বৃহস্পতিবার, জুন ২০

বসন্ত কেবিনের উত্তম কুমার

তুমি অধম তাই বলে আমি উত্তম হব না কেন? সব বাঙালিই বোধহয় জীবনে একবার উত্তম কুমার হয়ে উঠতে চায়। বাঙালির উত্তম পুরুষে বিহার করলেন প্রদীপ দে সরকার।

প্রদীপ দে সরকার

কোনও রকমের ঝামেলায় পড়লেই আমি একবার গাবুদাদের বাড়িতে চলে যাই। যে কোনও বিষয়ে গাবুদার অগাধ জ্ঞান। উত্তমকুমারকে নিয়ে কিছু লেখার আগে তাই গাবুদার সাথে একবার দেখা করলাম।

‘আচ্ছা, গাবুদা উত্তমকুমারের এই যে একটা অসম্ভব রকমের পপুলারিটি তার সঠিক কারণটা কী?’

‘বঙ্কিম পড়েছিস? শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ? মাইকেল?’

‘দ্যাখ গাবুদা, লিস্ট বাড়াতে থেক না। বাংলায় আমি কমই পড়েছি। রবীন্দ্রনাথ বাদ দিলে ওই খানিকটা করে খাবলে খুবলে বিভূতি, মানিক, তারা…’

‘দাঁড়া, দাঁড়া। অত তাড়া থাকলে হবে না’, কথা শেষ করতে পারলাম না, গাবুদা ধমকে বলল, ‘তুমি গ্যালপিং ট্রেনের মত ক্লাস জাম্প করে করে মাস্টারস করবে, তা তো হবে না বাবা। ওতে জ্ঞান কমপ্লিট হবে না’।

‘উত্তমকুমারের সঙ্গে এসবের কী সম্পর্ক বল তো?’

‘বাংলা সাহিত্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে উত্তমের পপুলারিটির রহস্য’।

ভাবলাম ঠিক কথা। নেটে পড়েছি। রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিদান দিয়ে যাঁর অভিনয় জীবনের শুরু তাঁর উত্থানের পেছনে সাহিত্যের প্রভাব তো থাকবেই। গাবুদা নিশ্চয়ই এবার সে বিষয়ে ডিটেলে বলবে। আমি খাতা পেন রেডি করে বললাম, ‘একটু খুলে বল’।

আরও পড়ুন: জীবনখাতার প্রতি পাতাতেও তিনি ছিলেন মহানায়ক

‘তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন? কার ডায়লগ? কোন লেখকের কোন বই?’

‘যাঃ বাবা। তুমি কি এখন আমায় জিকে’র কোয়েশ্চেন ধরবে?’

গাবুদা আমার কথায় পাত্তাই দিল না। একটা সিগারেট ধরিয়ে লম্বা টান মেরে বলল, ‘প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো ডায়লগ। কিন্তু আজও হিট। বুঝে দ্যাখ, সেই দেড়শ বছর ধরে বাঙালি উত্তম কুমার হতে চেয়েছে, কিন্তু পারে নি। আহা! আমি উত্তম কুমার হইব না কেন? কী আকুতি! পরের দেড়শ বছরে সত্যি সত্যিই উত্তম কুমার হয়ে উঠতে পারল মাত্র একজন। তাকে নিয়ে মানুষ পাগল হবে না?’

আমি খাতা পেন গুটিয়ে উঠে পড়লাম। সন্ধ্যে নামলেই বিড়িতে গাঁজা ভরে খাওয়া গাবুদার বহুদিনের অভ্যেস। আজ বৃষ্টির জন্য বোধহয় বিকেল সন্ধ্যে গুলিয়ে ফেলেছে। আগেই মেরে দিয়েছে। উঠে চলে আসব এমন সময় বৌদি চা-নিমকি নিয়ে ঘরে ঢুকল, ‘কী হল? চা না খেয়েই চলে যাচ্ছিলে?’

