Latest News

অক্ষয় কুমার থেকে জুহি-জ্যাকলিন তাঁর পোশাকের ভক্ত, এবারের পুজোর ট্রেন্ড বললেন ডিজাইনার সুমিত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির এনআইএফটি-র প্রাক্তন ছাত্র ফ্যাশন ডিজাইনার সুমিত দাশগুপ্ত বহু বছর ধরেই কর্মসূত্রে মুম্বইে থাকেন। তাঁর মুম্বইতে রয়েছে তিনটি ফ্যাশন স্টুডিও। অক্ষয় কুমার থেকে সুস্মিতা সেন ,আরবাজ খান, আমিশা প্যাটেল, জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ, সোনাক্ষি সিনহা, জুহি চাওলা, চিত্রাঙ্গদা সিং, বিবেক ওবেরয় প্রমুখ বলিউড তারকারা সুমিত দাশগুপ্তর পোশাকের প্রতি অনুরক্ত। প্রয়াত বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতও ছিলেন সুমিতের পোশাকের একনিষ্ঠ অনুরাগী। লন্ডন, নিউইয়র্ক, শিকাগো, আবুদাবি, কুয়েত, দুবাই প্রায় সমগ্র বিশ্বে এলিট শ্রেণীর মধ্যে এই তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনার খুবই জনপ্রিয়।

Image - অক্ষয় কুমার থেকে জুহি-জ্যাকলিন তাঁর পোশাকের ভক্ত, এবারের পুজোর ট্রেন্ড বললেন ডিজাইনার সুমিত

দ্য ওয়াল পুজোর ফ্যাশন (Puja Fashion) এক্সক্লুসিভ শ্যুটে সুমিত দাশগুপ্তর অ্যাটেয়ার এবং হ্যান্ড এমব্রয়ডারি জুতোয়
বলিউড নায়ক জুবের কে খান থেকে শুরু করে হিন্দি ছোট পর্দার অভিনেতা শিবেন্দ্র সিং রাজপুত,অভিনেত্রী ঈপ্সিতা ক্যামেরাবন্দি হলেন। আমেরিকার ডিজনি অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত ফটোগ্রাফার আমেরিকার নিউইয়র্কের রাহুল শর্মা ছাড়াও মুম্বইয়ের জয়প্রকাশ যাদবের ক্যামেরায় এই তিন পরিচিত মুখ ধরা দিলেন। শ্যুটিংয়ের ফাঁকেই ফ্যাশন ডিজাইনার সুমিত দাশগুপ্ত মুম্বই জে ডাবলু ম্যারিয়ট হোটেল বসে দ্য ওয়াল-এর জন্য এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিলেন। কথা বললেন চৈতালি দত্ত।

এ বছরে কী ধরনের মহিলাদের পুজোর কালেকশন আপনি লঞ্চ করেছেন?

সুমিত : খুবই ট্রেন্ডি পোশাক আমি মেয়েদের জন্য লঞ্চ করেছি (Puja Fashion)। সাউথ ইন্ডিয়ান স্টাইলের দোপাট্টা ড্রেস, শর্ট চোলির সঙ্গে লং স্কার্ট, আনারকলি ইত্যাদি। ফ্যাব্রিক হিসেবে আমি বেশিভাগই অর্গেঞ্জা ব্যবহার করেছি। এ বছরের ফ্যাশনে অর্গেঞ্জা ভীষণ ইন্। এই ফ্যাব্রিকের ওপরে জরদৌসি , টাই অ্যান্ড ডাই, রাজস্থানি বন্দেজ ইত্যাদির কাজ রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে একটা কথা বলা খুবই প্রযোজ্য মুম্বইতে থাকলেও যেহেতু দুর্গাপুজোর কালেকশন তাই আমার প্রতিটি পোশাকে বাংলার একটা প্রভাব রয়েছে। বিশেষত এমব্রয়ডারির ক্ষেত্রে।

শাড়ি ছাড়া তো দুর্গা পুজো ভাবাই যায় না। তাই শাড়ির একটা বিরাট রেঞ্জ এনেছি। আমার নিজস্ব ডিজিটাল প্রিন্টেড যেমন শাড়ি রয়েছে আবার খুব হালকা কাজের হ্যান্ড জরদৌসি কাজও শাড়িতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে এই জারদৌসি একেবারেই ব্রাইডাল কালেকশন নয়। অনায়াসে এটি পুজোর সময় যে কোনও বয়সের মহিলারাই পরতে পারেন। সেই ভাবনা থেকে নতুন এই পুজোর কালেকশন আমার লঞ্চ করা। এছাড়াও অর্গেঞ্জা শাড়িও তৈরি করেছি।

শাড়ির প্রিন্ট কি আপনার নিজস্ব?

