচ, একটা বড় দারচিনির কাঠি, কয়েকটা কাঁচালঙ্কা, সর্ষের তেল।

প্রণালী: পেঁপেটা কুরে নিন। তারপর পরিষ্কার কাপড়ের সাহায্যে পেঁপের রস বের করে রাখুন। মাংস ভালো করে ধুয়ে পেঁপের রস এবং নুন মাখিয়ে একঘণ্টা ম্যারিনেট করে রাখুন।
একঘণ্টা পরে গ্যাসে হাঁড়ি বসিয়ে সর্ষের তেল গরম করুন। তেল গরম হলে তেজপাতা, আস্ত শুকনো লঙ্কা, আস্ত গোলমরিচ, এলাচ ,দারচিনি ফোড়ন দিন।
ঝিরি ঝিরি করে কাটা পেঁয়াজগুলো দিয়ে দিন। পেঁয়াজ বাদামি হইয়ে এলে আদা রসুনের পেস্ট দিন। একটু নেড়ে পেঁপের রস মাখানো মাংস হাঁড়িতে ঢেলে দিন। কষুন। সমস্ত গুঁড়ো মশলাগুলো দিয়ে আবারও ভালো করে কষান।
এবার টকদই অথবা টমেটোর টুকরোগুলো মাংসে দিন এবং খুব ভালো করে নাড়ুন। মাংসগুলো হাড় থেকে ছেড়ে ছেড়ে এলে পরিমাণ মত নুন চিনি দিন। এককাপ গরম জল দিয়ে ঢাকনা এঁটে দিন। আঁচ একেবারে কমিয়ে দিন। বন্ধ ঢাকনার ওপরে পাঁচখানা ছোট এলাচ রেখে দিন। এলাচগুলো কুড়মুড়ে হয়ে গেলে শিলে গুঁড়িয়ে নিয়ে মাংসে দিয়ে দিন। মাংস সুসিদ্ধ হয়ে এলে কয়েকটা আস্ত কাঁচালঙ্কা ছড়িয়ে দিয়ে ঢাকনা এঁটে গ্যাস অফ করে দিন।

Image - Jamaishosthi: জামাইয়ের পাতে থাকছে তো মাংসের স্পেশাল এই রেসিপি

গন্ধরাজ চিকেন:

উপকরণ: চিকেন ৫০০ গ্রাম, একটা গোটা গন্ধরাজ লেবুর রস, এক চা চামচ গন্ধরাজ লেবুর খোসা কুরোনো, চারটে গন্ধরাজ লেবুর পাতা, আধকাপ টকদই, আদা-রসুন বাটা, শুকনো লঙ্কা বাটা, হলুদ, ধনে, জিরে গুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো, ঝিরিঝিরি করে কাটা পেঁয়াজ, তেজপাতা, আস্ত গোলমরিচ, দারচিনির একটা কাঠি, গরম মশলার গুঁড়ো, নুন, চিনি, অল্প সাদা তেল, সর্ষের তেল। ডুমো ডুমো সাইজের আলু ভেজে রাখা চার পিস।

প্রণালী: গন্ধরাজ লেবুর রস, টক দই, আদা রসুন বাটা, শুকনো লঙ্কা বাটা নুন আর সাদা তেল দিয়ে চিকেনটা কিছুক্ষণ ম্যারিনেট করে রেখে দিন।
কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে তেজপাতা, গোলমরিচ এবং দারচিনি ফোড়ন দিন।
পেঁয়াজ বাদামি করে ভেজে ওর মধ্যে গুঁড়ো মশলাগুলো দিয়েই ম্যারিনেট করা চিকেন দিয়ে দিন।
খুব ভালো করে কষুন। ঢেকে রাখুন। মিনিট তিনেক পর ঢাকা খুলে অল্প গরম জল দিন। ঝোল ফুটে উঠলে ভেজে রাখা আলু, কুরোনো লেবুর খোসা, লেবুর পাতা দিয়ে আবার ঢেকে দিন। মাংসের মধ্যে টকভাবটা বেশি হয়ে গেলে চিনি দিয়ে স্বাদে সমতা আনুন। আলু সেদ্ধ হয়ে গেলে গরম মশলার গুঁড়ো ছড়িয়ে গ্যাস অফ করে দিন।

You might also like