মিষ্টি পাখি কাকাতুয়া, শুধু একটু অহংকারী

কাকাতুয়া শব্দটি সম্ভবত এসেছে ইন্দোনেশিয়ার ভাষা 'বাহাসা' থেকে। কাকাতুয়া শব্দের অর্থ টিয়া। আরেকটি মতবাদে বলা হয় কাকাতুয়া শব্দের অর্থ বড় বোন। ইন্দোনেশিয়ার ভাষায় 'তুয়া' শব্দের অর্থ বয়সে বড় এবং 'কাকাক' শব্দের অর্থ বোন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    ৮/১  Cacatuoidea গোত্রের ২১টি প্রজাতির পাখি কাকাতুয়া নামে পরিচিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারতীয় উপমহাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে কাকাতুয়া দেখা যায়।
    ৮/২ কাকাতুয়ার সব প্রজাতিগুলিই দেখতে আকর্ষণীয়। বেশিরভাগ প্রজাতিরই পালকের রঙ সাদা। তবে কিছু প্রজাতির রঙ গোলাপি ধূসর, হলুদ, খয়েরী এবং উজ্জল কালো বর্ণের হয়।
     ৮/৩ কাকাতুয়ার শরীরে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস হল তাদের মাথার ঝুঁটি। সাধারণত রেগে গেলে, সঙ্গীকে প্রভাবিত করার সময়, গাছ থেকে উড়ে মাটিতে নামার সময় বা মাটি থেকে উড়ে গাছে ফেরার সময় এদের ঝুঁটি প্রসারিত হয়।
    ৮/৪ উঁচু উঁচু গাছের কোটরে, পাহাড়ের গুহায় এরা বাসা বাঁধে এবং সেখানেই তারা বাসা বাঁধে। মিলনের পর স্ত্রী কাকাতুয়া ২-৪ টি ডিম পারে। প্রায় তিন মাস পুরুষ ও স্ত্রী কাকাতুয়া শাবকদের লালন-পালন করে।
    ৮/৫ প্রজাতিভেদে কাকাতুয়ার আয়ু ১৫-৪০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। ঘন্টায় ৭০ কিমি গতিবেগে ওড়ার উদাহরণ আছে।
    ৮/৬ প্রধানত ফল ও বীজ এদের খাদ্য। সাধারণত ঝাঁক বেঁধে খাবার খুঁজরে বের হয়, এর ফলে অনেকসময় কৃষিজ ফসলের ক্ষতি হয়। কৃষক জমিতে জাল বা বিষ দেওয়ায় বছরে প্রচুর কাকাতুয়ার মৃত্যু ঘটে এশিয়ায়।
    ৮/৭ মানুষের কন্ঠস্বর নকল করার ক্ষেত্রে অবিশ্বাস্য মুন্সিয়ানা আছে এদের। তাই মানুষের সবচেয়ে প্রিয় পাখিদের মধ্যেও অন্যতম হল কাকাতুয়া। পৃথিবীর সব চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণও হল কাকাতুয়া।
    ৮/৮ আজ প্রায় সাত প্রজাতির কাকাতুয়া বিপন্ন। মানুষের লোভ, বৃক্ষচ্ছেদন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, খাদ্যাভাব প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে বিপন্ন করে তুলেছে। এখনও সময় আছে। যেভাবেই হোক এদের রক্ষা করতেই হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More