সুমিত: হ্যাঁ। আমার সমস্ত নিজস্ব ডিজিটাল প্রিন্ট যা সিল্ক, র-সিল্ক, অগের্ঞ্জা মেটিরিয়ালের ওপর করেছি। আমার প্রিন্টের সব কপিরাইট রয়েছে।

Image - অক্ষয় কুমার থেকে জুহি-জ্যাকলিন তাঁর পোশাকের ভক্ত, এবারের পুজোর ট্রেন্ড বললেন ডিজাইনার সুমিত

এক্ষেত্রে শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ কী ধরনের হবে?

সুমিত: এক্ষেত্রে ব্লাউজ থাকছে খুবই হেভি। যার মধ্যে একটা গর্জিয়াস লুক রয়েছে। যেহেতু ডিজিটাল শাড়ির প্রিন্ট খুব হালকা তাই আমি ব্লাউজের ক্ষেত্রে হ্যান্ড জারদৌসি কম্বিনেশন করেছি।

পোশাকের কালার প্যালেট কী ধরনের রয়েছে?

সুমিত: এবারে প্যাস্টেল শেডের ট্রেন্ড। তাই আমার কালেকশনেও প্যাস্টেল শেডই ফোকাস করেছি। প্যাস্টেল পেস্তা গ্রিন ,পিঙ্ক, আইভরি ,পিচ, গ্রে ইত্যাদি। এখন ফ্যাশন পরিবর্তন হয়ে গেছে। মানুষ এখন ‘সোবার’, ‘সিম্পল’ পোশাক পরতে পছন্দ করেন। তাই আমি চিরাচরিত ব্রাইট কালার পোশাকে ব্যবহার করিনি। সিম্প্লিসিটি আমার পোশাকের ভাষা (Puja Fashion)।

আপনার পোশাকে কাটস এবং স্টাইলে কী ধরনের প্যাটার্ন এবারে এনেছেন?

সুমিত : ইন্ডিয়ান এবং ইন্দো ওয়েস্টার্ন পোশাকের লাইন আপ রেখেছি ।

অষ্টমীর অঞ্জলি দেবার জন্য আপনি কী ধরনের শাড়ি তৈরি করেছেন?

সুমিত: সাধারণত রেড- হোয়াইট কম্বিনেশনের শাড়ি পরে মায়ের কাছে মহিলারা অষ্টমীর দিন অঞ্জলি দেন। সেই ভাবনাকে মাথায় রেখে আমি ক্রিম, আইভরি কালারের ওপর গোল্ডেন ,মেরুন হ্যান্ড এমব্রয়ডারি করা শাড়ি তৈরি করেছি। এছাড়াও রেড হ্যান্ড ওয়ার্কের বর্ডার দেওয়া নিজস্ব হ্যান্ড চিকনকারী করা অফ হোয়াইট কালারের জর্জেট শাড়ি তৈরি করেছি। সঙ্গে রয়েছে রেশম কাজের ব্লাউজ। এই ধরনের কম্বিনেশন মা দুর্গার অঞ্জলি দেওয়ার জন্য আদর্শ।

পুরুষদের কালেকশনে কী কী রয়েছে?

