মেক্সিকোর কাছে হেরে বিশ্বকাপের ট্র্যাডিশন অটুট রাখল জার্মানি

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই ট্র্যাডিশন বজায় থাকল। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জয় হাতছাড়া হলো ডিফেন্ডিং চ্যম্পিয়নদের। এই নিয়ে বিশ্বকাপে পরপর তিনবার।

    ইতালির বিরুদ্ধে গোল করে প্যারাগুয়ের উচ্ছ্বাস

    ২০০৬ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালি। জিদানের ‘হেড বাটের’ সেই ম্যাচ। পুরো ম্যাচ ১-১ থাকার পর টাইব্রেকারে হয়েছিল নিষ্পত্তি। ট্রেজেগুয়েতের শট বার উচিয়ে চলে যাওয়ার খেসারত দিতে হয়েছিল ফ্রান্সকে। পরের বার দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপেও অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই নেমেছিলেন আজুরিরা। ক্যানাভারো, কিয়েলিনি, বোনুচ্চির ডিফেন্স, মাঝমাঠে ডে রসি, পির্লো, স্ট্রাইকারে লুকা টনি, অধিনায়ক ও গোলকিপার বুফোঁ। এ হেন ইতালির বিরুদ্ধে গ্রুপের প্রথম ম্যাচে খেলতে নামে অনভিজ্ঞ প্যারাগুয়ে। কিন্তু তা সত্ত্বেও জয় পায়নি ইতালি। ১-১ শেষ হয় খেলা।

    রবিন ভ্যান পার্সির উড়ন্ত হেড

    দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। দেল বস্কির স্প্যানিশ আর্মাডা দেখিয়ে দিয়েছিল ‘ফলস নাইনে’ খেলেও বিশ্বকাপ জেতা যায়। চার বছর পরে ব্রাজিলের মাটিতে যখন খেলতে নামে স্পেন তখন দলে আরও অনেক নতুন প্রতিভা। গোলে ক্যাসিয়াস, ডিফেন্সে র‍্যামোস, পিকে, মাঝমাঠে বুস্কেতস, ইনিয়েস্তা, জাভি, স্টাইকার হিসেবে দিয়েগো কোস্তা। বিপক্ষে ২০১০ বিশ্বকাপে স্পেনের কাছেই ফাইনালে হেরে যাওয়া নেদারল্যান্ডস। প্রথমে জাভি অলন্সোর পেনাল্টি থেকে করা গোলে স্পেন এগিয়ে গেলেও ভ্যান পার্সির উড়ন্ত হেডে সমতা ফেরানো। তারপর রবেন, স্নাইডারদের হাতে কার্যত ছারখার হয়ে গিয়েছিল স্পেনের বিখ্যাত মাঝমাঠ। ৫-১ হারের লজ্জা এতোটাই প্রভাব ফেলেছিল যে গ্রুপ পর্যন্ত টপকাতে পারেননি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    জার্মানির বিরুদ্ধে গোল করে মেক্সিকোর খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস

    রবিবাসরীয় মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামেও দেখা গেল এক ছবি। ২০১৪ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন, বিশ্বকাপের সবথেকে ধারাবাহিক দল জার্মানি মুখোমুখি হয়েছিল মেক্সিকোর। একে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, তারপরে ক্রুজ, খেদিরা, ওজিল, বোয়াতেং, হামেলস, মুলারদের মতো তারকা। সঙ্গে ওয়ার্নার, কিমিচ, রিউসদের মতো তরুণ তুর্কী। সবাই ধরেই নিয়েছিল হাসতে হাসতে জয় পাবে জার্মানি। কিন্তু আদতে হলো বিপরীত। মেক্সিকোর গতি আর কাউন্টার অ্যাটাকের সামনে কার্যত ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে জার্মান ডিফেন্স। প্রথমার্ধে লোজানোর করা গোলে জার্মানিকে হারিয়ে চলতি বিশ্বকাপের সবথেকে বড় অঘটন ঘটায় মেক্সিকো।

    কেন বারবার এই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?

    তবে কি বিশ্বকাপ জয়ের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস? না কি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়ে নামার অতিরিক্ত চাপ? ফুটবল পন্ডিতদের একাংশের বক্তব্য এখন সব দেশের খেলোয়াড়রাই বিশ্বের বড় বড় লিগে খেলেন। ফলে বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা যেমন থাকে, তেমনই নিজের দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কাজটাও তাঁরা করে থাকেন। তাই বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এখন আর ছোট দল বলে কিছু হয় না। সব দলের বিরুদ্ধেই সতর্ক হয়ে নামা উচিত।

    আবার কিছু বিশেষজ্ঞের মত, তথাকথিত ছোট দলগুলো যখন এই রকম ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হয় তখন তাঁদের মধ্যে এক বাড়তি তাগিদ কাজ করে। কারণ তাঁরা জানেন, হারাবার কিছু নেই। কিন্তু চমক দেওয়ার একটা সুযোগ আছে। অন্যদিকে জার্মানি বা স্পেনের মতো দল প্রথম দু’একটা খেলায় তাদের সেরা কম্বিনেশনের খোঁজে থাকে। তাই কোনও কোনও ক্ষেত্রে ভুল হয়ে যায়।

    কিন্তু অনেক সময় এই ভুলের খেসারত দিতে হয় অনেক বড়। যেমন ব্রাজিল বিশ্বকাপে স্পেনকে দিতে হয়েছিল। গ্রুপ টপকাতে না পারার লজ্জা নিয়ে ঘরে ফিরেছিলেন জাভি, ইনিয়াস্তারা। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও জার্মান ডিফেন্সের ফাঁক-ফোকর চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে মেক্সিকো।

    এখন দেখার, এই পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা ফেরত আসতে পারেন কি না। নাকি স্পেনের মতোই অবস্থা হবে তাঁদের। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে আবার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More