শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

‘ডাগ্গা’ সেবনে আর বাধা নেই, আনন্দে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার গাঁজাখোরেরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  এই বছরের এপ্রিল মাসে গাঁজা সেবনকারীদের আবেদনে সাড়া দিয়েছিল আফ্রিকার দেশ লেসোথো। সে দেশে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনে আর বাধা নেই। আফ্রিকার দ্বিতীয় দেশ হিসেবে সেপ্টেম্বরে সাড়া দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের গাঁজা রাখা ও সেবনের অনুমতি দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সুপ্রিম কোর্ট। আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছিল দেশটির গাঁজা সেবনকারীরা। উল্লাসের আরেকটা কারণ হল, সাংবিধানিক আদালত রায়ে বলেছিল, প্রাপ্তবয়স্ক গাঁজা সেবনকারীরা নিজেদের খরচায়, নিজেদের জমিতে, নিজের জন্য গাঁজা চাষ করতে পারবেন। তাই ইতিমধ্যে গাঁজার চাষে নেমেও পড়েছেন অতি উৎসাহী কিছু দক্ষিণ আফ্রিকাবাসী।

প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের অনুমতি চাই

তবে সরকারি রায়ে পুরো খুশি হতে পারেননি  প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের পক্ষে আন্দোলন চালানো ‘ডাগ্গা পার্টি’র নেতা জেরেমি অ্যাক্টন। দক্ষিণ আফ্রিকায় গাঁজাকে মানুষ চেনেন ‘ডাগ্গা’ নামে। রায় শোনার পর জেরেমি অ্যাক্টন বলেছিলেন, “কেন গাঁজাকে গোপনভাবে রাখতে ও সেবন করতে হবে! প্রকাশ্যে গাঁজা বহন ও সেবনের অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার গাঁজা সেবনকারীরা প্রকাশ্যে গাঁজা বহন ও সেবনের অনুমতি আদায়ের আন্দোলনে নামতে চলেছেন।”

ভগবান দিয়েছেন গাঁজা, আন্দোলনকারীদের পরিস্কার বক্তব্য

মজার ব্যাপার হল, গাঁজা রাখার দায়ে ধরা পড়া তিন ব্যক্তির করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এই অদ্ভুত রায়টি দেয় সাংবিধানিক আদালত। তিন গাঁজাখোরই আদালতকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, নিজেদের কাছে গাঁজা রেখে তাঁরা কোনও অন্যায় করেননি। গাঁজা সমেত গ্রেফতার করে এবং গাঁজা সেবনে  নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে।  মামলাটির রায়ে ডেপুটি চিফ জাস্টিস রেমন্ড জোন্ডো বলেছিলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিজ খরচে গাঁজা রাখা বা সেবনের দায়ে অপরাধী বলে বিবেচিত হবে না। দেশটির পার্লামেন্টকে আদেশটি আইনে পরিনত করতে নির্দেশ দেয় আদালত। তবে এই রায়েই বলা হয়েছিল, প্রকাশ্যে গাঁজা সরবরাহ, বিক্রি ও সেবন করা অসাংবিধানিক বলে গন্য করা হবে।

কিচেন গার্ডেনে গাঁজার চাষ হচ্ছে

যাই হোক ভরপুর মজায় আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার গাঁজাখোরেরা। এক টানেতে যেমন তেমন হলেও, তিনটানেতে নিজেদের রাজা,উজির ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। উইকএন্ডের পার্টিগুলিতে যথেচ্ছ ভাবে উড়ছে গাঁজার ধোঁয়া। বাড়ির পিছনের কিচেন গার্ডেনে উঁকি মারছে গাঁজা গাছ। কিন্তু গাঁজা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাতে হওয়া আন্দোলনের ঢেউ তাদের দেশেও আছড়ে পড়ার ভয় পাচ্ছে আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলি। তাদের দেশের গাঁজাখোরেরা না আবার আন্দোলন করে বসেন! বিভিন্ন দেশের গাঁজাখোরেরা সোশ্যাল মিডিয়াতে যোগাযোগ শুরু করেছেন। এতেই রক্তচাপ বাড়ছে আফ্রিকার।

Shares

Comments are closed.