বুধবার, মার্চ ২০

আফ্রিকার পালাবদলের ময়দানে আজও তুরুপের তাস হয়ে আছে সামরিক অভ্যুত্থান

রূপাঞ্জন গোস্বামী

৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ভোর ৪:৩০ মিনিট। খনিজ তেল সম্বৃদ্ধ আফ্রিকার দেশ গ্যাবনের সেনাবাহিনীর একটি দল গ্যাবনের জাতীয় রেডিও স্টেশনে অতর্কিতে হানা দেয়। এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে জাতীয় রেডিও স্টেশন কব্জায় এনে দেশের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তারা। গ্যাবনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আলি বংগো ওডিম্বা স্ট্রোকের কারণে গত নভেম্বর মাস থেকে মরক্কোতে চিকিৎসার জন্য আছেন। কিছুদিন আগে মরক্কোর টেলিভিশনে গ্যাবনের ৫৯ বছর বয়স্ক প্রেসিডেন্ট একটি ভাষণ দেন দেশবাসীকে উদবুদ্ধ করার জন্য। রোগশয্যায় শুয়ে থাকা প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থা দেখে, গদি দখলের আশায় গ্যাবনের সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য সামরিক অভ্যুথান ঘটিয়ে ফেলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট আলি বংগো ওডিম্বাকে গদিচ্যুত করার চেষ্টা অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয় গদি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। দুপুরের মধ্যেই সামরিক অভ্যুত্থানকে দমন করে ফেলে গ্যাবন সরকার। এক সময়ের পপ গায়ক আলি বংগো ওডিম্বা এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীও ছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদে আছেন মাত্র ১০ বছর। যদিও তাঁর পরিবার গ্যাবন দেশটি চালাচ্ছে ১৯৬৭ সাল থেকে। তাঁর বাবা ওমর বংগোর মৃত্যুর পর মসনদে বসেন ওডিম্বা। তাঁর ভাবনা, পরিবারতন্ত্র চলছে চলবে।

গ্যাবনের রেডিও স্টেশন দখল করে বেতারে বক্তব্য রাখছে সেনারা

সামরিক অভ্যুথান আফ্রিকার কাছে নতুন নয়। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে আফ্রিকা দেখে আসছে সামরিক অভ্যুথান ও স্বৈরাচারী শাসন।  এই আফ্রিকাতেই, বেশিরভাগ দেশের রাষ্ট্রপতিরা বছরের পর বছর ধরে ক্ষমতার গদি আঁকড়ে পড়ে থাকেন। না সরালে সরতে চান না। জানলে অবাক হতে হয়,  ২০১০ সাল থেকে, রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থাতেই স্বাভাবিক বার্ধক্যের কারণে মারা গেছেন ৫ জন স্বৈরাচারী শাসক। এই আফ্রিকা মহাদেশে সাতজন রাষ্ট্রপতি আছেন, যাঁরা দুই দশকের ওপর দেশের ক্ষমতা দখল করে আছেন।

শুধু গ্যাবনের প্রেসিডেন্ট বংগো নন, রোগশয্যায় শুয়ে দেশ চালাচ্ছেন নাইজেরিয়ার সত্তরোর্ধ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদু বুহারিও। এই প্রেসিডেন্ট আবার ২০১৭ সালের পুরোটাই কাটান বিদেশে রোগশয্যায় শুয়ে। তাঁর রোগের কারণ অজানা। তিনি কোথায়, তিনি জীবিত না মৃত, কেউ জানেন না। অবস্থা এমন গিয়ে দাঁড়ায়, গতমাসে  তাঁকে টেলিভিশনের সামনে এসে জানাতে হয়, যে তিনি মারা যাননি। বা তাঁর হয়ে তাঁর ডামি বা নকল কেউ মোহাম্মাদু বুহারি সেজে দেশ চালাচ্ছেন না। শরীরের জরাজীর্ণ  অবস্থা নিয়েও তিনি ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন। ওদিকে, আলজিরিয়ার মানুষরাও তাঁদের প্রেসিডেন্ট ৮১ বছরের আবডেল আজিজ বৌতেফিকাকে নিয়ে প্রায় ধন্দে থাকেন। তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায় না। লোকচক্ষুর আড়ালে থেকেও এ বছর আবার তিনি নাকি পঞ্চমবারের জন্য মসনদে বসতে চলেছেন।

