রবিবার, নভেম্বর ১৮

আমলাদের চমকাতে গিয়ে মামলার মুখে মুকুল রায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে পা রাখা মাত্রই মুকুল রায়ের বক্তব্য ছিল, বাংলায় পুলিশরাজ চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলাশাসক এবং জেলার পুলিশ সুপারেরাই কার্যত তৃণমূলের জেলা সভাপতির ভূমিকা পালন করছেন বলেও অভিযোগ তাঁর। সেই সঙ্গে জেলায় জেলায় সভা করে স্থানীয় পুলিশ সুপার বা থানার ওসি-কে হুঁশিয়ারি বার্তা দেওয়া শুরু করেছিলেন একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান মুকুল রায়।

কিন্তু এ ভাবে এক বছর চলার পর এ বার এই প্রথম তাঁর বিরুদ্ধে মামলার পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। গত ৫ নভেম্বর পুরুলিয়ার বলরামপুরে সভা করে জেলার পুলিশ সুপার আকাশ মাঘারিয়ার বিরুদ্ধে কয়লা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছিলেন। একই ভাবে জেলাশাসক অলোকেশপ্রসাদ রায়কে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন তাঁর পদোন্নতি আটকে যেতে পারে। এই দুই মন্তব্যের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক ভাবে এফআইআর দায়ের করেছেন পুলিশ সুপার ও জেলা শাসক। অলোকেশপ্রসাদ রায়ের বক্তব্য, জনসভায় দাঁড়িয়ে মুকুল রায় তাঁর ও পুলিশ সুপার সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করার কারণেই দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তৃণমূলের কেন্দ্রীয় সংগঠনের তরফে পুরুলিয়ার পর্যবেক্ষক হলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা ঘটনা নিয়ে তৃণমূল দলীয় তরফে কোনও মন্তব্য না করলেও অভিষেক ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, বার বার ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান। এ বার তোমার পরাণ বিঁধব। তাঁর কথায়, তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে এবং সরকারের কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, মিথ্যা অভিযোগ আনা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন মুকুলবাবু। এবং ক্রমাগত তা করে সরকার ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে চাইছেন। তৃণমূল রাজনৈতিক ভাবে বুঝে নিচ্ছে। কিন্তু আমলা, পুলিশের কর্তারা ছেড়ে কথা বলবেন কেন! তবে পুলিশ সুপার ও জেলাশাসক যা পদক্ষেপ করেছেন, তা তাঁদের ও সরকারের ব্যাপার। এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নবান্নের অনুমতি নিয়েই মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন আকাশ মাঘারিয়া ও অলোকেশপ্রসাদ রায়। এবং বলাবাহুল্য রাজনৈতিক প্রভুর সবুজ সঙ্কেত ছাড়া তা হয়নি।

তবে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, এ ঘটনায় তাঁর মধ্যে কোনও হেলদেল দেখা যায়নি। এফআইআর-এর ব্যাপারে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে মুকুলবাবু বলেন, “যা করেছে ভাল করেছে। ও তাঁরা করতেই পারেন। কিন্তু যে জেলাশাসক আইনশৃঙ্খলার অবনতি দেখিয়ে ৪৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করাতে ব্যর্থ হলেন, তাঁর কি সে পদে আর থাকা উচিত?”

রাজনৈতিক সূত্রের মতে, বাংলায় দল চালাতে গিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব যে বহু ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করছে, সে ব্যাপারে বিরোধীরা অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করছেন। কিন্তু হতে পারে মুকুলবাবু অন্য কৌশল নিয়েছেন। যেহেতু আইপিএস এবং আইএএস কর্তারা সব কেন্দ্রীয় সরকারি ক্যাডার এবং কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার চলছে, তাই তাঁদের মনে একটা ভীতির সঞ্চার করে দেওয়াই হলো মুকুলবাবুর উদ্দেশ্য। যাতে সেন্ট্রাল ক্যাডারের পুলিশ-আমলারা বাংলায় শাসক দলের প্রতি পক্ষপাত না করে নিরপেক্ষতা বজায় রাখেন। কিন্তু তৃণমূলও এই খেলা ধরে ফেলেছে। এবং সম্ভবত সেই কারণে বিজেপি-র রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকদের মনোবল অটুট রাখতে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করার সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে।  

Shares

Comments are closed.