ওচোয়ার উচ্চতায় আটকে গেল জার্মানি

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ওচোয়া

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুলের্মো ওচোয়া। ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে পরিচিত নাম। ২০১৪ বিশ্বকাপে এই ওচোয়ার কাছেই আটকে যেতে হয়েছিল নেইমারদের। রবিবাসরীয় রাতের পর থেকে এই ১৩ নম্বর জার্সি হয়ে উঠেছে জার্মান সমর্থকদের কাছেও আতঙ্কের নাম। কারণ এই ওচোয়ার গ্লাভস জোড়ার কাছেই প্রতিহত হয়েছে সব জার্মান আক্রমণ। হারের মুখ দেখতে হয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের।

    অথচ ৩২ বছরের এই মেক্সিকান গোলকিপারকে বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। ২০০৬ ও ২০১০ সালের বিশ্বকাপে মেক্সিকো দলে থাকলেও মেলেনি খেলার সুযোগ। ২০১৪ সালে প্রথম চয়েস গোলকিপার জেসাস করোনা চোট পাওয়ায় সুযোগ হয় প্রথম এগারোতে। আর প্রথম সুযোগেই বাজিমাত।

    নেইমারের হেড বাঁচাচ্ছেন ওচোয়া

    ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচে যাবতীয় আক্রমণ প্রতিহত করেন ওচোয়া। এমনকী ছ’গজের মধ্যে থেকে নেওয়া নেইমারের হেড অসাধারণ রিফ্লেক্সে বাঁচান তিনি। ফুটবল বিশ্ব কুর্নিশ করে তাঁর এই পারফরম্যান্সকে। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৮ বিশ্বকাপ কোয়ালিফিকেশনেও দুরন্ত খেলেন তিনি। জায়গা হয় রাশিয়া বিশ্বকাপে।

    কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর দিন কয়েক আগেই যৌনকর্মীদের সঙ্গে ছয় মেক্সিকান খেলোয়াড়ের রাতভর পার্টি করার খবর চাউর হয়ে যায়। ছ’জনের মধ্যে ওচোয়াও ছিলেন। অনেকেই দাবি জানান মেক্সিকোর নির্বাসনের। কিন্তু মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন দলের খেলোয়াড়দের পাশে থাকায় বিশ্বকাপে খেলার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয়নি মেক্সিকোর। আর তাই হয়তো বাড়তি তাগিদ নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন চিচারিত, লোজানো, ওচোয়ারা।

    গোমেজের ব্যাক হিল রুখে দিচ্ছেন ওচোয়া

    গোটা ম্যাচে জার্মানিকে কার্যত দাঁড়াতেই দেয়নি মেক্সিকো। তার মধ্যেই অবশ্য কিছু সুযোগ তৈরি করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু মেক্সিকোর তেকাঠির নীচে ওচোয়ার কাছে আটকে যায় সব। সবথেকে কঠিন সময় এসেছিল ৩৮ মিনিটের মাথায়। ফ্রিকিক থেকে টনি ক্রুজের শট গোলের মধ্যেই ঢুকছিল। কিন্তু উড়ন্ত ওচোয়ার হাত বাঁচিয়ে দিল অবধারিত গোল। তারপর ওয়ার্নার, ওজিল, মুলারদের জোড়ালো শটই হোক, কি মারিও গোমেজের ব্যাক হিল সব বুক চিতিয়ে রুখে দেন তিনি।

    ম্যচের শেষে জার্মান খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সমর্থক, সবাই স্বীকার করে নিয়েছেন, ওচোয়া না থাকলে তাঁরা জিততেন। সেই সঙ্গে বেশ কিছু ক্লাবের নজর গিয়েছে তাঁর দিকে। শোনা যাচ্ছে ইয়ুর্গেন ক্লপ চান সামনের মরশুম লিভারপুলে খেলুক ওচোয়া। কারণ হার না মানা খেলোয়াড়দের বেশি পছন্দ করেন আগ্রাসী ক্লপ। এই মুহূর্তে তিনি খেলেন বেলজিয়ামের স্ট্যান্ডার্ড লিয়েজ ক্লাবে খেলেন। দেশের হয়ে পারফরম্যান্সে ক্লাব ফুটবলে শিকে ছিঁড়বে কি না সেটা সময় বলবে।

    আর ওচোয়া? খেলার শেষে মেক্সিকোর খেলোয়াড়রা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরেছেন তাঁকে। তাঁরাও জানেন দলকে জেতানোর ক্ষেত্রে ওচোয়ার কতটা অবদান। কিন্তু ওচোয়া এখন ব্যস্ত শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুতিতে। কারণ সেই ম্যাচ জিতলেই পরের রাউন্ডে জায়গা পাকা হয়ে যাবে তাঁর দলের। তাই কোরিয়ার আক্রমণ রোখার জন্য শাণ দিচ্ছেন নিজের অস্ত্রে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More