সিআইএ-র চোখে পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক কৃষ্ণাঙ্গ, যাঁর গান ছিল অ্যাটম বোমার থেকেও শক্তিশালী

পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন মাত্র ৩৬ বছর বয়েসে। নাকি তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    রূপাঞ্জন গোস্বামী

    ব্রিটিশ জামাইকার সেন্ট অ্যান প্যারিসের পাহাড়ি মফঃস্বল নাইন মাইল ছিল জ্যামাইকার একটি কুখ্যাত এলাকা। হিংসা ও হানাহানি লেগেই থাকত, তাছাড়া ড্রাগ ব্যবসায়ী ও পতিতাদের স্বর্গরাজ্য ছিল এই নাইন মাইল। কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এই এলাকায় ১৯৪৫ সালে জন্ম নিয়েছিল ছিল রবার্ট নেস্তা মার্লে। বাবা ব্রিটিশ কর্মচারী নরভাল মার্লে ছিলেন শেতাঙ্গ এবং মা সেডেলা বুকার ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ। বাবার সঙ্গে মায়ের মধ্যে বয়েসের ফারাক ছিল প্রায় ৪০ বছর। রবার্টের বয়েস যখন মাত্র ১০, বাবা নরভাল মার্লে মারা যান ৭০ বছর বয়েসে।

    রবার্টকে জন্মের পর থেকেই তার পরিবেশ আপন করে নেয়নি। কৃষ্ণাঙ্গ মায়ের সন্তান বলে শ্বেতাঙ্গ সমাজে ঠাঁই মেলেনি, অন্যদিকে শেতাঙ্গ বাবার সন্তান বলে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল কৃষ্ণাঙ্গ সমাজ। গায়ের রঙ তামাটে হওয়ায় হওয়ায় কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত স্কুলে সহপাঠীরা তাকে খেপাত সাদা বালক বলে।

    বালক বব মার্লে

    গান ছিল রবার্টের রক্তে

    ১২ বছর বয়েসে রবার্ট মায়ের সঙ্গে চলে যান জামাইকার রাজধানী কিংসটনের মফঃস্বল এলাকা ট্রেঞ্চ টাউনে। মায়ের পরিবারে ছিল সঙ্গীতের আবহ। কিংসটনে ছোটোখাটো অনুষ্ঠান করতে করতে পুরোপুরি গানের দিকে ঝুঁকে পড়ে রবার্ট। ১৯৬২ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়েসে ফেডারেল স্টুডিও থেকে রবার্টের গানের একটি রেকর্ড প্রকাশিত হয়। রেকর্ডে  ‘বব মার্টেল‘ ছদ্মনামে গান গেয়েছিলেন রবার্ট। তাঁর প্রথম গাওয়া গান ‘জাজ নট’ লোকের মুখে মুখে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

    রবার্ট এর পর ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল বাবার ‘মার্লে’ পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা কারণ ব্রিটিশ রক্ত তাঁর গায়ে বইছিল। কিন্তু তাঁকে নির্মম ভাবে ফিরিয়ে দিয়েছিল বাবার’ মার্লে’ পরিবার, কৃষ্ণাঙ্গ মায়ের সন্তান হওয়ার অপরাধে। বণর্বৈষম্যর বিরুদ্ধে লড়াই করার জেদ সেদিন থেকে চেপে গেছিল।

    কৈশোরে বব মার্লে

    ১৯৬৩ সালে বব মার্লে, পিটার টস, বেভারলি কেলসো, জুনিয়র ব্রেথওয়েট আর চেরি স্মিথ মিলে তৈরি করেন ‘টিনএজারস’ নামক একটি গানের। দলে ছিলেন ববের ছোটবেলার বন্ধু নেভিল লিভিংস্টোন ওরফে বানি ওয়েইলারও। শোনা যায় মঞ্চভীতি কাটাতে শুরুর দিকে ‘টিনএজারস ‘দলটি দূরের কোনও কবরস্থানে গভীর রাতে রিহার্সাল করত। টিনএজারস’ দলটিই নাম বদলে প্রথমে হয় ‘ওয়েইলিং রুড বয়েজ‘, সেখান থেকে ‘ওয়েইলিং ওয়ারিয়রস‘।