গ্যাবনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আলি বংগো ওডিম্বা

এই ধরণের নড়বড়ে নেতাদের জন্যই, মিলিটারির তরুণ তুর্কি সেনানায়করা সামরিক অভ্যুত্থান ঘটাবার চেষ্টা করে থাকেন।    ১৯৮০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত আফ্রিকায় ৩৮টি সফল সামরিক অভ্যুথান হয়েছে। তারপর থেকে ১৯ বছরে মাত্র ১৫টি সামরিক অভ্যুত্থান দেখেছে আফ্রিকা। তবে আফ্রিকায় সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনা ক্রমশ কমছে। অনেকে এটাকে আফ্রিকায় গণতন্ত্র বিকাশের লক্ষণ বলে মনে করছেন। কিন্তু এর আসল কারণ, আফ্রিকার দেশগুলির বর্তমান প্রেসিডেন্টরা, কুর্সিতে বসেই আগে সেনাবাহিনীর মন জয় করার চেষ্টা করেন। তারও আগে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর জেনারেলদের পদে বসিয়ে দেন আত্মীয়দের। দেশের সেনাবাহিনীকে দূর্বল করতে, সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন গ্রুপে ভেঙে দেওয়া হয় এবং সেনাদের একটি দলকে অপর দলের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে, একদল বিদ্রোহ করলে অন্যদল সেটা দমন করতে নামে। সুরক্ষিত থাকে প্রেসিডেন্টের গদি। সাম্প্রতিক অতীতে আফ্রিকায়,  একটাই সফল সামরিক অভ্যুত্থান দেখা গেছে। ২০১৭ সালে জিম্বাবোয়ের ৯৩ বছরের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে-কে গদিচ্যুত করে সে দেশের সেনাবাহিনী।

তবে কয়েক দশক ধরেই আফ্রিকাতে সামরিক অভ্যুত্থান রুখতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সেনা অভ্যুত্থান নিয়ে অনমনীয় মনোভাব নিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। তবে কখনও কখনও আফ্রিকান ইউনিয়ন অভ্যুত্থানের সময় ধৃতরাষ্ট্রের ভুমিকা গ্রহণ করে। যেমন জিম্বাবোয়ের মুগাবের বিরুদ্ধে সেনা অভ্যুত্থান হয় তখন আফ্রিকান ইউনিয়ন মুখে কুলুপ এঁটে ছিল। কারণ মুগাবে তাঁর দেশে জনপ্রিয়তা হারিয়েছিলেন। একটার পর একটি ঘটনায় প্রমাণ হয়ে গেছে আফ্রিকান ইউনিইয়নের দ্বিচারিতা। বুরকিনা ফাসোর ঘটনায় আবার দেখা গেছে, আফ্রিকান ইউনিয়ন সে দেশের শাসন মিলিটারির হাত থেকে ক্ষমতা নিয়ে নিয়ে দেশের জনতার হাতে তুলে দিতে আগ্রহী। ২০১৫ সালে বুরকিনা ফাসোতে মিলিটারিরা সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সে দেশের প্রেসিডেন্টকে গদিচ্যুত করেছিল।।

বুরকিনা ফাসোর সেনা অভ্যুত্থানের নেতা কর্নেল আইজ্যাক জিদা

আফ্রিকা মহাদেশের রাষ্ট্রগুলিতে সামরিক অভ্যুত্থান একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৫২ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে আফ্রিকার ৩৩টি দেশে মোট ৮৫ বার সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকাতেই ৪২ বার ঘটেছে এই ঘটনা। অধিকাংশ সামরিক অভ্যুত্থানই সংঘটিত করা হয়েছিল দেশগুলির নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে। ২৭ বার সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল সামরিক জুন্টার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে পাঁচবার  সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত করা হয়েছিল নির্মম গণহত্যার মাধ্যমে।