‘খুব চাপে আছি বৌদি। গাবুদার কাছে এসেছিলাম কিছু টিপস চাইতে, কিন্তু আজ বোধহয় আগেই গাঁজা টেনে বসে আছে। কাজ হল না’।

গাবুদার গঞ্জিকা সেবনের ব্যাপারে বৌদি কখনই বিরক্তি প্রকাশ করে না। আজও করল না। হাতে চায়ের কাপ তুলে দিয়ে বলল, ‘তা, এবারের ব্যাপারটা কী?’

‘উত্তম কুমার। পুরো ঝুলে আছি’।

‘উত্তমে ঝুলবে না তো কিসে ঝুলবে ভাই? বাড়ির ঝি থেকে পিসিমা, বৌদি থেকে শাশুড়ি সবাই ঝুলছে আর তুমি ঝুলবে না?’

বাজে কথা শুনতে একদম ভাল লাগছিল না। চা খেয়েই কোনওমতে উঠে পড়তে হবে। বৌদি বোধহয় আমার মনের কথা বুঝতে পেরেই বলল, ‘চা খেতে খেতে আমাদের মিনুর গল্পটা শুনে যাও’।

মনে মনে ভাবছি গোটা ফ্যামিলিটাই পাগল। আমার বিরক্তিকে বৌদি পাত্তাই দিল না। বলতে লাগল, ‘আমাদের বাড়িতে কাজ শুরু করার সময়েই মিনু বলে রেখেছিল, বাড়িতে জি নেই তো ঝি নেই। তখন সবে অ্যান্টেনা গিয়ে কেবল্‌ লাইন বসছে। সিরিয়াল ছাড়াও জি টিভিতে সিনেমা দিত। আর উত্তমের সিনেমা থাকলে ওকে কোনও কাজ দেওয়া যেত না। একবার পিসিমা এসেছেন মালদা থেকে। পিসিমা মালদায় একটা স্কুলে ভূগোল পড়াতেন। তখন সদ্য রিটায়ার করেছেন। মিনুকে বললাম পাড়ার দোকান থেকে একটু সিঙারা মিষ্টি আনতে। সোজা পারবে না বলে দিল। মুখের ওপর পারবে না বলায় মাথাটা ভীষণ গরম হয়ে গেল। হারানো সুরে উত্তম তখন সুচিত্রাকে চিনতে পারছে না। স্যুট বুট পরে গটগট করে সিঁড়ি দিয়ে উঠে যাচ্ছে। কিন্তু আমি কিছু বলার আগেই দেখি পিসিমা বলল, তোর সবেতেই বড্ড তাড়াহুড়ো। এই তো সবে এলাম। সিনেমাটা দেখতে দে না। ও না হয় সিনেমা শেষ হলে এনে দেবে। দেখি পিসিমাও জমিয়ে বসে উত্তম কুমারকে দেখছে। আমিও বসে পড়লাম। টিভিতে রমা তখন পিয়ানো বাজিয়ে আকুল সুরে গাইছে, তুমি যে আমার, ওগো তুমি-ই-ই যে আমার। মিনু আরা পিসিমা দুজনেই টেনশনে। এতবার দেখা তবুও ওদের টেনশন, অলক যে রমাকে চিনতে পারছে না। উত্তম তো শুধু সুচিত্রাকে চিনতে পারছে না, আমি তখন পিসিমা মিনু কাউকেই চিনতে পারছি না।

‘ঠিক দুদিন পর মিনুকে বাজার পাঠিয়েছি ইলিশ মাছ আনার জন্য। সাড়ে সাতটা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হল মাছ আনতে। ন’টা, সাড়ে ন’টা, দশটা, এগারোটা, মিনুর দেখা নেই। ন’টার সময় তোমার গাবুদাও অফিস বেরিয়ে গেছে। বাড়িতে আমি আর পিসিমা। কী করব বুঝতে পারছি না। বারোটা নাগাদ তোমার গাবুদাকে ফোন করলাম। বলল, দিনকাল ভাল নয়, এবার পুলিশে খবর দাও।

