বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

সব্যসাচী: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা, তবে ইতিমধ্যেই কিছু দায়িত্ব তাপসকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃষ্টি এলেই তিনি ছাতা বার করবেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিধাননগর পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আনার সম্ভাবনা নিয়ে দলকে এমনই বার্তা দিয়ে রাখলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিতর্কিত বিধায়ক তথা বিধাননগরের পুরপ্রধান সব্যসাচী দত্ত। অন্য দিকে, তাঁর উপরে যে দল আর ভরসা রাখছে না সেটাও স্পষ্ট হয়ে গেল তৃণমূল ভবনের বৈঠকে।

বেশ কিছু দিন ধরেই সব্যসাচী দত্তর অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। তিনি দলে থাকছেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বত্র। কিন্তু লোকসভা নির্বাচন কেটে গেলেও সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। প্রকাশ্যে তাঁকে ভর্ৎসনা করতেও ছাড়েননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দিকে, স্পষ্ট জবাব না দিয়ে জল্পনা বাড়িয়েই চলেছেন সব্যসাচী। রবিবার তাঁকে নিয়ে দলের অবস্থান পাকা করতে যখন বিধাননগরের ৩৮ জনের মধ্যে ৩৬ জন কাউন্সিলারই ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে বৈঠকে হাজির, তখনও তাঁর মুখে প্রত্যয়ী বার্তা, “যখন বৃষ্টি নামবে, তখনই ছাতা বের করব।” তবে কি তাঁর ছাতা তৈরি? এই ছাতা কি বিজেপি? না, কোনও উত্তরই স্পষ্ট নয়। তবে সব্যসাচী বুঝিয়ে দিয়েছেন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নিশ্চিন্ত। এমনকী সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলরকে পাশে নিয়ে বিধাননগরের মেয়র পদে থেকে যাওয়ার ব্যাপারেও তিনি যে নিশ্চিন্ত, তা হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন এ দিন।

রবিবার তৃণমূল ভবনের বৈঠকের পরে তৃণমূল নেতাদের একাংশ অবশ্য দাবি করছেন, এ বার সব্যসাচীর গদি যাচ্ছেই। পাক্কা। কারণ, বিধাননগর পুরসভার ৩৬ জন কাউন্সিলরই নাকি সেই বৈঠকে হাজির থেকে সব্যাসাচীর পরিবর্তে তাপস চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছন।

অতীতে ভাটপাড়ায় অনাস্থা প্রস্তাব এনে পুরসভা হারাতে হয়েছে তৃণমূলকে। ঠেকে শেখার পরে বিধাননগর পুরসভা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তের আগে অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোন দিকে কত জন কাউন্সিলার তা নিয়ে দলের মধ্যেই নানা বিভ্রান্তি রয়েছে। এ দিনের বৈঠক ডাকা হয়েছিল জল মাপার জন্যই। সেই কাজটাই করেছেন ফিরহাদ হাকিম। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “বিধাননগর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সবটা দলনেত্রীকে জানানো হবে। তিনি যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবেন।” এটুকু বলেই থামেননি ফিরহাদ। সব্যসাচীর বিরুদ্ধে এ দিনও তির্যক মন্তব্য করেছেন পুরমন্ত্রী। ফিরহাদ বলেন, দলের ভিতরের কথা তিনি বাইরে বলবেন না কারণ, তিনি সব্যসাচী দত্ত নন।

তৃণমূল সূত্রের খবর, এ দিন বৈঠকে হাজির সব কাউন্সিলারই দলের সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছেন। সকলেই বলেছেন, দলনেত্রী যাঁর উপরে দায়িত্ব দেবেন সেটা তাঁরা মেনে চলবেন। এর পরে সব্যসাচীকে সরানোর সিদ্ধান্ত এ দিনই পাকা হয়ে গেলেও চূড়ান্ত ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই করবেন বলে ঠিক হয়েছে। আপাতত দলের পক্ষ থেকে ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়কেই পুরসভার কাজকর্ম দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সব্য়সাচী নন, এখন থেকে মেয়র পরিষদের বৈঠক ডাকবেন তাপস চট্টোপাধ্যায়। আপাতত বিধাননগর পুরনিগমের সব কাজ দেখার দায়িত্বও তাপসের। অর্থাৎ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর আগেই সব্যসাচীর হাতে থাকা যাবতীয় দায়িত্ব তুলে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে সেটা অঘোষিত।

পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে রাজনৈতিক মহলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মহলের ধারণা, খুব শীঘ্রই বিধাননগর পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আসতে চলেছে। আর সেখানেই তৃণমূল কংগ্রেস বনাম সব্য়সাচী দত্ত লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল মিলবে। আর তার আগেই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণাও করে দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Comments are closed.