আফ্রিকায় স্বৈরতন্ত্রের শীর্ষ তিন মুখ 

ইদি আমিন দাদা (শাসনকাল ১৯৭১-১৯৭৯)

তাঁর শয়ন কক্ষের ফ্রিজে নাকি টুকরো টুকরো করে রাখা থাকতো তাঁর শত্রুদের লাশ। তিনি সেগুলি পানীয় সহযোগে কাবাব বানিয়ে খেতেন। এটা হয়তো কল্পিত কাহিনী, কিন্তু এই কাহিনীই উগান্ডার জনমানসে ইদি আমিনের ভাবমূর্তিকে প্রতিফলিত করে। ইদি আমিন ছিলেন উগান্ডার তৃতীয় রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত উগান্ডা শাসন করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ জানুয়ারি উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ওবেতে যখন রাষ্ট্রীয় সফরে সিঙ্গাপুরে, তখন ইদি আমিন এক সেনা অভ্যুথানের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতা দখল করে নেন। আগের প্রেসিডেন্ট অত্যাচারী ছিলেন, তাই প্রথমদিকে উগান্ডাবাসী ইদি আমিনকে নিজেদের রক্ষাকর্তা বলে মনে করলেও, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দেশবাসীর ভুল ভেঙে যায়। ইদি আমিন নিষ্ঠুরভাবে তাঁর রাজনৈতিক সমালোচকদের দমন করতে শুরু করে। তাঁর আইনে শাস্তি মানেই ফায়ারিং স্কোয়াডে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া। দাম্ভিক, অহঙ্কারী, সেচ্ছাচারী এই শাসক স্কুলের গন্ডি না পার হলেও নিজেকে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী হিসেবে দাবী করতেন। তিনি নিজেকে পৃথিবীর সমস্ত মানুষ,পশু,পাখী ও সমুদ্রের মৎসকুলের মালিক বলেও দাবি করতেন।  সেনা অভ্যুথানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর নিজে যে উপাধি গ্রহণ করেন, তাতে তাঁর মস্তিষ্কের সুস্থতা নিয়েও সন্দেহ জাগে। হাস্যকর উপাধিটি হলো,  “His Excellency, President for Life, Field Marshal Al Hadji Doctor Idi Amin Dada, VC, DSO, MC, Lord of All the Beasts of the Earth and Fishes of the Seas and Conqueror of the British Empire in Africa in General and Uganda in Particular“। তবে এই স্বৈরাচারী সেনাশাসকের মৃত্যুটি কিন্তু তাঁর বর্ণময় জীবনের মতো রাজকীয় হয়নি। গণবিদ্রোহের ফলে পালিয়ে যেতে হয়েছিল দেশ থেকে। লিবিয়ায় ১০ বছর লুকিয়ে থাকার পর, চলে যান সৌদি আরবে। নির্বাসিত অবস্থাতেই  ২০০৩ সালের ১৬ আগস্ট মারা যান ‘বুচার অফ উগান্ডা’ হিসেবে কুখ্যাত ইদি আমিন দাদা।

কুখ্যাত সেনানায়ক ইদি আমিন দাদা

মুয়াম্মার গদ্দাফি ( শাসনকাল ১৯৬৯-২০১১)

