মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

এক মহিলার অঙ্গদানে জীবন ফিরে পেলেন চার গ্রহীতা! নয়া নজির এসএসকেএম-এ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যস্ত অফিস টাইমে মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যে আন্দুলের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে এসএসকেএমে এসে পৌঁছোল মৃত রোগিণীর একাধিক অঙ্গ। গ্রিন করিডর তৈরি করে, পুলিশি তৎপরতায় মৃত রোগীর অঙ্গ নিয়ে এসে তা অন্য রোগীদের দেহে প্রতিস্থাপনের আরও একটি নজির দেখল শহর। আর এই ঘটনায় প্রাণ ফিরে পেলেন বেশ কয়েক জন।

রবিবার জোকার কাছে রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জনা ভৌমিক হটাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রক্তবমি শুরু হয় তাঁর। ওখানকার কোনও হাসপাতালে আইসিইউ বিভাগে বেড খালি না থাকায় হাওড়ার আন্দুলের নারায়ণা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৪৯ বছরের অঞ্জনাকে। ভেন্টিলেশনে রাখতে হয় তাঁকে।

অঞ্জনা ভৌমিক।

আচমকাই মৃত্যু হয় জোকার বাসিন্দা অঞ্জনা ভৌমিকের। মৃত্যুর সময়ে আন্দুলের নারায়ণা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। অঞ্জনার ব্রেন ডেথের পরেই পরিবারের লোকেরা সিদ্ধান্ত নেন, তাঁর অঙ্গদান করবেন। সেইমতো হৃদযন্ত্র, কিডনি, লিভার, চোখ ও ত্বক দান করা হয়।

মঙ্গববার সকালে চিকিৎসকেরা জানান, অ্যাকিউট ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে তাঁর। ফলে মস্তিষ্কের ৯৯ শতাংশেরও বেশি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু ব্রেন ডেথ না হওয়ায় সচল রয়েছে শরীরের বাকি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। এর খানিক পরেই মৃত্যু হয় অঞ্জনাদেবীর। নারায়ণা হাসপাতালের পক্ষ থেকেই তাঁর অঙ্গদানের কথা বলা হয় পরিবারকে। রাজিও হন তাঁরা। অঞ্জনাদেবীর দাদা শ্যামলবাবু বলেন, “বোন অকালে চলে গিয়েছে, ওর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পেয়ে যদি কেউ সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকেন তাহলে তো ভালোই। বুঝব আমার বোন এ ভাবেই অনেকের মধ্যে দিয়ে বেঁচে থাকবে।”

পরিবার ও স্বাস্থ্য দফতরের সম্মতির পরে বুধবার সকাল আটটার মধ্যে অঞ্জনাদেবীর হৃদযন্ত্র, দুটি কিডনি, লিভার, চোখ ও ত্বক সংগ্রহ করা হয়। তারপর গ্রিন করিডর করে মাত্র ১২ মিনিটে হাওড়ার আন্দুলের নারায়ণা হাসপাতাল থেকে প্রথমে আসে হার্ট। তার পরে একে একে সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এসে পৌঁছয় এসএসকেএম-এ। তার পরেই সেখানেই শুরু হয় অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজ।

অঞ্জনার হার্ট প্রতিস্থাপন করা হয় নদিয়ার বেতাইয়ের বাসিন্দা মৃন্ময় বিশ্বাসের শরীরে। ৩০ বছরের মৃন্ময় ভূগোলে গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পর ডবলিউবিসিএস-এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত এক বছর ধরে হার্টের দুরারোগ্য অসুখে ভুগছিলেন তিনি। অঞ্জনার হার্টে ফের বাঁচার আশা ফিরে পেলেন।

মৃ্ময় বিশ্বাস।

অন্য দিকে অঞ্জনার লিভার প্রতিস্থাপন করা হয় ৫৩ বছর বয়সি রিনা শীর দেহে। বারাসাতের বাসিন্দা রীনা বহু দিন ধরে লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন।

একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় হাওড়ার সাঁকরাইলের বাসিন্দা ৬০ বছরের হারুন রশিদ খানের দেহে। অন্য কিডনি পান যূথিকা বিবি।

যূথিকা বিবি

অস্ত্রোপচারের পরে সকলকেই অবজার্ভেশনে রাখা হয়েছে। সব ক’টি প্রতিস্থাপন সফল হলেও, ৭২ ঘণ্টার আগে কিছুই বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

Comments are closed.