Latest News

‘মমতার হিম্মত থাকলে স্পষ্ট করে বলুন ভুল হয়েছিল’, দিদিকে মুখোমুখি বিতর্কের চ্যালেঞ্জ অধীরের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড পজিটিভ হলেও তাঁর গায়ে তেমন জ্বর নেই। কিন্তু কথার ঝাঁঝে যেন রাজনীতির উত্তাপ বাড়িয়ে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর মোদ্দা কথা, মোদী-মমতায় আঁতাঁত রয়েছে। সেই আঁতাঁত সময়োত্তীর্ণ, যুগোত্তীর্ণ। গুজরাত দাঙ্গার সময় থেকে তা চলছে।

এদিন অধীরবাবু বলেন, “দিদি আর ভাইপো দু’জনকে বলছি, আপনারা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের প্রশ্ন করুন, কদিন আগে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একা একা দেখা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী আলোচনা করে এলেন? মানে কী সেটিং করে এলেন? ভাইপো আর তাঁর পরিবারের এক জনকে ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সব চুপচাপ হয়ে গেল! কেন চুপচাপ হয়ে গেল? কোন জাদুতে? কোন আঠায় তাদের মুখবন্ধ হল, কেনই বা তাদের হাত-পা তদন্ত তল্লাশি আর নড়ছে না চড়ছে না!”

এই সাম্প্রতিক থেকেই অতীতের দিকে হেঁটেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিনি বলেন, গোধরা কাণ্ডের পর নরেন্দ্র মোদী যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হলেন, তখন দিদি লাল গোলাপের গুলদস্তা পাঠিয়েছিলেন। দিদি এত যদি ধর্মনিরপেক্ষ হন, তা হলে গুজরাত দাঙ্গার পরেও কেন বিজেপির সঙ্গে জোটে ছিলেন?

অধীরবাবু এখানেই থামেননি। তাঁর কথায়, দিদি বিজেপির থেকে অনেক পেয়েছেন। প্রতিদানও দেওয়ার শপথ রয়েছে নিশ্চয়ই। কোনও গ্যারান্টি নেই যে সরকার গড়তে বিজেপিকে সাহায্য করবে না তৃণমূল।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, আমাদের এই ধারণা যদি ভুল হয় তা হলে মমতা প্রকাশ্যে বলুন, যে আগে বিজেপির হাত ধরে ভুল হয়েছিল। উনি বলুন, সেই ভুল আর করবেন না।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মালদহ ও মুর্শিদাবাদে ভোট হবে শেষ দু দফায়। তার আগে কৌশলগত ভাবে অধীর চৌধুরী এই কথাগুলো বলেছেন। এই দুই জেলায় সংখ্যালঘু ভোট বেশি। শীতলকুচির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই জেলাগুলিতেও সংখ্যালঘু ভোটের মেরুকরণ ঘটাতে চাইছে তৃণমূল। আর তারই পাল্টা হিসাবে অধীর চৌধুরী বোঝাতে চাইছেন, বিজেপি বিরোধিতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তা বোঝাতে অধীরবাবু পুরনো দৃষ্টান্ত দেখাতে চাইছেন।

যেমন, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেছেন যে, মনমোহন জমানায় বাংলাদেশের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তিতে মমতা রাজি হননি। মোদী জমানায় এক কথায় তাতে সায় দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ওমনি দেখা যায়, সারদা তদন্তে সিবিআইয়ের গতি শ্লথ হয়ে গেছে। পরে জানা যায়, মমতা নিয়মিত মোদীকে ফুল, মিষ্টি, কুর্তা পাঠান। গডকড়িকে নিজে রান্না করে খাবার পাঠান। অমিত শাহকে জন্মদিনে হলুদ গোলাপ পাঠান।

অধীরবাবু ছাড়াও সংযুক্ত বাকি নেতারাও একই কথা বলছেন। সূর্যকান্ত মিশ্রদের কথায়, মোদী-মমতার মডেল এক। একই রকম স্বৈরাচারী, একই রকম সাম্প্রদায়িক। আর আব্বাস সিদ্দিকি বলছেন, বাংলায় এনআরসি চালু করার প্রথম দাবি তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল অবশ্য বারবার বোঝাতে চেয়েছে, বাংলায় বাম-কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা কমেছে। তা ফেরানোর জন্যই তারা তৃণমূলকে এভাবে আক্রমণ করছে।

You might also like