বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

গরু ও শুয়োরের মাংস ডেলিভারিতে আপত্তি, অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘটে হাওড়ার জোম্যাটো ডেলিভারি কর্মীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংস্থার ‘দাদাগিরি’র বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ঘোষণা করল হাওড়ার জোম্যাটো ডেলিভারি কর্মীরা। রাস্তায় নেমে স্লোগান দিল, “ কোম্পানির দাদাগিরি চলবে না।” তাঁদের দাবি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গরু ও শুয়োরের মাংস ডেলিভারি করবেন না তাঁরা।

হাওড়ার ডেলিভারি এক্সিকিউটিভদের দাবি, তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গোমাংস ও শুয়োরের মাংস ডেলিভারি করতে বাধ্য করছে জোম্যাটো। তাঁদের কথা শুনছে না সংস্থা। হিন্দু ডেলিভারি স্টাফেরা যেমন গোমাংস ডেলিভারি দিতে অস্বীকার করছেন, তেমনই মুসলিমরা অস্বীকার করছেন পর্ক পৌঁছে দিতে। জোম্যাটোর ডেলিভারি এক্সিকিউটিভদের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেছেন, “কাউকে জোর করে ধর্মবিরোধী কাজ করাতে পারে না সংস্থা। এটা ঠিক নয়। বিষয়টি আমি শুনেছি। এ নিয়ে পদক্ষেপ করব।”

কয়েকদিন আগেই সংবাদ শিরোনামে এসেছিল জোম্যাটো। সংস্থার মুসলিম ডেলিভারি বয়ের হাত থেকে এক গ্রাহকের খাবার নিতে অস্বীকার করায় বিতর্ক তৈরি হয়। মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের বাসিন্দা অমিত শুক্ল জোম্যাটোতে খাবারের অর্ডার দিয়েছিলেন। তাঁর কাছে খাবার পাঠানোর জন্য সংস্থা যাঁকে ঠিক করে, তিনি একজন অহিন্দু। এরপরই অমিত শুক্লা টুইটারে লেখেন, শ্রাবন মাসে আমি অহিন্দুর হাত থেকে খাবার খাই না। রাইডার বদলের কথা বললেও জোম্যাটো রাজি হয়নি। আমি রিফান্ডও চাইনি।” ওই টুইট ধরেই পাল্টা সংস্থার সরকারি টুইটার হ্যান্ডল থেকে লেখা হয়, “খাবারের কোনও ধর্ম হয় না। খাবারই একটা ধর্ম।”

এমনিতে কলকাতায় গো মাংস নিয়ে বতর্ক কম হয়নি গত কয়েক বছরে। চলতি বছরে ঘোষণা করেও বিফ ফেস্টিভ্যাল বন্ধ করতে হয় উদ্যোক্তাদের। এ বার বিফ এবং পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হল জোম্যাটোতে। এখন দেখার কী সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থা। ক’দিন চলে হাওড়ার ধর্মঘট।

Comments are closed.