সোনারপুরের বৃদ্ধা থেকে টিনসেল টাউনের অভিনেত্রী, সন্তানের অবহেলার শিকার সবাই

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘‘ছেলেটাকে মেরেই ফেলবে ওরা। আমায় একটু নিয়ে চল না বাবুর কাছে!’’ অঝোরে কান্নার সঙ্গে এটাই ছিল সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধার একমাত্র আবেদন। শুক্রবার বিকেল থেকেই বাঘাযতীন স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে বসেছিলেন সুনীতি হালদার। চোখে জল নিয়ে সবার কাছে একটাই আর্জি, তাঁকে তাঁর বাবুর কাছে নিয়ে যেতে হবে।

    শেষ পর্যন্ত পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার চেষ্টায় ওই বৃদ্ধাকে সোনারপুরে তাঁর মেয়ের বাড়ি পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে। তবে কোথায় তাঁর ‘বাবু’ সে উত্তর মেলেনি। আদৌ তাঁর ছেলেই তাঁকে স্টেশনে ফেলে দিয়ে গিয়েছিলেন কিনা সে উত্তরও সবার অজানা। তবে সুনীতিদেবী সত্যিই ছেলের অবহেলার শিকার কিনা সে বিষয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও এ শহর থেকে দু’হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরের বলিউডের শহরে কিন্তু সন্তানের অবহেলার শিকার হয়েছেন এক মা। তিনি সুনীতিদেবীর মতো ছাপোষা মধ্যবিত্ত নন। বরং একসময়ের ডাকসাইটে অভিনেত্রী। তিনি ‘পাকিজা’, ‘রাজিয়া সুলতানা’ খ্যাত অভিনেত্রী গীতা কাপুর।

    প্রায় ১ বছর ধরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দিন গুনেছেন তিনি। কবে একবার ছেলে তাঁকে দেখতে আসবে। কিন্তু না। সেই আশা আর পূর্ণ হলো না। মারা গেলেন ‘পাকিজা’ ছবির অভিনেত্রী গীতা কাপুর।

    ২০১৭ সালে মুম্বইয়ের এসআরভি হাসপাতালে অসুস্থ গীতা কাপুরকে ভর্তি করে দিয়ে যান তাঁর ছেলে রাজা। কিন্তু তার পর? হাসপাতালে পেমেন্টের জন্য এটিএমে টাকা তুলতে যাওয়ার নাম করে আর ফেরেননি তিনি। সেই সময় ফিল্ম নির্মাতা অশোক পণ্ডিত গীতা কাপুরের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। এর পর মুম্বাইয়ের এক বৃদ্ধাশ্রমে থাকার ব্যবস্থা হয় এই অভিনেত্রীর। শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ সেখানেই মারা যান তিনি। বয়স হয়েছিল ৬৭।

    বৃদ্ধাশ্রমে থাকাকালীন গীতাদেবী জানিয়েছিলেন, ছেলে তাঁকে মারধর করতো। এমনকী ৩-৪ দিন খেতে না দিয়ে ঘরে বন্ধ করেও রাখা হতো তাঁকে। শনিবার টুইট করে গীতা কাপুরের মৃত্যু সংবাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান অশোক পণ্ডিত। সূত্রের খবর, মারা যাওয়ার পর থেকে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য খোঁজ চলছে গীতাদেবীর সন্তানদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More