চিনারা কাদের জন্য ল্যাবরেটরিতে করোনাভাইরাস বানাচ্ছিল?

চিনে যাঁরা রাষ্ট্রপ্রধান হন, তাঁরা বিশেষ সুবিধার লোক হন না। বাইরে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদের মনে জিলিপির প্যাঁচ। সেকথা অনেক দুঃখে বুঝেছিলেন জওহরলাল নেহরু। চিনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই মুখে এমন ভাব দেখাতেন যেন নেহরু তাঁর বড় দাদা। নেহরুও তাঁকে সরল মনে বিশ্বাস করেছিলেন। সেই চৌ এন লাই ১৯৬২ সালে সীমান্ত পার করে ভারতে ঢুকিয়ে দিলেন লালফৌজ।

এইরকম বিশ্বাসঘাতকতা চিনারা আরও অনেকের সঙ্গে করেছে। ওই জন্য তাদের কেউ বিশ্বাস করে না। গত কয়েকদিন ধরে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সবাইকে বোঝাতে চাইছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে তাঁদের বিশ্বের কাছে লুকনোর কিছু নেই। তাঁর কথা শুনে সবাই ভাবছে, নিশ্চয় লুকনোর কিছু আছে। নইলে অত করে বলছেন কেন?

শি জিনপিং কী লুকোতে চাইছেন?

করোনাভাইরাসের উৎপত্তি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দু’-একটা এমন খবর বেরিয়েছে যা খুবই উদ্বেগজনক। আমেরিকার ‘ওয়াশিংটন টাইমস’ নামে সংবাদপত্রে ছেপেছে, করোনাভাইরাসের জন্ম চিনের গবেষণাগারে। চিন সম্ভবত জীবাণুযুদ্ধের জন্য বানাচ্ছিল ওই ভাইরাস। তার আগেই কোনওভাবে ল্যাবরেটরি থেকে লিক হয়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছে।

জিনপিং এই কথাটি লুকোতে চাইছেন। এমনটাই স্বাভাবিক। কারণ আন্তর্জাতিক আইনে জীবাণুযুদ্ধ নিষিদ্ধ। তাঁরা ওই নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করছিলেন জানাজানি হলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে। কিন্তু আধুনিক যুগে এত বড় খবর কি একেবারে চেপে যাওয়া যায়?

বেজিং থেকে বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু উহান শহরের সি ফুডের বাজার থেকে। ইজরায়েলের গোয়েন্দারা বলছেন, উহান থেকে ছড়িয়েছিল ঠিকই কিন্তু সি ফুডের কথাটা মিথ্যা। উহানেই আছে চিনের অত্যাধুনিক গবেষণাগার। সেখানে মারাত্মক জীবাণু নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়। ওইখান থেকে করোনাভাইরাস কোনওভাবে বাইরে বেরিয়ে গিয়ে থাকবে।

২০১৫ সালে চিনারা নিজেরাই নাকি স্বীকার করেছিল, ভাইরাস নিয়ে গবেষণা চালানোর জন্য তাদের ল্যাবরেটরি আছে উহানে। তার নাম ‘উহান ইনস্টিটিউট অব ভিরোলজি’। ‘রেডিও ফ্রি এশিয়া’-য় সম্প্রচারিত হয়েছে এই খবর।

এর পরের প্রশ্নটা হল, চিন কাদের দেশে মারণভাইরাস ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিল?

চিনের শত্রু অনেক। মিত্র একটামাত্র দেশ। পাকিস্তান।

ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চিনাদের পয়লা নম্বর শত্রু আমেরিকা। তারা সেদেশে সস্তায় মাল বেচতে চায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পও তেমনি গোঁয়ার। চিনা পণ্যের ওপরে চড়া হারে চাপিয়ে দিলেন শুল্ক। লেগে গেল বাণিজ্য যুদ্ধ। কিছুদিন আগে অবশ্য একদফা মিটমাট হয়েছে। কিন্তু চিনারা অত সহজে শত্রুতা ভোলে না।

তাহলে কি চিনাদের টার্গেট ছিল আমেরিকা।

তা একেবারেই অসম্ভব। চিনাদের অত সাহস নেই। আমেরিকানরা জানতে পারলেই পরমাণু মিসাইল ছুঁড়বে।

জাপানের সঙ্গে জলসীমা নিয়ে চিনের বহুদিনের ঝগড়া। তারা বলে, জাপানের সেনকাকু দ্বীপটা আমাদের। জাপান বিশেষ পাত্তা দেয় না।

সাউথ চায়না সি-তে জলসীমা নিয়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে চিনের ঝামেলা। ইস্ট চায়না সি-তে তাদের ঝামেলা দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে। তাইওয়ানের সঙ্গেও চিনাদের বহুকালের শত্রুতা।

কিন্তু এইসব শত্রুর বিরুদ্ধে করোনাভাইরাস কাজে লাগবে কি?

মনে হয় না। কারণ এদের সঙ্গে বিরোধ তো সমুদ্রপথে। মারণ ভাইরাস কাজে লাগে স্থলযুদ্ধে। চিনের স্থলসীমার আশপাশে যে সব দেশ, বিপদ তাদেরই। চিন যদি কোনও দেশের জমি দখল করতে চায়, তাহলে জীবাণুযুদ্ধ শুরু করতে পারে।

চিনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত আছে রাশিয়ার। একসময় তাদের সঙ্গে চিনের খুব শত্রুতা ছিল। এখন তত নেই।

বাকি রইল ভারত।

চিনারা দীর্ঘকাল যাবৎ আকসাই চিন অঞ্চলে ভারতের ৩৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার জমি দখল করে আছে। তাতেও সন্তুষ্ট নয়। চাহিদা বেড়েই চলেছে। গত কয়েক বছর ধরে বলছে, ভারতের অরুণাচল প্রদেশ জায়গাটা আমাদের। ওটা আসলে তিব্বতেরই অংশ।

কখনও আবার দাবিটা একটু কমিয়ে বলছে, পুরো অরুণাচল না হোক, অন্তত তাওয়াং অঞ্চলটা আমাদের চাই।

এই নিয়ে সংঘর্ষ হলে চিনের মোক্ষম হাতিয়ার হতে পারত কোনও মারণ ভাইরাস। কিন্তু আপাতত তা সম্ভব নয়। করোনাভাইরাস বেরিয়ে গিয়ে চিনারা খুব জোর ফেঁসেছে। শয়ে শয়ে মরছে তাদের দেশেই। এর ফলে সামাজিক ও রাজনৈতিক অশান্তির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এসব সামলে উঠতে কিছুদিন সময় লাগবে।

তবে চিনারা হাল ছাড়ার পাত্র নয়। জীবাণুযুদ্ধ নিয়ে তারা বহুকাল যাবৎ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও চালাবে।

শি জিনপিং-এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বেশ কয়েকবার বৈঠকে বসেছেন। শি এমন ভাব দেখাচ্ছেন যেন মোদীর কত বন্ধু। আশা করা যায়, মোদী তাঁর ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। হয়তো আগামী দিনে আলোচনার ফাঁকে একবার জিজ্ঞাসাও করে বসবেন, মিস্টার জিনপিং, আপনারা কি এখনও জীবাণু নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট চালিয়ে যাচ্ছেন?

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.