মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

‘কাশ্মীর ভুলে যান, চাইলে জঙ্গি দমনে সেনা পাঠাব আমরা!’ ইমরান খানকে তুলোধনা রাজনাথের

  • 95
  •  
  •  
    95
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “কাশ্মীরের কথা ভুলে যান। এ বিষয়ে কথা বলেও কোনও লাভ হবে না। কেউ আমাদের উপরে চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না।’’– কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।

সম্প্রতি কাশ্মীরের ‘অবদমন’ প্রসঙ্গ নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব হন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার অধিবেশনে নিজের ভাষণে এ নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন ইমরান। ভারতের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার হুমকিও দেন তিনি। ইমরানের সেই কথাগুলিতেই গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজনাথ সিংহ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমি ওই দিন ইমরানের ভাষণ শুনছিলাম। কাশ্মীর স্বাধীনতা অর্জন না করা পর্যন্ত তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেছেন। আমি বলছি, কাশ্মীরের কথা ভুলে যান। কোনও লাভ নেই।”

উল্টে পাকিস্তানকে জঙ্গিদমনের পরামর্শ দিয়ে রাজনাথ প্রস্তাব রাখেন, প্রয়োজনে জঙ্গি দমনে পাকিস্তানকে সাহায্য করতে পারে ভারত। ভারতীয় সেনাবাহিনী এই কাজে নামতে পারে পাকিস্তান চাইলে। পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসবাদের বাড়বাড়ন্তের অভিযোগ করে ইমরানকে তীব্র আক্রমণও করেন রাজনাথ।

রাজনাথ যখন পাকিস্তানের জঙ্গি দমনের বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন, রবিবার হরিয়ানার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়েও একই অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্-ও। তাঁর দাবি, জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে বা দমনে একেবারেই সচেষ্ট নয় পাকিস্তান। বরং সে দেশের মাটিতে অবাধ বিচরণ করে বেড়াচ্ছে জঙ্গিরা।

পাকিস্তান সরকার জঙ্গিদমনে উৎসাহী হলে ভারত সাহায্যের হাত বাড়াতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়েই পাক প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, ‘‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনার (ইমরান খানের) যদি সদিচ্ছা থাকে, তবে আপনাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত আমরা। যদি আমাদের সেনাবাহিনীর সাহায্য চান, তবে আপনার সহায়তার জন্য পাকিস্তানে পাঠাব তাদের।’’

সম্প্রতি ফ্রান্সে গিয়ে যুদ্ধবিমান রাফায়েল নেওয়ার সময়ে তার শস্ত্রপুজো করেন রাজনাথ। এ নিয়ে বিরোধীদের প্রবল আক্রমণের মুখে পড়েন তিনি। এ নিয়েও হরিয়ানার প্রচার মঞ্চে বক্তব্য রাখেন অমিত শাহ। বিরোধীদের তুলোধনা করে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষায় ভারতের মুকুটে পালক যোগ হওয়া নিয়ে যারা বিরোধিতা করছেন, তারা পাকিস্তানের পক্ষ নিচ্ছেন।

ফেব্রুয়ারি মাসে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গিহানার পর থেকেই ভারত-পাক সম্পর্কের অবনতি হয়। পুলওয়ামা হামলার পরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে অভিযান চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। এর পরে গত অগস্টে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপের পর থেকে দু’দেশের সম্পর্কের মধ্যে আরও অবনতি হয়।

পড়ুন দ্য ওয়ালের পুজো সংখ্যার বিশেষ ভ্রমণ কাহিনি…

বাইকে চেপে পৃথিবীর ছাদ পামিরে

Comments are closed.