‘বাড়ি থেকে বের হব এমন সময় দেখি মহারাণী খালি ব্যাগ দোলাতে দোলাতে ফিরছেন। কী রে বাজার কোথায়? ইলিশ মাছ? প্রচণ্ড বিরক্তি নিয়ে মিনু বলল, তুমি কী গো বৌদি? আজকের দিনটা কী সেটাও জান না? ভাবলাম আজ হয়ত বন্‌ধ টনধ কিছু ছিল। জিজ্ঞেস করলাম, তা বাজার বন্‌ধ হলেও তুই ফিরে আসবি তো? মিনু আরও খেপে গেল আমার ওপর, আজকের দিনটা তুমি সত্যিই জান না বৌদি? কী লোক গো তুমি? আমি ঘাবড়ে গেলাম। কী এমন গুরুত্বপূর্ণ দিন যা আমি ভুলে গেলাম। তোমার গাবুদার ওপরেও রাগ হল। আমি না হয় ঘরে থাকি, অত বাইরের খবর রাখতে পারি না। সে তো আমাকে বলে দিয়ে যাবে। আমি একটু নরম সুরেই বললাম, না রে আমি জানি না। কী ছিল রে আজ? মিনু করুণ সুরে বলল, আজ চব্বিশে জুলাই গো বৌদি। উত্তম কুমারের মিত্যুদিন, বলে মিনু কেঁদেই ফেলল। আমার তো মাথায় রক্ত উঠে গেছে। বললাম, উত্তম কুমারের মৃত্যুদিবস তাতে তোর কী? মিনু ঝাঁঝিয়ে উঠল, তুমি কী নিষ্ঠুর গো বৌদি! এই দিনে উত্তম কুমার মারা গিয়েছিল আর আমি একটু টালিগঞ্জে গিয়ে মালা দেব না? তাও তো ভেবেছিলাম অটোয় যাব আর আসব। তারপর না হয় বাজার করে ফিরব। কিন্তু ওখানে গিয়ে সবাই উত্তম কুমারকে নিয়ে এত ভাল ভাল কথা বলছে শুনে আর ফিরতে ইচ্ছে করল না। আমি রাগব না কাঁদব, কী বলব, কিছুই বুঝে পারছি না। দেখি পিসিমা এসে দাঁড়িয়েছে আমার পাশে, হ্যাঁ রে মিনু, তুই টালিগঞ্জে গেলি আমায় একবার বললি না? আমিও একবার যেতাম। সুপ্রিয়া কী বলল রে?

‘মিনু আমায় বাজারের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার সময় দেখি তিরিশ টাকা কম। বলল, অটো ভাড়া আর মালা কেনার জন্য ওই টাকাটা খরচ হয়েছে। মাইনে থেকে কেটে নিও। মেজাজ দেখিয়ে বললাম, থাক আর ওই টাকাটা দিতে হবে না। মিনু গম্ভীর গলায় বলল, উত্তম কুমারের নামে ধার বাকি রাখব না। ওটা আমার টাকা থেকেই কাটবে। মালা নিয়ে আমার একটা কৌতূহল ছিল। জিজ্ঞেস করলাম, কিন্তু ওখানে অত নামী দামী লোকেদের ভিড়ে মালা দিলি কী করে? মিনু ঠিক সুচিত্রার মতন ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, দুজ্ঞা ঠাকুরকে যেমন দূর থেকে ফুল ছুঁড়ে অঞ্জলি দাও তেমন করেই দিলাম।

‘মিনু বছর পাঁচেক আমাদের বাড়িতে ছিল। ওই ক’বছর আমরা চব্বিশে জুলাই ভুলতাম না। আসলে কী জান তো উত্তমের জন্মটা তেমন জমকালো নয়, সিনেমার জগতে ওঁর জন্মের মতই, অনাড়ম্বর। কিন্তু মৃত্যুটা কেউ মেনে নিতে পারে নি। লোকে মনে করত উত্তম কুমারের মৃত্যু নেই। মহানায়ক, গুরু, ভগবান, সে কি মরতে পারে?’

‘উত্তম কুমার আজও মরে নি’। গাবুদা এতক্ষণ গাঁজার ধুমকিতে ঝিমুচ্ছিল। চা খেয়ে বোধহয় খানিকটা চাঙ্গা হয়েছে। রিপিট করল, ‘উত্তম কুমার আজও মরে নি, বুঝলি। টিভিতে বাংলা সিরিয়াল দেখিস?’

