সোমবার, মে ২৭

বাড়ি থেকে পালিয়ে দু’দশক পার! শেষমেশ ‘অনিচ্ছা’য় মায়ের কাছে ফিরল মেয়ে

দ্য ওযাল ব্যুরো: কিশোরীবেলায় আচমকা হারিয়ে গিয়েছিল মেয়ে। হারিয়ে গিয়েছিল বলা ভুল, চলে গিয়েছিল ঘর ছেড়ে। কাউকে কিছু না বলে। হন্যে হয়ে খুঁজেছিলেন মা। কোনও উপায়ই বাদ রাখেননি। পুলিশও খোঁজ চালিয়েছিল দীর্ঘ দিন। কিন্তু কোনও সূত্র মেলেনি। বছরের পর বছর ধরে দরজার দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করেছেন মা। শেষমেশ ছেড়ে দিয়েছিলেন আশা। নতুন করে শুরু করেছিলেন জীবন।

কিন্তু জীবনের গল্প প্রায়ই ছাপিয়ে যায় রূপকথাকে। ছাপিয়ে যায় কবিতাকে। তাই ‘কুড়ি-কুড়ি বছর জীবন চলে যাওয়ার’ পরেও ঘটল মধুর মিলন। দু’দশক পরে মেয়েকে খুঁজে পেলেন মা। কিন্তু এ মিলনকে তেমন মধুর বলা যায় না। কারণ মেয়েকে দেখে তো চিনতেই পারছেন না মা! ও দিকে মেয়ের কথাতেও স্পষ্ট, যে অভিমানে ঘর ছেড়েছিল সে। এবং সে অভিমান আজও ম্লান হয়নি।

জীবনের সেরাতম এই ঘটনায় একই সঙ্গে আনন্দে ও বেদনায় কাতর, আমেরিকার বাল্টিমোরের বাসিন্দা সিন্থিয়া হাগ। জানালেন, তাঁর ছোটো মেয়ে ক্রিস্টাল তখন সদ্য কিশোরী, বয়স মাত্র ১৪। আচমকাই চলে গিয়েছিল বাড়ি ছেড়ে। ১৯৯৭ সালের ২৬ এপ্রিলের ওই ঘটনার পরে মেয়েকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে কম কাঠখড় পোড়াননি সিন্থিয়া। বড় মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে কার্যত গোটা বালটিমোর চষে ফেলেছেন। চলে গিয়েছেন নিউ ইয়র্কও। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ক্রিস্টালের হদিস কেউ দিতে পারেনি। পুলিশও হাল ছেড়ে দেয় এক সময়।

ক্রিস্টাল হারিয়ে যাওয়ার পরে এই পোস্টারই ছড়িয়ে গিয়েছিল শহর জুড়ে।

এভাবেই কেটে গিয়েছে ২২ বছর! হঠাৎই কয়েক দিন আগে, ফোন বেজেছিল সিন্থিয়ার বাড়িতে। ক্ষীণ এক আশায় ভর করেই ফোন নম্বরটা বদলাননি সিন্থিয়া। কাজে লাগল সেই আশার আলোটুকুই। ওপার থেকে ভেসে এল, “আমি ক্রিস্টাল, বাড়ি ফিরছি।” শুনে থমকে গিয়েছিলেন সিন্থিয়া। নিজের কানকেই কিছু ক্ষণ বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। ক্রিস্টাল বাড়ি ফিরছে! কোথাও কোনও ভুল হয়নি তো? কেউ মজা করেনি তো?

Shares

Comments are closed.