শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

পৃথিবীর নীলচে সবুজ জলরাশির অতলে লুকিয়ে আছে যে সাতটি রহস্যময় স্থান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাকাশ নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। ঠিক তেমনই নীল সাগরের অচিনপুরে কী লুকিয়ে আছে তা জানতেও মানুষ ততোধিক আগ্রহী। মহাকাশ নিয়ে আমরা প্রায় কিছুই জানি না, কারণ মহাকাশটা ঠিক কতো বড় তাই সঠিকভাবে জানা যায়নি। পৃথিবীর সাগর মহাসাগরগুলির  আয়তন ও গভীরতা  জানা গেলেও জানা যায়নি সমুদ্রের রহস্যময় তলদেশের সম্পূর্ণ বিবরণ। বিজ্ঞান প্রতিদিন সমুদ্রের তলদেশ থেকে  কিছুনা কিছু আবিস্কার করছে এবং করে আসছে কয়েক শতাব্দী ধরে। তবুও তা নগণ্য,বলছে বিজ্ঞানই। এবার জেনে নিন,পৃথিবীর সমুদ্র ও হ্রদ্গুলির গভীর জলরাশির অতলে লুকিয়ে থাকা সাতটি রহস্যময় এবং রোমাঞ্চকর স্থান, যা আপনাদের অবাক করে দেবে।

 জাপানি জ্যামিতিক বৃত্ত

জাপানের সমুদ্র উপকূলে আবিস্কৃত হওয়া এই রহস্যময় জ্যামিতিক বৃত্তের ছবি গুলি  দেখে চোখ কপালে উঠেছিল পৃথিবীর। গ্রহান্তরের মানুষ বা এলিয়েনরা জলের নিচেও নেমে পড়েছিল! কী করে তৈরি হলো এই নিখঁত জ্যামিতিক বৃত্তগুলি! কে আঁকলো! জাপানি খামারের এভাবেই তো বৃত্তাকার জমির মধ্যে বিভিন্ন খাদ্য শস্য বৃত্তাকারে চাষ করা হয়। ইয়োজি উকাতা নামে একজন জাপানি ফটোগ্রাফার, এই অবাক করার মতো বৃত্তগুলি খুঁজে পেয়েছিলেন। পরে জানা গেছিলো, এগুলি মাছেদের তৈরি। পুরুষ মাছকে আকর্ষণ করার জন্য স্ত্রী মাছরা জ্যামিতি নিয়ে চর্চা করে। মানে এরকম নিখুঁতভাবে বৃত্তের ছবি আঁকে,শুধুমাত্র পাখনার সাহায্যে।

ক্যানকান আন্ডার ওয়াটার মিউজিয়াম

মেক্সিকোর সমুদ্রের  তলদেশে থাকা প্রবাল-প্রাচীরে  ৪৭০ টি স্ট্যাচু নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এক অত্যাশ্চর্য মিউজিয়াম। বিশাল এলাকা জুড়ে সমুদ্রের তলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এই মূর্তিগুলি। মেক্সিকোর প্রাচীন সভ্যতায় খুঁজে পাওয়া বিভিন্ন মূর্তির অনুকরণে পাথরে খোদাই করা হয়েছে এই মূর্তি গুলি। কোনও কোনও মূর্তি এতই ভয়ঙ্কর দেখতে,সমুদ্রের তলদেশের প্রায়ান্ধকার জগতে এগুলি দেখে পর্যটক-ডুবুরিরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত এলাক ছাড়েন। জলের তলায় থাকা বিভিন্ন মূর্তির গায়ে ধরা শ্যাওলা, প্রবালের পলিপের আস্তরণ মূর্তিগুলিকে  আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।।পৃথিবীর বৃহত্তম কৃত্রিমপ্রবাল-প্রাচীরও কিন্তু এখানেই।

অ্যাবিসের যিশুখ্রিষ্ট
ফ্লোরিডারর অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় ডুবুরিরা এই জায়গাটিকে বলেন জলের নিচের জেরুজালেম। পেনিক্যাম্প স্টেট পার্কের অন্তর্গত এই সামুদ্রিক যিশুর আশেপাশে সামুদ্রিক মাছেদের লুকোচুরি মুগ্ধ করে স্কুবা ডাইভারদের। গুইদো গ্যালেত্তির তৈরি করা ব্রোঞ্জের অতিকায় যিশু। তাঁর প্রসারিত দুই হাত দিয়ে যেন সাগরের নিচে মহাজাগতিক রশ্মিকে আহবান করছেন।

