কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গে জয়ের পতাকা ওড়ালেন চার বাঙালি! পর্বতারোহণের ইতিহাসে নয়া অধ্যায়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার পর্বতারোহণের মুকুটে নতুন পালক জুড়ল বাঙালি অভিযাত্রী দল! নেপালের পর্বতারোহণ সংস্থা ‘পিক প্রোমোশন’ থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বুধবার ভোরে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ,  কাঞ্চনজঙ্ঘার ( ৮৫৮৬ মিটার) চুড়ো স্পর্শ করেছেন চার বাঙালি তরুণ!

    মঙ্গলবার বিকেল থেকেই শুরু হয়েছিল উৎকণ্ঠার প্রহর। বাঙালি পর্বতপ্রেমী মানুষেরা অপেক্ষা করছিলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে আমাদের ঘরের ছেলেদের সাফল্যের খবর শোনার জন্য। মঙ্গলবার ভোরে খবর মিলেছিল,  প্রায় সাত হাজার মিটার উচ্চতার ক‍্যাম্প-৩ থেকে সাড়ে সাত হাজার মিটার উচ্চতার ক্যাম্প ফোর তথা সামিট ক‍্যাম্পের পথে রওনা দিয়েছেন বাংলার পাঁচ অভিযাত্রী–- বিপ্লব বৈদ‍্য, রমেশ রায়, কুন্তল কাঁড়ার, রুদ্রপ্রসাদ হালদার এবং শেখ সাহাবুদ্দিন। নিরাপদে সামিট ক‍্যাম্পে পৌঁছে, কয়েক ঘন্টা বিশ্রাম নিয়ে বিকেল চারটে নাগাদই সামিটের উদ্দেশ্যে অর্থাৎ শৃঙ্গ ছোঁয়ার চূড়ান্ত অভিযানে বেরিয়ে পড়েন তাঁরা। বুধবার সকালে খবর আসে, পাঁচ জনের মধ্যে চার জনই সামিট করেছেন বাংলা থেকে।

    কাঞ্চনজঙ্ঘায় আরোহণ অন্যান্য বেশির ভাগ ৮০০০ মিটার শৃঙ্গের চেয়ে তুলনামূলক ভাবে বেশ কঠিন বলেই মনে করেন আরোহীরা। স্বাভাবিক ভাবেই সফল অভিযানের সংখ্যাও বেশ কম। ২০১৪ সালের ২০ মে কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে থেকে ফেরার পথেই নিখোঁজ হয়ে যান ছন্দা গায়েন। তার পরে বাংলা থেকে এই প্রথম সফল অভিযান হল এই দুর্গম শৃঙ্গে।

    তবে মঙ্গলবার বিকেলে শুরু করা ‘ফাইনাল অ্যাটেম্পট’-এর আগে পর্যন্ত পেরিয়ে আসা এতটা পথ মোটেই সহজ ছিল না তাঁদের কাছে। ১০ মে ক‍্যাম্প-২ তে পৌঁছোনোর পরে ঠিক ছিল, ১১ তারিখ বিশ্রাম নিয়ে ১২ তারিখ রবিবার তাঁরা ক‍্যাম্প-৩ পৌঁছে যাবেন। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁরা সেদিন ক‍্যাম্প-২ তেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর পরে ১৩ মে অনেকটা লম্বা পথ পেরিয়ে তাঁরা ক‍্যাম্প-৩ পৌঁছেছিলেন। তার পরে ১৪ তারিখ ভোরে শুরু করেন ক্যাম্প ফোর অর্থাৎ সামিট ক্যাম্পের উদ্দেশে যাত্রা।

    শেষমেষ বুধবার সকালে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গে পা রাখলেন বাংলার চার পর্বতারোহী। ৮৫৮৬ মিটার উচ্চতায় উড়ল দেশের পতাকা। পর্বতারোহণ সংস্থা সূত্রের খবর, নিরাপদে সামিট করার পরে কাঞ্চনজঙ্ঘা থেকে অবতরণ করছেন পর্বতারোহীরা। সবাই সুস্থ শরীরে রয়েছেন বলেই খবর।

    সোনারপুর আরোহী ক্লাবের বিপ্লব বৈদ্য, এই ক্লাবেরই রুদ্রপ্রসাদ হালদার, হৃদয়পুরের বাসিন্দা এবং মাউন্টেন কোয়েস্ট ক্লাবের সদস্য রমেশ রায় ইছাপুরের শেখ সাহাবুদ্দিন ও হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের কুন্তল কাঁড়ার এপ্রিল মাসের চার তারিখে রওনা দিয়েছিলেন বাঙালি অভিযাত্রী দল হিসেবে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পুর্বা, মিংমা, দাওয়া তেম্বা, দাওয়া সিরিং এবং দাওয়া নামের পাঁচ জন দক্ষ শেরপা। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলেছে অ্যাক্লেমাটাইজেশন অর্থাৎ আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি।

    পাঁচ বাঙালি পর্বতারোহীর মুকুটেই ছিল পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট-সহ একাধিক আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার শৃঙ্গ আরোহণের অভিজ্ঞতা। সকলে এখন সুস্থ ভাবে ফিরে আসুন, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বাংলার পর্বতারোহী মহল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More