পৃথিবীর এই দশটি ভয়ংকর আগ্নেয়গিরি আজও আতঙ্কে রাখে স্থানীয় মানুষদের

পৃথিবীতে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। এর মধ্যে বেশিরভাগই আছে সমুদ্রের তলায়। বাকি আগ্নেয়গিরিগুলি ছড়িয়ে আছে ৮১টি দেশে।

মাউন্ট সেন্ট হেলেন হল আমেরিকার একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। ওয়াশিংটনের স্কামানিয়া কাউন্টিতে অবস্থিত। ৮৮৩৬ ফুট উঁচু। ১৯৮০ সালে শেষ অগ্ন্যুৎপাতে  ৫৭ জন মারা গেলেও কয়েক হাজার কোটি ডলারের সম্পত্তি নষ্ট হয়েছিল।
  ইউরোপের সর্ব্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হল এই, মাউন্ট এটনা । সিসিলি দ্বীপের পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত। উচ্চতা ১০,৯২২ ফুট । রোমান কবি ভার্জিলের মতে এখানে  দেবতা  হেফায়েস্টাস বাস করেন। 
ন্দোনেশিইয়ার পূর্ব জাভায় অবস্থিত এই ভয়ংকর আগ্নেয়েগিরি কেলুদ। ১৫৫৬ সালের অগ্ন্যুৎপাতে ১০০০০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ১৯১৯ সালের অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৫১১০ জন। ২০১৪ সালের  ১৩ ফেব্রুয়ারি  শেষ  অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। ছাই  গিয়ে পড়েছিল ৫০০ কিলোমিটার দূরে।
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট  আগুঙ্গ।  উচ্চতা ৯৯৪৪ ফুট। ১৮৮২ সালে ৪০১১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন এর অগ্ন্যুৎপাতে। ১৯৬৩ সালে ১৫৮৪ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের ১৩ জুন শেষ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল।
 ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ ও সুমাত্রার মধ্যকার সুন্দা প্রণালীতে অবস্থিত একটি আগ্নেয়গিরি ক্রাকাতোয়া। ১৮৮৩ সালের ২৬ ও ২৭ আগস্ট এই আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।  শোনা যায় বিস্ফোরণের শব্দ ৩১০০ কিলোমিটার দূরের অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরে শোনা গিয়েছিল।  অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ৩৬,৪১৭ জন লোক মারা  গিয়েছিলেন। দ্বীপের  তিনভাগের দুইভাগই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল সেই বিস্ফোরণে।

হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত এই কিলাউই আগ্নেয়গিরি। শেষ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে ২০১৮ সালে। উচ্চতা ৪০৯১ ফুট। প্রচুর মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী এই আগ্নেয়গিরি।

পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ আগ্নেয়গিরি এই মাওনা লোয়া। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত। উচ্চতা ১৩৬৭৯ ফুট। শেষ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল ১৯৮৪ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে।

আফ্রিকার কঙ্গোতে অবস্থিত এই ভয়াবহ আগ্নেয়গিরি মাউন্ট নাইরাগোঙ্গো । ২০০২ সালের অগ্ন্যুৎপাতে প্রচুর মানুষ মারা যান,। দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। 

ফিলিপিনসে অবস্থিত এই ভয়াবহ ঘাতক মায়ন আগ্নেয়গিরি। উচ্চতা ৮০৮১ ফুট।শেষ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল ২০১৮ সালে। ১৮১৪ সালের অগ্ন্যুৎপাতের ফলে কাগসাওয়া শহরের কয়েক হাজার মানুষ কয়েকঘন্টার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছিলেন।  ১৮৯৭ সালে  প্রান হারান ১৩৩৫ জন।
ইকুয়েডরে অবস্থিত এই সক্রিয় আগ্নেয়গিরি  টুঙ্গুরাহুয়া। উচ্চতা ১৬৪৮০ ফুট। শেষ অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে, এখনও চলছে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.