শনিবার, মার্চ ২৩

২৩ জানুয়ারি নেতাজি-আবেগে ফ্রিতে ভোজ এই শহরেরই পাইস হোটেলে! দেখুন ভিডিও

মধুরিমা রায়

নেতাজির জন্মদিনে শুধুই পতাকা তোলা, দেশাত্মবোধক গান আর পিকনিক– এগুলো তো চেনা ছবি।  এর বাইরেও যারা অন্য ভাবে নেতাজিকে মনে রাখেন, তাদের কাছে যাবেন কি? গেলে লাভ কিন্তু আপনারই।  সকাল ১০টা থেকে দোকান খোলে তারা। সেখানে পৌঁছলে আপনার পাতে পড়তে পারে পায়েস, ক্ষীর, সন্দেশ, ফ্রায়েড রাইস। সব চেয়ে বড় কথা, বিনা পয়সায় পাবেন এগুলো। অন্তত যত ক্ষণ প্রথম বারের তৈরি খাবার শেষ না হচ্ছে। সুভাষচন্দ্র বসুর ক্ষেত্রে যে আবেগ কাজ করে বাঙালির জীবনে, তার চেয়ে কোনও অংশে কম যায় না খাবারের প্রতি তার প্রেমও। আর সেই আবেগের জোরেই ১৯২৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চলছে ‘স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেল’।

কিন্তু কেন এই বিশেষ দিনে এই হোটেলের এই ব্যবস্থা?

হোটেলের বর্তমান মালিক অরুণাংশু কুমার পাণ্ডা জানালেন, তাঁর দাদু মনগোবিন্দ পাণ্ডা এই হিন্দু হোটেলের জন্ম দেন। প্রেসিডেন্সি কলেজের বাউন্ডারির পাশেই ছিল এই হোটেল। স্বাধীনতা তখনও পায়নি এ দেশ, কলকাতা জুড়েও লড়াই চলছে। সুভাষচন্দ্র বসু এই হোটেলেই খেতে আসতেন বহু বার, সঙ্গে আসতেন অন্য বিপ্লবীরাও।  অরুণাংশু তাঁর দাদুর থেকে শোনা গল্পে আরও জেনেছেন, কী ভাবে রায়টের সময়ে মনগোবিন্দরা লুকিয়ে খাবার পৌঁছে দিতেন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাছে। তখন এই হোটেলের নাম ছিল ‘ভারত হিন্দু হোটেল’, ৪৭ এর পরে ‘স্বাধীন’ যোগ হয় নামের আগে।

সেই ইতিহাসের পথ ধরেই স্বাধীনতা সংগ্রামের আবেগ ভবানী দত্ত লেনের এই পাইস হোটেলের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে। ২৩শে জানুয়ারি মানুষকে নিখরচায় ভূরিভোজ খাইয়ে তাই তৃপ্তিই পান এঁরা।

তবে নেতাজি জয়ন্তীতে এখানে এগুলো পেতে গেলে কিন্তু একটু আগে আগে পৌঁছতে হবে আপনাকে। শেষ হয়ে গেলে আর না-ও পেতে পারেন। এখানে প্রতিদিন গড়ে পনেরো রকমের মাছ রান্না হয়, এদিনও সে রকমই। কলেজপাড়া বা অফিসপাড়ার ‘ঝুপস’ এর চেয়ে আলাদা, আবার বাঙালির স্টেটাস সিম্বল ভজহরি বা বালিগঞ্জের চেয়েও ঢের আলাদা এই হোটেল সকাল দশটা থেকে দুপুর সাড়ে তিনটে অবধি খোলা থাকে। আবার খোলে রাত আটটা থেকে সাড়ে দশটা।

দোকানে নেই ফ্রিজ! দোকানে আসা লোকেদের টাটকা খাবার খাওয়ানোই আসল উদ্দেশ্য। এখানে থালি সিস্টেম এখনও আসেনি। মেনু অনুযায়ী পকেটের টান বাড়বে কমবে। তবে সেটা অবশ্যই মধ্যবিত্তের আয়ত্তে। নইলে কি আর দিনে তিনশো সাড়ে তিনশো লোক খেতে আসেন এখানে!

দেখে নিন, হোটেলের কয়েক ঝলক।

এখানে নিয়মিত যাঁরা আসেন, তাঁদের সার্টিফিকেট, পকেট এবং পেট কোনওটার উপরেই চাপে পড়ে না এই হোটেলের রান্নাবান্নায়। অতএব আপনি ভেবে দেখতেই পারেন, আগামী ২৩শে এখানে খেতে যাবেন কি না!

Shares

Comments are closed.