Latest News

‘দিদি ও দিদি!’ বহিরাগতর জবাবে হঠাৎ কেন উঁচু গলায় প্রধানমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় দশ বছর শাসন করার পর তৃণমূলের এবার প্রধান ইস্যু হল বাঙালি ও বাঙালিয়ানা। বিজেপি বহিরাগত। বাংলা নিজের মেয়েকে চায়! আর তা করতে গিয়ে কখনও বিজেপিকে গুজরাতের পার্টি বলছে, কখনও বা বলছে ট্যুরিস্ট।

এই সমালোচনার জবাব যে বিজেপি এর আগে দেয়নি তা নয়। কখনও ব্যাখ্যা দিয়েছে। কখনও দিদির সহযোগী প্রশান্ত কিশোরকে বহিরাগত বলে আক্রমণ ঠেকাতে চেয়েছে। কিন্তু কোথাও যেন আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল বলে মনে করছিলেন অনেকেই। কিন্তু বুধবার এই প্রথম, গলার স্বর চড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছোড়ার মতো করেই প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বললেন, ‘দিদি ও দিদি এখানে কোনও ভারতবাসী বহিরাগত নয়।’ প্রধানমন্ত্রীর বলার ধরন না দেখলেই নয়!

দেখুন ভিডিও।

প্রশ্ন হল, কেন এতটা জোরের সঙ্গে এ কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী? তার পষ্টাপষ্টি জবাব বিজেপির কেউ দেয়নি। তবে তা বোঝার জন্য দুটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। এক: অতীতে টুজি স্পেকট্রাম নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে, তখন ঘরোয়া আলোচনায় একবার প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, দল ইস্যুটা হ্যান্ডেল করতে পারছে না। আসলে মুখপাত্ররা যদি নিজেরাই মনে করেন যে দুর্নীতি হয়েছে, তা হলে মোকাবিলার করার আত্মবিশ্বাস পাবেন কোথা থেকে! টুজি কাণ্ডে পরে সুপ্রিম কোর্টে কিন্তু দুর্নীতি প্রমাণিত হয়নি।

দুই: নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামীরা বলছেন, উনি নন্দীগ্রামে বহিরাগত। দেখা যাবে, মমতার আত্মবিশ্বাস কিন্তু টলেনি। বরং প্রথম দিনই গলা চড়িয়ে বলেছেন, আমি বাংলার মেয়ে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, আমাকে বলছে কিনা বহিরাগত!

সেই অর্থে প্রধানমন্ত্রী বা অমিত শাহও বাংলায় বহিরাগত নয়। কিন্তু এতটা দাপটের সঙ্গে কবে বলতে পেরেছেন দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্যরা। তাঁদের যেহেতু রাজনৈতিক ভাবে দিল্লির নেতৃত্বের উপর অতি নির্ভরশীলতা রয়েছে তাই বলতে পারেননি। বুধবার সেই কাজটা তাই প্রধানমন্ত্রীই করে দিলেন। এবং তার যা সাড়া প্রধানমন্ত্রী এদিন কাঁথির সভায় পেয়েছেন তাও লক্ষ্য করার মতো।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এর অন্য অর্থও করা যেতে পারে। তা হল, গত কয়েক দিনে প্রধানমন্ত্রী খড়্গপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ব্রিগেডে যে সাড়া পেয়েছেন, তাতে তাঁর আত্মবিশ্বাসও বাংলায় পেয়েছেন। তা ছাড়া গত কয়েকদিন ধরে বান্দোয়ানে দিলীপ ঘোষের সভা হোক বা নয়াগ্রামে শুভেন্দুর সভা কিংবা মেদিনীপুরে অমিত শাহর রোড শো—সবেতেই দৃশ্যত ভাল সাড়া পেয়েছে বিজেপি। তা অক্সিজেন যোগাচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে।

প্রধানমন্ত্রী এদিন কাঁথিতে বলেন, “এই বাংলা বন্দে মাতরম ধ্বনিতে গোটা দেশকে ভারতের ভাবনায় আবদ্ধ করেছিলেন। সেই বাংলায় মমতা দিদি বহিরাগতর কথা বলছেন? বহিরাগত? এই ভূমি বঙ্কিমবাবু, সুভাষ বসুর, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, মাতঙ্গিনী হাজরার বঙ্গভূমি আর ভারতভূমি। আমরা সবাই ভারতভূমির সন্তান। এই ভূমিতে কোনও ভারতবাসী বহিরাগত নয়”। তাঁর কথায়, “এই বাংলা থেকে গুরুদেব গোটা দেশকে এক মালায় গেঁথেছেন। আর সেখানে কিনা কখনও ট্যুরিস্ট বলা হচ্ছে, কখনও মজা করা হচ্ছে, অপমান করা হচ্ছে? গুরুদেবের বাংলা কাউকেই বহিরাগত বলে মানে না।” তবে একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন এই বাংলারই কোনও সন্তান।

প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে চান, প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা থেকে মুখ লুকোনোর জন্য মমতা এ সব কথা বলছেন। মোদীর কথায়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্যায় শাসককে হিসাব দিতে হয়। দশ বছর ক্ষমতায় থাকার পর দিদিকেও পাই পাই হিসাব দিতে হবে। কিন্তু মানুষ হিসাব চাইলে উনি গালি দিচ্ছেন। বাংলায় শান্তির পরিবেশ নেই, স্থিরতা নেই। এ প্রসঙ্গে অসমের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অসমে শান্তি ফিরে এসেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা মূল স্রোতে যোগ দিয়েছে। আর বাংলায় এখনও বোমা বন্দুকের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। বোমে গোটা বাড়ি উড়ে যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু সে সব দেখে যাচ্ছেন। তা বন্ধ করতে কিছুই করছেন না।

You might also like