মাথা নেড়ে জানালাম দেখি না। গাবুদা বলল, ‘সিরিয়াল দ্যাখ। দেখবি হাজার হাজার উত্তম। প্রতিটি সিরিয়ালের অ্যাটলিস্ট তিনটে অভিনেতা, বিশেষ করে যাদের বয়স পঁয়তাল্লিশের ওপর তাদের তাকানো, হাঁটা চলা, ডায়লগ থ্রোয়িং, ম্যানারিজম এমনকি অনেকের চুলের স্টাইলটাও উত্তম কুমারের মত। মারা যাওয়ার প্রায় চল্লিশ বছর পরেও দিব্যি বেঁচে আছে লোকটা’।

বৌদি আমায় জিজ্ঞেস করল, ‘বসন্ত বিলাপ দেখেছো?’

মাথা নাড়লাম। মনে মনে ভাবছি গদার, ফেলিনি ফেলে পাতি বাংলা! তা-ও যদি ঋত্বিক, সত্যজিৎ কিংবা মৃণাল নামগুলো থাকত। মুখে বললাম, ‘না বৌদি, দেখি নি’।

বৌদি আমার হ্যাঁ-না নিয়ে ভাবেও নি। নিজের মনেই বলল, ‘ওখানে একটা সিনে চিন্ময় পুকুর পাড়ে বসে তার প্রেমিকার কাছে একটা ছোট্ট আবদার করছে, অ্যাই, আমায় একবার উত্তম কুমার বল না। ওটাই ক্যাচ লাইন। সবাই উত্তম হতে চাইত। বাবা, ছেলে, স্বামী, প্রেমিক সব রূপেই ও-ই সেরা যেন। স্বপ্নের নায়ক। বাংলার কেষ্ট। পিসিমা থেকে মিনু সবাই ওঁর প্রেমে পাগল। সবাই ওঁকেই চায়’।

গাবুদা বলল, ‘গত পাঁচশো বছরের বাঙালি সমাজে সবচেয়ে প্রভাবশালী অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের একটি তালিকা যদি তৈরি করা যায় তাতে প্রথমে আসবেন শ্রী চৈতন্য এবং সর্বশেষে উত্তম কুমার। মাঝে রবি ঠাকুর আছেন ঠিকই কিন্তু সাধারণ বাঙালি জীবনে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব উত্তম কুমারের মত নয়। ঠাকুর রামকৃষ্ণও বিখ্যাত হয়েছেন মৃত্যুর অনেক পরে এবং অবশ্যই বিবেকানন্দের তৈরী রামকৃষ্ণ মিশনের দৌলতে। কিন্তু একক ক্যারিশমায় গুরু তুলনাহীন’।

বুঝলাম এরা সব গুলিয়ে দিচ্ছে। এসব লিখলে পুলিশ কেস, মানহানির মামলায় পড়তে পারি। কাজ তো হলই না উলটে ফালতু সময় নষ্ট হল। উঠতে যাব এমন সময় গাবুদার ছেলে সৌম্য কলেজ থেকে ফিরল। হাতে ব্রাউন পেপারের বড় ঠোঙা। গায়ে সামান্য তেলের ছোপ দেখা যাচ্ছে। বৌদি ছেলের হাত থেকে প্যাকেটটা নিয়ে আমায় বলল, ‘দাঁড়াও, সমু উজ্জলার চানাচুর নিয়ে এসেছে। খেয়ে যাও। এক সময় উত্তম কুমার এই চানাচুর খেত। তোমার গাবুদা আর আমিও খুব খেতাম, কলেজে পড়ার সময়’।

গাবুদা ঢুলুঢুলু চোখ টিপে বলল, ‘তোর বৌদির সঙ্গে আমার কীভাবে প্রেম হল জানিস?’

