ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে আগুন! অভিযোগ, ষড়যন্ত্রের শিকার জুনিয়র ডাক্তাররা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনআরএস হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসক পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের মার খাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে চিকিৎসকদের ধর্না-বিক্ষোভ যত বেড়েছে, ততই আরও বেশি করে হামলার মুখে পড়েছেন চিকিৎসকেরা। বর্ধমান, মালদায় রীতিমতো মারধর চলেছে আন্দোলনকারীদের ওপর। অভিযোগ উঠেছে, অ্যাসিডের বোতল হাতে আক্রমণ করা হয়েছে তাঁদের। আর এরকমই অবস্থায় কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের হস্টেলে আগুন! অভিযোগ, দুষ্কৃতীদের আক্রমণ থেকে বাঁচল না হস্টেলও!

    সূত্রের খবর, বুধবার গভীর রাতে আগুন লেগে যায় লিন্টন স্ট্রিটে জুনিয়র ডাক্তারদের হস্টেলে। কিছু ক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল। হতাহতের কোনও খবর নেই। হস্টেলবাসীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক এনআরএস কাণ্ডের জেরে জুনিয়র ডাক্তারদের যে বিক্ষোভ চলছে রাজ্য জুড়ে, সেই কারণেই আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে হস্টেলে। তাঁদের দাবি, ছোড়া হয়েছে কেরোসিন বোমা।

    যদিও কী কারণে আগুন লাগল, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি পুলিশ বা দমকল। তাই আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগে এখনই সিলমোহর দিচ্ছে না প্রশাসন। যদিও জুনিয়র ডাক্তারদের পাল্টা দাবি, যে প্রশাসন এত বছর ধরে মানতেই চায়নি চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনা, এনআরএসে চিকিৎসক পরিবহ মুখোপাধ্যায় মার খাওয়ার সময়েও যে প্রশাসন নীরব ছিল, সে প্রশাসন যে এই আগুন লাগানোর ঘটনাও মানবে না, সেটাই স্বাভাবিক।

    লিন্টন স্ট্রিটে অবস্থিত, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়াদের হস্টেলটি চারতলা। হস্টোলবাসীরা জানিয়েছেন, বুধবার রাত দেড়টা নাগাদ হস্টেলে লক্ষ্য করে কেরোসিন বোমা ছুড়ে পালায় একদল দুষ্কৃতী। সঙ্গে সঙ্গে আগুন লেগে যায় হস্টেলের একতলায় দু’টি ঘরে। যদিও এই ঘটনার সময়ে ঘর দু’টি খালি ছিল বলে জানা গিয়েছে।

    জুনিয়র ডাক্তারদের হস্টেলে এই আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে কিছু ক্ষণ পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের দু’টি ইঞ্জিন। দমকল সূত্রের খবর, মিনিট দশেকের মধ্যে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে জানা গিয়েছে।

    বেনিয়াপুকুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তারদের হস্টেলের কী ভাবে আগুন লাগল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইচ্ছাকৃত ভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হবে। কে বা কারা রাতের অন্ধকারে এমন কাজ করল, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিহ্নিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    তবে কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের ঘটনা যা-ই হোক, তিন দিন ধরে যে কর্মবিরতি চলছে চিকিৎসকদের, তার জেরে সর্বত্র হামলার মুখে পড়তে হয়েছে আন্দোলনকারীদের। দিনভর বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে তাণ্ডব চালিয়েছে একদল দুষ্কৃতী। রাতের অন্ধকারে আক্রান্ত হয়েছে মালদা হাসপাতাল।

    বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তনী এবং বর্তমানে ফার্মাকোলজির শিক্ষক ডক্টর সন্দীপ মুখোপাধ্যায় ঘটনাস্থল থেকে বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছেন, ওপিডি বন্ধ রয়েছে। আতঙ্কের প্রহর পার করার পরে শেষমেশ এমার্জেন্সি খোলা গিয়েছে। নতুন করে আর কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি। তাঁর অনুরোধ, “দয়া করে গুজব ছড়াবেন না। কোনও তথ্য পেলে যাচাই করবেন আগে। বর্ধমানের পরিস্থিতি খুবই উত্তপ্ত। যে কোনও গুজবেই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।”

    আরও পড়ুন…

    #Breaking: ধর্নারত ইন্টার্ন এবং জুনিয়র ডাক্তরদের উপর চড়াও রোগীর পরিজনরা, রণক্ষেত্র মালদা মেডিক্যাল কলেজ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More