শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

বয়স তো শুধু একটা সংখ্যা, তারুণ্য ধরে রাখতে একটু নিয়ম না হয় মানলেন!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুড়ো হতে কে-ই বা চায়? তবু কালের নিয়মে আমরা বুড়িয়েই যাই। আশেপাশে অনেকেরই বয়স বাড়লেও বেশ তরতাজা লুক ধরে রাখেন, কিন্তু কী করে! আমাদের রোজকার জীবনযাপন এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম, ঠিকঠাক খাওয়া-দাওয়া আর রোজ হাল্কা ব্যায়াম এটুকু করলেই তারুণ্য আমাদের হাতের মুঠোয়। কারণ এই প্রতিটা জিনিসই আপনার ইঁদুর দৌড়ের দুশ্চিন্তাকে টা টা বলতে সাহায্য করবে। ফলে বার্দ্ধক্য আপনার চৌকাঠ পেরোতে পারবে না।
আমরা অনেকেই বাড়ির খাবারের বদলে জাঙ্কফুড খেতে পছন্দ করি। এতে আমাদের সময় বেঁচে গেলেও শরীরের বয়স বাড়তে থাকে দ্রুততার সঙ্গে। মাঝেমধ্যে আমরা জাঙ্ক বা বেশি মিষ্টি খেলে ক্ষতি নেই, তবে নিয়মিত খেলে অকাল বার্ধক্য আসবেই। আর মিষ্টি-কেক-পেস্ট্রি ইত্যাদি যত বেশি খাব, ডায়াবেটিসের মতো নাছোড়বান্দা রোগও আমাদের নিত্যসঙ্গী হবে। তার সঙ্গে চামড়া জুড়ে বলিরেখা আর ফ্যাকাশেভাব দেখা দেবে। কাজেই খাবার খান বেছে।
যখনই দেখি আমরা বুড়িয়ে যাচ্ছি, শুরু করি বাজারের বিভিন্ন কসমেটিক্স কেনা। কোনওটা বয়স কম দেখাতে, কোনওটা আবার বলিরেখা দূর করতে। কিন্তু এই  সবই আসলে রাসায়নিক। তাই এগুলো কোনও উপকারে তো সে ভাবে আসেই না, বরং অপকার করে বেশি। খাবার, কসমেটিক্স বা ডিটারজেন্ট কেনার সময় লেবেলে লেখা রাসায়নিকের পরিমাণ দেখে নিন। একটু সচেতন হলে সুস্থ থাকবেন।

ঘুমও কম হলেও আপনার বয়স বেড়ে যাওয়া কেউই আটকাতে পারবে না। এক্ষেত্রে আবার আপনার চোখের নীচে যে পরিমাণ ডার্ক সার্কেল পড়বে তাতে আপনি চিন্তিত হয়ে যাবেন। অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা অবশ্যই ঘুমোনোর চেষ্টা করুন। না হলে সারাদিনই কাজের মধ্যে ক্লান্তি আসবে, আর আপনি  ভাবতে থাকবেন আপনি বাকিদের তুলনায় বুড়িয়ে যাচ্ছেন কি!

সমস্যা কার না জীবনে থাকে? তবে একেক জন তাকে একেক রকম ভাবে নেয়। স্ট্রেস কাটাতে নেশার সাহায্য নিলে কিন্তু হিতে বিপরীত হবে। আরও বুড়িয়ে যাবেন।

দিনে এক গ্লাস রেড ওয়াইন আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু আপনি সুরাসমুদ্রে রোজ স্নানে নামলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত মদ্যপান আপনার মেটাবলিজমেও প্রভাব ফেলবে যথেষ্ট। চামড়ার বয়স বাড়বে লাফিয়ে লাফিয়ে।

আজকাল আমরা সক্কলে ব্যস্ত, এতটাই যে প্রিয়জনদের সঙ্গেও আমরা কথা বলছি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে। আমরা কাজের ফাঁকে বা বাড়িতেও একে অন্যের খোঁজখবর না নিয়ে, কথাবার্তা না বলে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপেই বুঁদ হয়ে থাকছি।  সুস্থ থাকতে হলে স্বাভাবিক ভাবে বাঁচুন। বেড়াতে যান, পিকনিকে আর সিনেমায় যান, আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যান। নিজেকে সময় দিন। গান শুনুন। মন ভালো রাখুন।

নিয়মানুবর্তিতায় নিজেকে রেখে প্রকৃতির সঙ্গে ও সকলের সঙ্গে বাঁচুন। দেখবেন জীবন তরতাজা থাকবে। আপনিও বয়সকে হারিয়ে জীবনকে উপভোগ করতে পারবেন।

Shares

Comments are closed.