সুমিত : হ্যান্ডলুম, সিল্ক ফ্যাব্রিকে লাইট ওয়ার্কের শেরওয়ানি স্টাইলের পাঞ্জাবি সঙ্গে যোধপুরি তৈরি করেছি। কারণ যোধপুরি হল রাজস্থানি রয়্যাল কালচারে সঙ্গে যুক্ত হলেও আমি এমন ভাবে তৈরি করেছি যা ট্রেন্ডি। বাঙালি পুরুষেরা পুজোর সময় পরলে দেখতে খুব স্টাইলিশ লাগবে। রেডি টু ওয়্যার। আমি কিন্তু এই ধরনের প্যাটার্নের ট্রেন্ড সেটার। আবার যোধপুরি স্যুট তৈরি করেছি। যার বটম হল স্টাইলিশ লুকের চেকস, টেক্সচার প্যান্ট। তবে ওপরের পার্টে সিকোয়েন্স এবং থ্রেড ওয়ার্কের কাজ রয়েছে।

সবটাই কিন্তু হ্যান্ড ওয়ার্ক। এছাড়াও কুর্তা সঙ্গে পরার জন্য রয়েছে ‘কোটি’ বা ‘হাফ জ্যাকেট ‘, যা এমব্রয়ডারি করা। তবে কুর্তার বোতাম সবই কাপড়ের তৈরি। সঙ্গে রয়েছে প্যান্ট টাইপ চুড়িদার। পোশাকের এমব্রয়ডারি র সঙ্গে কম্বিনেশন করে স্মার্ট লুকের এমব্রয়ডারি করা শ্যু তৈরি করেছি। তবে পুরুষ এবং মহিলার উভয়েরই আমার তৈরি জুতো রয়েছে। এছাড়াও প্লিটেড ধুতির সঙ্গে শেরওয়ানি স্টাইলের পাঞ্জাবি যেমন আছে । তেমনি আবার কোনও ক্ষেত্রে লং ও শর্ট কুর্তার কম্বিনেশন রয়েছে।

Image - অক্ষয় কুমার থেকে জুহি-জ্যাকলিন তাঁর পোশাকের ভক্ত, এবারের পুজোর ট্রেন্ড বললেন ডিজাইনার সুমিত

বাচ্চাদের পোশাকে কী ধরনের কালেকশন রয়েছে?

সুমিত: ৪ থেকে ১৩ বছরের বাচ্চাদের মেয়েদের জন্য আছে লেহঙ্গা। যার মধ্যে প্রিন্ট , এমব্রয়ডারি আছে। এছাড়াও সারারা,পালাজোর সঙ্গে অ্যাসিমেট্রিক্যাল টপ আছে। ছোট ছেলেদের জন্য শার্টের সঙ্গে জ্যাকেট, প্যান্ট ইত্যাদি রয়েছে।

গত আড়াই বছরে মহামারীর কারণে ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড অনেকটাই শেষ হয়ে গেছে। আপনার ক্ষেত্রে কী ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে?

সুমিত: এটা তো একদম সত্যি কথা। সেই সময় আমি অনলাইন চালু করেছিলাম। আমার এক একটা লেহঙ্গা এক সময় আড়াই তিন লাখ টাকায় অনায়াসে বিক্রি হয়ে যেত। আর গত বছর অনুষ্ঠানে পরার জন্য সেই লেহঙ্গার বাজেট ছিল মানুষের কাছে ৫০-৬০ হাজার টাকা। এতটা পরিমাণে ‘কস্ট কাট’ হয়ে গেছিল। তবে আমার ক্ষেত্রে বলব এখন কিন্তু মার্কেট ভাল হয়েছে। সম্প্রতি আমারই লেহঙ্গা আড়াই লাখ টাকা করে ইতিমধ্যে বুকিং শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগেই আমি আবার নিউইয়র্ক থেকে শো করে এলাম ।
এ বছরে আমার শেরওয়ানি ৫০\৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আপনার সিগনেচার স্টাইল কী?

সুমিত: কালার ,ফিটিংস, সূক্ষ্ম হ্যান্ড এমব্রয়ডারি।

এবারের পুজোতে পোশাকে কোনও সিনেমার প্রভাব পড়বে বলে একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে আপনার মনে হয়?

সুমিত: এই মুহূর্তে সেরকম কিন্তু ব্যাপার নেই।

আপনি তো সম্প্রতি প্রোডাকশন হাউজ খুললেন?

সুমিত: ( হেসে) হ্যাঁ । তবে এই বিষয়ে এই মুহূর্তে আমি ঠিক কথা বলতে চাইছি না। অবশ্যই হিন্দি ছবি তৈরি করব। তবে সব ফাইনাল হলে তখন জানাব।

You might also like