চানাচুরটা খেতে মন্দ নয়। তার ওপর গরম। ভালই লাগছে। প্রেমের গল্প শুনতেও খারাপ লাগে না। গাবুদা চোখ বন্ধ রেখেই বলতে শুরু করল, ‘তখন কলেজে পড়ি বুঝলি। পাঁচ ছ বছর আগে উত্তম কুমার মারা গেছেন। কিন্তু মানুষ যেন তখনও ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না যে গুরু নেই। তাই পুরনো সিনেমা ঘুরে ফিরে আসছে। বিজলিতে সপ্তপদী এসেছে। আমি প্রতিদিন ম্যাটিনি শোয়ে ঢুকে পড়ছি। তৃতীয় দিন খেয়াল করলাম আমার ঠিক পাশে আগের দিনের মেয়েটাই বসেছে। জিজ্ঞেস করলাম, ক’বার? বলল, আগে তিন চারবার দেখেছি। এবার প্রথম দিন থেকেই দেখছি। আমার মনে বসন্তের বাতাস বয়ে গেল। বললাম, পাশেই বসন্ত কেবিন। সিনেমা শেষ হলে যাবে? সেদিন গেল না। কিন্তু পরের দিনের জন্য পাশাপাশি টিকিট কেটে বাড়ি ফিরলাম। সারারাত ঘুমোতে পারি নি। পরদিন শোয়ের একঘন্টা আগে হাজির হয়ে গেলাম। একটা টিয়ে রঙের শিফনের শাড়ি পড়ে এসেছিল সেদিন। এখনও মনে আছে’। মনে হচ্ছে গাবুদা বুঝি চোখ বন্ধ করে তিরিশ বছর আগের ওই দৃশ্যটাই দেখছে।

বৌদির দিকে তাকিয়ে দেখি খানিকটা লজ্জার রঙ লেগেছে পঞ্চাশের গালে। তাকিয়ে আছে গাবুদার দিকে। গাবুদা বলছে, ‘আমার মনে হল পর্দার ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট সুচিত্রার কালার কপি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সিনেমা শেষে গেলাম বসন্ত কেবিনে। ছোট্ট টেবিলে মুখোমুখি বসেছি দুজন। বাবার পকেট কাটা টাকায় দুটো কবিরাজি আর দু’কাপ চা অর্ডার করেছি। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ওর হাতে হাত রাখার চেষ্টা করতেই ফুঁসে উঠল, ডোন্ট ট্টাছ মি। মুহূর্তে আমি কৃষ্ণেন্দু হয়ে গেলাম। পুরো আউট’। শেষ দিকটায় গাবুদার কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল। আজ বোধহয় একটু বেশিই টেনেছে।

বৌদিকে বললাম, ‘এ তো সারা জীবন আউট হয়েই কাটাচ্ছে। এত গাঁজা খাচ্ছে কেন? সামলাও’।

বৌদির কোনও হেলদোল নেই। হেসে বলল, ‘ছোট বেলায় মা-ঠাকুমা বলত শিবের মত বর হোক। বড় হয়ে নিজে চাইলাম উত্তম কুমার। আল্টিমেটলি মিক্সচার পেলাম। চেহারায়, স্টাইলে উত্তম আর স্বভাবে শিব। মানিয়ে নিলাম’। আমার এখন মনে হচ্ছে বৌদিও বোধহয় গাঁজা খায়। পুরো হর-গৌরী কেস। আরে, উত্তম কুমারের বউয়ের নামও তো গৌরীদেবী! নেটে তো তাই দেখলাম মনে হচ্ছে। যাক গে।

চানাচুর খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঠিক করলাম আর কোনওদিন সমস্যা সমাধানের জন্য গাবুদার বাড়িতে যাব না। সব গাঁজারু।

প্রদীপ দে সরকারের লেখা প্রকাশিত হয়েছে দেশ, বর্তমান রবিবার, উনিশ-কুড়ি, সুখী গৃহকোণ, কিশোর ভারতী, আনন্দমেলা, তথ্যকেন্দ্র, শুকতারা ইত্যাদি পত্র-পত্রিকায় এবং বাংলালাইভ ডট কম ওয়েব ম্যাগাজিনে।

Leave A Reply