তিনি নাকি পুরুষদের বিশ্বাস করতেন না। তাই তাঁর বিশ্বাসভাজন দেহরক্ষীরা সবাই ছিলেন মহিলা। গদ্দাফির কোনও মেয়েকে পছন্দ হলে নাকি এই প্রমীলা বাহিনী সেই হতভাগ্য মেয়েটিকে জোর করে তুলে আনত। গদ্দাফির শয্যায় ছিন্নভিন্ন হওয়া হতভাগ্য মেয়েটিকে পরের দিন সেই প্রমীলা বাহিনীই বাড়ি ফেরত দিয়ে আসতো প্রচুর টাকা পয়সা দিয়ে। ১৯৬৯ সালে এক রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজা ইদ্রিসকে সরিয়ে ক্ষমতায় কেড়ে নেন সেনাবাহিনীর তরুণ অফিসার ২৭ বছরের কর্নেল গদ্দাফি। লিবিয়ার মানুষ সেদিন কর্নেল গদ্দাফিকে বিপুলভাবে স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু  ক্ষমতার মোহে পড়ে কর্নেল গদ্দাফি হয়ে ওঠেন এক নৃশংস একনায়ক। কারও আচরণে সন্দেহ হলে, ইদি আমিনের মতোই তিনি সামান্য কারণে মৃত্যুদন্ড দিতেন বিরোধীদের। কর্নেল গদ্দাফির ৪২ বছরের একচ্ছত্র শাসনের ভয়ঙ্কর সমাপ্তি ঘটে  ন্যাটো বাহিনী ও লিবিয়ার বিদ্রোহী ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল গেরিলাদের  যৌথ আক্রমণে। ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর নিজের জন্ম শহর সির্তে-তে বিদ্রোহী সেনাদের হাতে ধরা পড়েন। দোর্দন্ডপ্রতাপ একনায়ক কর্নেল গদ্দাফি সেখানে দু’মাস ধরে জলের বড় পাইপের মধ্যে লুকিয়েছিলেন। ধরা পড়ার পর নির্মম অত্যাচার চালায় এনটিসি গেরিলারা। পরে গুলি করে মেরে ফেলা হয় তাঁকে।

লিবিয়ার স্বৈরশাসক কর্নেল মুয়াম্মার গদ্দাফি

রবার্ট গ্যাব্রিয়েল মুগাবে (শাসনকাল ১৯৮৭-২০১৭)

ইনি একবার বলেছিলেন, “আমি আমার একশ বছর হওয়া পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের শাসক থাকবো।” এছাড়াও তিনি দাবি করতেন, “একমাত্র ঈশ্বর পারেন আমকে ক্ষমতা থেকে সরাতে”। কিন্তু বিধি বাম, তাই ৯৩ বছর বয়েসেই ক্ষমতা হারান  সেনাবাহিনীর চাপে। ততক্ষণে দেশকে শাসন করে ফেলেছেন প্রায় ৩৭ বছর। রবার্ট মুগাবের একের পর এক ভুল পদক্ষেপের শিকার হয়ে জিম্বাবুয়ের অর্থনীতি প্রায় শেষ হয়ে যায়। দেউলিয়া হতে বসা দেশটির ক্ষমতা মুগাবের কাছ থেকে ২০১৭ সালে ছিনিয়ে নেন জিম্বাবুয়ের সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলকে আমল দিতে চাননি বর্তমান বিশ্বের বয়স্কতম প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। সেনার হাতে গৃহবন্দি থাকা অবস্থাতেও ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন পশ্চিমি কিছু দেশের প্রচ্ছন্ন মদতে। অথচ মুগাবের পদত্যাগের দাবি নিয়ে সে দিন জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারে হয়েছিল উত্তাল।

জিম্বাবোয়ের সাবেক স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে

এছাড়াও যাঁরা অতীতে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন 

কুখ্যাত সেনাশাসক সিয়াদ বারে  ১৯৬৯ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সোমালিয়ার ক্ষমতা দখল করেন। তিনি ১৯৬৯ থেকে টানা ৩২ বছর সোমালিয়া শাসন করেন। ১৯৯১ সালে সে দেশের বিরোধী গোষ্ঠীগুলির সামরিক মদতে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। মোবুতু সেসে সেকো ১৯৬৫ সালে কঙ্গোর ক্ষমতা দখল করেন, দেশ চালান প্রায় ৩২ বছর। ১৯৬৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ঝাড়া ৪২ বছর ধরে গ্যাবন শাসন করেছেন ওমর বঙ্গোনাসিংবে ইয়াদেমা টোগোর প্রেসিডেন্ট ছিলেন ১৯৬৭ থেকে ১৯৯৪ পর্য্যন্ত। সুদানের প্রেসিডেন্ট গফফর নিমেইরি দেশ শাসন করেছেন ১৯৬৯ থেকে ১৯৮৫ সাল। গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া জামেহ। দেশ চালিয়েছেন ১৯৯৪ থেকে ২০১৭ সাল অবধি। পশ্চিম আফ্রিকার গায়ানার সেকাউ ত্যুরে দেশ শাসন করেছিলেন ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল অবধি।

