শনিবার, অক্টোবর ১৯

নাছোড়বান্দা ব্রণ? বিদায় জানান পাঁচ উপায়ে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপনি কি খুব ব্রণর সমস্যায় ভোগেন? বিয়েবাড়ি  হোক বা কলেজ সোশ্যাল, সবেতেই সঙ্গী ব্রণ! তাহলে জেনে নিন কেন এই ব্রণর সমস্যা আপনাকে জাপটে ধরে থাকে।  যদি সেই সমস্যাগুলোর মূলে পৌঁছতে পারেন, তাহলে অনায়াসেই পারবেন ব্রণদের বিদায় জানাতে।

১.মোবাইল ফোন

আমাদের যে মোবাইল ফোন, তাতে টয়লেটসিটের চেয়েও বেশি জীবাণু থাকে তা নিশ্চয় জানেন।  সেই মোবাইল নিয়ে সারাক্ষণ খুটখুট করছেন আপনি।  ফোন এলে হেসে বা কেঁদে যখন ফোনটা গালে ঠেকিয়ে কথা বলছেন, ফোনের স্ক্রিনে লেগে থাকা যাবতীয় জীবাণু আপনার তেলতেলে বা শুকনো স্কিনের সংস্পর্শে আসছে, আর তাতে বাসা বাধছে ব্রণ।  তাই চেষ্টা করুন সম্ভব হলে ফোনের স্ক্রিনটা বারবার মুছে নিতে বা ইয়ারফোনে কথা বলতে।  এতে আপনার ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা না আটকালেও ব্রণর সমস্যা মিটবে অনেকটাই।

২.মেক-আপ

আপনাকে যদি রোজ মেক-আপ করতেই হয়, তাহলে তা যে আপনার স্কিনের উপর আসলে একটা অত্যাচার, তা আপনিও জানেন।  কিন্তু আর অন্য কোনও উপায় না থাকলে সপ্তাহে অন্তত একবার মেক-আপের ব্রাশগুলো পরিষ্কার করুন।  আপনার স্কিনের তেলের সাথে মেক-আপের যত গায়ে গায়ে সম্পর্ক হয়, ততই ব্যাকটিরিয়াদের আঁতুরঘর হয় আপনার স্কিন।  যদি নিজের মেক-আপ কিট নিজে ব্যবহার করেন, তবুও সপ্তাহে একবার আপনাকে মেক-আপ ব্রাশগুলো পরিষ্কার করতেই হবে।  সারাদিন মেক-আপ করে থাকতেই হলে, সন্ধের পরে মেক-আপ খুব ভালো করে তুলতে ভুলবেন না।  আপনার মুখের রোমকূপগুলো অক্সিজেন নিতে পারে না মেক-আপের মুখোশে থাকলে, তাই চেষ্টা করবেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেক-আপ তুলে ফেলতে।  নইলে ব্রণ হওয়া কোনওভাবেই কমানো সম্ভব হবে না।

৩. চুলের সাজ সরঞ্জামের ব্যবহার

 

আজকাল চুল কখনও কার্লি চাই, তো কখনও স্ট্রেইট, তাই কখনও চুলের এই স্টাইল দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে ব্যবহার করছেন হেয়ার স্প্রে, আবার কখনও বা ড্রাই শ্যাম্পু।  এই সবই আসলে অজস্র কেমিক্যালের মিশেল।  তাই এগুলো যখন আপনার কপাল চুঁইয়ে মুখে এসে পড়ে, ঘাড়ে গলায় ছুঁয়ে যায়, তখন তার ফলাফলে অজস্র ব্রণ এসে বাধা বাধে আপনার স্কিনে।  কী করবেন তাহলে? চেষ্টা করুন এ জাতীয় জিনিস এড়িয়ে চলতে, নয় তো এগুলোর ব্যবহারের সময়ে মুখ আর ঘাড় গলায় কোনও একটা কাপড় বা মাস্ক জড়িয়ে নিন।

৪.বারবার মুখে হাত দেওয়া

 

আপনি যে হাতে দরজা খুলছেন, কিবোর্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করছেন বা ঘর পরিষ্কার করছেন—সেই হাতই বারবার দিচ্ছেন নিজের গালে, মুখে।  তাহলে আপনার ব্রণ হওয়া কি কেউ আটকাতে পারবে! না পারবে না।  ব্রণ আটকাতে চেষ্টা করুন মুখে বারবার হাত না দিতে।  ওই হাতে থাকা ব্যাকটিরিয়াই ব্রণর সমস্যার উৎস।  তাই বারবার মুখে হাত না দিয়ে বরং হাত ধুতে পারেন অনেকবার।  এতে অনেক সমস্যাই মিটতে পারে।

৫.বালিশের একই ওয়াড়

 

খুব অলস আপনি? আপনার ঘরের চাদর, বালিশের ওয়াড় সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস একই থাকে? তাহলে কিন্তু ব্রণ হবেই।  ওই একই বালিশের ওয়াড়ে আপনার স্কিনের তেল, ঘাম সবকিছু দিনের পর দিন লেগে থাকে।  তাতে বেড ওয়ার্মও বাসা বাধে, আবার অন্যান্য ব্যাকটিরিয়াও সংসার পেতে বসে।  যা আপনাকে সমস্যা দেবে, তাকে অযথা আগলে ধরে সমস্যা বাড়াবেন কি! নাকি তার বদলে একটু কষ্ট হলেও বদলে নেবেন বালিশের ওয়াড়? সমাধান কিন্তু আপনারই হাতে।

অতএব খুব ছোট ছোট কিছু বিষয়ে নজর দিলে আপনি ব্রণদের বিদায় জানাতে পারেন।  আর নিজেকে সুস্থ সুন্দর রাখাটাও সহজ হতে পারে।

Comments are closed.