Latest News

ধরে আসছে গলা, হাঁপিয়ে যাচ্ছেন, তবু বুদ্ধবাবু কথা বললেন ৩ মিনিট ৪১ সেকেন্ড

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি গীতবিতান মুখস্থ বলতে পারতেন একসময়ে। জীবনানন্দ থেকে সুকান্ত, গার্সিয়া মার্কেজ থেকে শক্তি আবৃত্তি করতেন অনায়াসে। তাঁর গলায় ছিল এক অন্য গাম্ভীর্য! কিন্তু একুশের ভোটে রাজ্য সিপিএম বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের যে অডিও বার্তা প্রকাশ করল তা শুনলেই ঠাওর করা যাচ্ছে তাঁর শারীরিক অবস্থা ঠিক কতটা খারাপ।

গলা ধরে আসছে। অডিওটি শুনলেই বোঝা যাচ্ছে, হাঁপিয়ে যাচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তবু বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা যেন বলতে চাইলেন তাঁর মনের কথা। সুস্থ থাকলে হয়তো সভা করে বেড়াতেন রাজ্যজুড়ে। কিন্তু তা যখন হচ্ছে না তখন তিন মিনিট ৪১ সেকেন্ডেই সার্বিক ভাবে নিজেরব বার্তা রাখার চেষ্টা করলেন।

তিনি সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের অভিযোগ তুলেছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এ রাজ্যে গত ১০ বছরে কৃষি ও কৃষক চরম সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে। সেইসঙ্গে স্তব্ধ শিল্পায়ন। যা রাজ্যের যুব সমাজকে এক অন্ধকারের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। তাঁর কথায় এ রাজ্যে শাসকদলের কর্মীদের সঙ্গে সমাজবিরোধীরা মিলেমিশে চলেছে গত ১০ বছর ধরে। যা রাজ্যের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে।

বুদ্ধবাবু বলেছেন, একদিকে তৃণমূলের স্বৈরাচারী শাসন অন্যদিকে বিজেপির আগ্রাসন রাজ্যকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সেইসঙ্গে তাঁর আরও বক্তব্য, এই সময়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বাম-কংগ্রেস ও আইএসএফের যৌথ মঞ্চ। তিনি আবেদন জানিয়ে বলেছেন, এই শক্তি সরকার গড়লে বিপদগ্রস্ত গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করবে।

চোদ্দ বছর আগের ঘটনা নিয়ে রবিবার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিশির অধিকারী আর শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বলেছিলেন, বাপ-ব্যাটা পারমিশন না দিলে সেদিন নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢুকতে পারত না। চব্বিশ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই সোমবার পাম এভিনিউর বাড়িতে শুয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নীরবতা ভেঙেছিলেন বিবৃতিতে তিনি লেখেন, “উল্লেখযোগ্য কোনও শিল্প আসেনি গত এক দশকে। নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরে এখন শ্মশানের নীরবতা। সেসময়ের কুটিল চিত্রনাট্যের চক্রান্তকারীরা আজ দুভাগে বিভক্ত হয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি করছে।”

এদিন অডিও বার্তাও দিলেন বুদ্ধবাবু। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বাংলা সিপিএমের এখনও যে বুদ্ধবাবুই একমাত্র মুখ তা ফের বোঝা গেল এদিন।

You might also like