সোমালিয়ার কুখ্যাত সেনাশাসক সিয়াদ বারে

বর্তমানের একনায়করা

পল কাগামে, ২০০০ সাল থেকে গত ১৮ বছর ধরে রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন। পল বিয়া ৪২ বছর ধরে ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আছেন। ওবিয়াং নগুয়েমা মোবাসোগো , ১৯৭৯ সালে এক রক্তক্ষয়ী এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নিজের কাকা ফ্রান্সিস্কো ম্যাকিয়াস নওয়েমা মোবাসোগোকে হত্যা করে, ইকুয়েটরাল গায়নার ক্ষমতা দখল করে নেন। তারপর থেকে  ক্ষমতায় আছেন তিনি। ক্ষমতায় এসে ওবিয়াং ঘোষণা করেছিলেন তিনিই দেশের ‘ঈশ্বর’। এবং তিনিই আইন, তিনিই আদালত। বিচার করে যেকোনও মানুষকে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার  ক্ষমতা রাখেন। জেনারেল ইদ্রিস দেবে, ২৯ বছর ধরে আফ্রিকার চাদ নামক দেশটির প্রেসিডেন্ট হয়ে বসে আছেন। তিনি পাঁচ বছর পর পর নির্বাচনের আয়োজন করে আসছেন। জেনারেল দেবে সেই নির্বাচনে একাই প্রার্থী থাকেন। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিপুল ভোটে প্রতিবারই জয়লাভ করেন।এই ‘গণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী’ শাসক। ওমর আল বশির সুদান শাসন করছেন ১৯৮৯ থেকে। মিশরের মিলিটারি অ্যাকাডেমির ছাত্র ওমর আল বশির, ১৯৮৯ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সুদানের ক্ষমতা দখল করেন। তারপর থেকেই তিনি সুদানের প্রেসিডেন্ট হয়ে বসে আছেন। জোস এডুয়ার্ডো ডস স্যান্টোস ১৯৭৯ সাল থেকে আঙ্গোলার প্রেসিডেন্ট পদে থেকে সেচ্ছাচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইকুয়েটোরিয়াল গিনির নির্মম একনায়ক ওবিয়াং নগুয়েমা মোবাসোগো

 অতঃপর!

আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলিতে অভ্যুত্থানের সংখ্যা হয়তো কমেছে, কিন্তু সর্বোচ্চ পদের জন্য রাজনৈতিক সংঘর্ষ কমেনি। আফ্রিকার প্রত্যেকটি দেশেই রাষ্টপতির কার্যকাল নির্ধারিত। কিন্তু ২০০০ সাল থেকে দশটি দেশের প্রেসিডেন্ট, কুর্সিতে থাকার জন্য দেশের সংবিধানই পালটে দিয়েছেন। আফ্রিকা মহাদেশে প্রেসিডেন্টদের গড় বয়েস বাড়ছে। ১৯৮০ সালে আফ্রিকার প্রেসিডেন্টদের গড় বয়েস ছিল ৫২। এখন এসে দাঁড়িয়েছে ৬৬ বছরে। এর কারণ হলো স্বৈরাচার, রুগ্ন গণতন্ত্র ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষমতায় ছিনে জোঁক হয়ে বসে থাকা বৃদ্ধ নেতারা। মহাদেশটির বৃদ্ধ নেতাদের ক্ষমতা ছাড়ার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। আফ্রিকার পালাবদলের ময়দানে আজও তাই তুরুপের তাস হয়ে আছে সামরিক অভ্যুত্থান।

Shares

Comments are closed.