অনেকেই তো মৃত্যুর পরে অঙ্গদান করেন, আমি বেঁচে থাকতেই চুল দিয়ে দিলাম : লাবণ্য

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    মধুরিমা রায়

    ‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য’-  কাব্যগ্রন্থে হোক বা কাছের মানুষের সম্মোহনে, চুলের ভূমিকা বড্ড বেশি আজও, এই ট্রেন্ডি জেন ওয়াই যুগেও।  এমন একটা আবহ এখন, যেখানে কেউ চুলে সবুজ, বেগুনি, লাল, হলুদ রঙ করছেন, তো কেউ আবার নানা রকম কাট-এ নিজেকে সকলের চেয়ে আধুনিক করে রাখতে চাইছেন।  স্রোতের বিপরীতে যাওয়া একটা নাম, লাবণ্য।  লাবণ্য দত্ত, কলকাতা তাঁকে চেনে আর জে লাবণ্য নামে।  কলকাতার প্রথম যুবতী, যিনি ক্যানসার আক্রান্তদের জন্য সাধ করে বাড়ানো ১৮ ইঞ্চি চুল ডোনেট করেছেন।

    কবে থেকে এর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন লাবণ্য? কেনই বা এই ইচ্ছে তাঁকে নাড়া দিল? বাংলায় স্নাতক লাবণ্য বলছেন, “আমরা অনেকে চোখ, কিডনি ইত্যাদি দান করি।  কিন্তু আমার মৃত্যুর পরে সেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করা হয়।  এক্ষেত্রে আমি জীবিত অবস্থাতেই দেখতে পাব কিছু মানুষের ভালোলাগা।  প্রথম দিকে জানতাম না ক্যানসার আক্রান্তদের চুল দিতে হলে অন্তত ১৬ ইঞ্চি লম্বা চুল হতে হয়, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নভাবে সেটা যত্ন করে দিতে হয়।  এখন জানি, দিয়েওছি তাই। ” তিনি পুরো সময়টা ধরে পাশে পেয়েছেন মা , বাবা এবং ‘রোমিং পার্টনার’-এর মতো গ্রুপের সদস্যদের।
    দেখুন তিনি দ্য ওয়াল-কে আরও কী বললেন ভিডিয়োয়

    কলকাতার এফএম চ্যানেলে সকালে বহু মানুষ যে আরজে লাবণ্যকে শোনেন, তিনি বলছেন, “সোনালী বেন্দ্রের ক্যানসারের সময় আমি রিয়েল হেয়ার উইগ বিষয়ে জানতে পারি।  তখন আরও বেশি করে চেষ্টা শুরু করি, কী করে চুল দেওয়া যায় ক্যানসার আক্রান্তদের।  কেমোথেরাপি যাঁদের চলে, তাঁদের এটা ভীষণভাবে দরকার, অথচ কলকাতায় কোনও সংস্থা নেই, যাঁদের সাহায্যে আমার এই কাজটা সহজ হত।  তখনই মুম্বইতে COPE WITH CANCER এর শরণাপন্ন হই।  যাঁরা সত্যিকারের চুল দিয়ে ক্যানসার আক্রান্ত বাচ্চাদের জন্য উইগ তৈরি করে। ”

    প্রথম যখন তিনি এই ভাবনা শুরু করেন, তখন তাঁর চুল ১২ ইঞ্চিরও কম লম্বা ছিল, তাই একটু একটু করে বাড়িয়ে তুলেছিলেন সাধের চুল।  তারপরই কাঁচি চালিয়ে দিলেন কিছু বাচ্চার মুখে হাসি ফোটাবেন বলে।  এর আগে এ রাজ্যেরই উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের উকিলপাড়ার বাসিন্দা, ক্লাস টু-এর ঋষিকা চক্রবর্তী এই কাজে নিজের চুল দিয়েছে। চুল নেই বলে লাবণ্যর এতটুকু সঙ্কোচ নেই, বরং নিজের নামের সাথে সাযুজ্য রেখেই যেন লাবণ্যের দ্যুতি আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়ছে এই পদক্ষেপের পর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More