গ্রিন লেক

অস্ট্রিয়ার স্টিরিয়ায় অবস্থিত গ্রাম ট্রাগব। ভারি অদ্ভুত গ্রাম।যেটিকে ঘিরে আছে হচসওয়াব পর্বতশ্রেণী। শীতকালে প্রচুর বরফ পড়ে গ্রামটিতে। সেই বরফ বসন্তকালে গলে গেলে, গ্রামের গায়ে লাগানো লেক উপচে পড়ে গ্রামের একাংশ ডুবে যায়।  জলের নিচে চলে যায় কিছু ঘরবাড়ি ,গাছ,পার্ক।  তৈরি হয় জলের নিচে সাজানো একটি গ্রাম। যেখানে বাড়িগুলিতে কিছুদিনের জন্য সংসার পাতে বিভিন্ন জলজ প্রাণী। আবার শীতের শুরুতে গ্রামটির জলে ডুবে থাকা অংশ জেগে ওঠে।

ফুজিকাওয়া মারু
ফুজিকাওয়া মারু ছিল  ১৩২ ফুটের জাপানি এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার জাহাজ । আমেরিকার টর্পেডোর আঘাতে ডুবে গেছিলো ১৯৪৪ সালে। পৃথিবীর তলদেশে ডুবে থাকা জাহাজদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় থাকার জন্য পৃথিবীর ডুবুরিরা পছন্দ করেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধের সাক্ষী থাকা ফুজিকাওয়া মারুর কাছে পৌঁছে ডুবুরিরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে মোহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিহরিত হন ইতিহাসকে সামনে থেকে দেখতে পেয়ে।

লায়ন সিটি
চিনের জলবিদ্যুৎ তৈরি করার জন্য ইচ্ছা করেই এই শহরকে জলের নিচে ডুবিয়ে দেয় চিন। এই শহরটির আগের নাম ছিল শি চেঙ। চিনের পূর্বে অবস্থিত ঝেজিয়াং প্রদেশের এই শহরটি এক্সময় নিয়ন্ত্রণ করতো প্রদেশটির রাজনীতি ও  অর্থনীতি। এখন শহরটি ঘুমিয়ে আছে ১৩২ ফুট জলের তলায় ৫৯ বছর ধরে। শহরটিকে আজ পৃথিবী চেনে পুবের-অ্যাটলান্টিস নামে। নিমজ্জিত শহরটির নাম এরকম হওয়ার কারণ শহরটিকে ঘিরে থাকা পাথরে খোদাইকরা পাঁচটি সিংহের মাথা। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো পুরো শহরটাই প্রায় আস্ত এবং নিখুঁতভাবে জলের নিচে সংরক্ষিত হয়ে আছে। বাড়িগুলির  সিঁড়ি থেকে সীমানায় দেওয়া বেড়া পর্যন্ত। ফোটোগ্রাফার ও  পর্যটকরা ছবি তোলার জন্য নিয়মিত নামেন ডুবুরির পোশাক পরে।

  ইয়োনাগুনি মনুমেন্ট 
জাপানে, সমুদ্রের তলদেশের ডুবুরিদের জন্য সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জায়গা হল ইয়নাগুনি মনুমেন্ট। পৃথিবীর সেরা সেরা ডুবুরিরা এই জায়গাটিতে আসতে ভয় পান।  আপাতশান্ত  জলের নিচে প্রচন্ড ক্ষ্যাপাটে স্রোতের কারণে। এখানে সমুদ্রের তলায় আছে এক পিরামিড আকৃতির  বিশালকায় পাথর। যেটি উচ্চতায়  প্রায় ৫০০ ফুট এবং ১৩০ ফুট চওড়া। হ্যামার হেড হাঙ্গরেরা অবিরাম ঘোরাফেরা করে রহস্যময় পাথরটিকে ঘিরে।  একটা অতিকায় পাথরের ব্লক কেটে কোনও এক সময়ে মানুষ তৈরি করেছিল এই সামুদ্রিক পিরামিড। কিন্তু তারা কারা, কেন এবং কার জন্য এই অবিশ্বাস্য পিরামিড তৈরি হয়েছিল, সেই রহস্যের কিনারা আজও হয়নি।

Shares

Comments are closed.