Latest News

পুরনো মুকুল রায়! কৃষ্ণনগরে প্রচারে নামার আগেই গেলেন জেলার পুলিশ সুপারের অফিসে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলে যখন সেকেন্ডম্যান ছিলেন, রাজ্য রাজনীতিতে অনেকেই তাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাণক্য বলতেন। কেউ বা বলতেন, ভোটের বুদ্ধিতে উনি তৃণমূলের অনিল বিশ্বাস!

সেই তিনি মুকুল রায়, যেন এতোটুকুও বদলাননি। বিশ বছর বাদে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। কৃষ্ণনগর উত্তর আসনে তাঁকে প্রার্থী করেছেন অমিত শাহ-কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা। বৃহস্পতিবার তা ঘোষণা হয়েছে। তার পর আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে কৃষ্ণনগরে প্রচারে নামার আগে মুকুল রায় সোজা পৌঁছে গেলেন জেলা পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ ঘোষের সঙ্গে দেখা করতে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নদিয়া জেলায় বিজেপির আরও দুই প্রার্থী। কৃষ্ণনগর দক্ষিণ আসনের প্রার্থী মহাদেব সরকার ও নবদ্বীপের প্রার্থী সিদ্ধার্থ নস্কর।

জেলা পুলিশ সুপারের অফিস থেকে বেরিয়ে মুকুলবাবু অবশ্য বলেন, “এটা এমন কিছু নয়, সৌজন্য সাক্ষাৎ।”
সূত্রের মতে, মুকুল রায় সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করেননি। সত্যি কথাটাই বলেছেন। এদিনের সাক্ষাতে সৌজন্যের অতিরিক্ত কিছু হয়নি। কিন্তু মুকুল ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এই সৌজন্যটাই তো রাজনীতি। আরও স্পষ্ট করে বললে, চাপের রাজনীতি। হয়তো হাসিমুখেই মুকুলবাবু বোঝাতে চেয়েছেন, আপনি ভাল তো আমিও ভাল।

উনিশের লোকসভা ভোটের আগে নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খুন হয়েছিলেন। সেই খুনের ঘটনা ঘটতেই মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। তার পর অচিরেই মামলায় মুকুল রায়ের নাম জড়ায়। চার্জশিটে তাঁর নাম রাখা হয়। এমনকি আদালতের নির্দেশে উনিশের ভোটের সময়ে নদিয়া জেলায় প্রবেশাধিকার পাননি মুকুলবাবু।

বস্তুত ১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মুকুলবাবু অভিযোগ করছেন, বাংলায় পুলিশ রাজ চলছে। পুলিশ দিয়ে দল চালাচ্ছেন মমতা। জেলার পুলিশ সুপাররা তৃণমূলের জেলা সভাপতির মতো আচরণ করছেন কোথাও কোথাও। মুকুলবাবু দল ছাড়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে চল্লিশটা মামলা দায়ের হয়েছে। যে সব মামলার অনেকগুলিই খারিজ হয়ে গেছে, কিছু এখনও জিইয়ে রয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, সঙ্গে দু’জন বিজেপি প্রার্থী নিয়ে গিয়েও হয়তো বার্তা দিতে চেয়েছেন মুকুলবাবু। কারণ, কৃষ্ণনগর উত্তরের আসনটি জেতার জন্য অমিত শাহরা মুকুলবাবুকে নদিয়ায় প্রার্থী করেছেন বলেন মনে করা হচ্ছে না। হয়তো গোটা নদিয়ায় ভাল ফল করার জন্য মুকুল রায়ের উপর নির্ভর করছে দল। মুকুলবাবুও এদিন দেখাতে চাইলেন, তিনি শুধু একার জন্য লড়ছেন না। গোটা নদিয়া জেলায় বিজেপির জন্য লড়ছেন।

কাঁচরাপাড়ায় বাড়ি হলেও মুকুলবাবু ইদানীং সল্টলেকের একটি গেস্ট হাউজেই বেশিরভাগ দিন থাকেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে যান। তবে মনে করা হচ্ছিল, নদিয়ার ভোটটা তিনি কাঁচরাপাড়া থেকেই করবেন। কিন্তু এদিনই কৃষ্ণনগরে হোটেল ভাড়া নিয়েছেন মুকুলবাবু। ভোট পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে।

You might also like