    এই সময় দলটি নজর কাড়ে বিখ্যাত মিউজিক প্রোমোটর কক্সন ডডের। তিনিই ‘ওয়েইলিং ওয়ারিয়রস’ বিশ্বের সামনে বিশ্বখ্যাত ‘দ্য ওয়েলারস‘ হিসেবে। ১৯৬৪ সালে কক্সনে রেকর্ড থেকে প্রকাশিত ‘দ্য ওয়েলারস’ দলটির ‘সিমার ডাউন‘ অ্যালবামটি রেকর্ড গড়ে ৭০,০০০ কপি বিক্রি হয়।

    টিভি শো করছে দ্য ওয়েলারস , আকাশ রঙা জামায় মার্লে

    ১৯৬৬ সালে ব্রেইথওয়াইটে, কেলসো আর স্মিথ দল ছেড়েচলে যান। বানি আর পিটার এবং বব মার্লে চালাতে থাকেন ‘দ্য ওয়েলারস’। এই বছরেই বব মার্লের জীবনে আসেন স্ত্রী রিটা। রিটা ছিলেন কিউবা জাত জামাইকান কণ্ঠশিল্পী। বব মার্লে তাঁর গানে মেশাতে থাকেন রেগে, মেন্টো, রক, সোল, রিদম অ্যান্ড ব্লুজ, জ্যাজ ও  স্কা ঘরানার বৈশিষ্ট্য।

    কাছে টানল ‘রাস্তাফারি’

    বব মার্লে আকর্ষিত হলেন আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রচলিত ‘রাস্তাফারি‘ নামে একটি সহজিয়া লোকধর্মে। এই ধর্মের মানুষরা বিশ্বাস করেন প্রভু যিশু ইথিওপিয়ার সম্রাট প্রথম সেলাসি হয়ে ফিরে এসেছিলেন। এঁরা বিশ্বাস করেন মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর আছেন। এঁরা বিশ্বাস করেন সাম্যের অধিকার সবার আছে।

    ‘রাস্তাফারিয়ান ‘বব মার্লের গানে উঠে আসতে লাগল মানুষের অধিকারের কথা। কালো মানুষদের অধিকারের কথা। গানে ব্যবহার করতে লাগলেন বিভিন্ন ইংরেজি শব্দে রাস্তাফারিয়ান প্রতিশব্দ। ‘অপ্রেশন’ না বলে ‘ডাউনপ্রেশন’ শব্দটি ব্যবহার করতেন। তিনি মনে করতেন অত্যাচার সেই অত্যাচারিতকে সব দিক থেকে নীচে নামায়। তাঁর গানে ‘আন্ডারস্ট্যান্ড’কে বলতেন ‘ওভারস্ট্যান্ড’, কারণ যে মানুষ কিছু বুঝতে পারে সে নীচে থাকে না। ডেডিকেশনকে বললেন লিভিকেশন কারণ কোনও কাজে আত্মনিয়োগ বোঝাতে ‘ডেড’ শব্দটার আসা উচিত নয়। ধীরে ধীরে মার্লের মাথার চুলে রাস্তাফারিয়া ধর্মের অনুসারীদের মতো বড় বড় জটা দেখা দিল।

    মাথায় দেখা দিল লম্বা জটা

    ভারতের শৈবদের মত গাঁজা খাওয়ার চল ছিল রাস্তাফারিয়ানদের মধ্যে, তাই গাঁজার প্রেমে পড়ে গেলেন মার্লে। পরে ‘Gunja Gun‘ নামে একটা গানও রেকর্ড করেছিলেন।  গান, গাঁজা ও রাস্তাফারিয়ান ধর্ম ছাড়াও তাঁর আরকটি প্রেম ছিল ‘ফুটবল’। তিনি প্রচণ্ড ফুটবল পাগল মানুষ ছিলেন। পৃথিবীর যেকোনও জায়গায় লাইভ অনুষ্ঠান করতে যাওয়ার আগে উদ্যোক্তাদের বলে রাখতেন ফুটবল খেলার ব্যবস্থা রাখতে,, ইচ্ছা করলেই যাতে ফুটবল খেলতে পারেন। বব মার্লে বলতেন “ফুটবল হল স্বাধীনতা, ফুটবল হল গোটা একটি বিশ্ব। আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, কারণ ফুটবল মানুষকে দক্ষ করে।”

    ফুটবল ছিল মার্লের অবসরের সঙ্গী

    ‘Get Up, Stand Up For Your Rights’

    ১৯৭৩ সালের এপ্রিলে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হয়েছিল ‘দ্য ওয়েলারস’ এর পঞ্চম অ্যালবাম Catch a Fire। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল ষষ্ঠ অ্যালবাম Burnin। প্রথমটি ততটা হিট না হলেও  Burnin অ্যালবামটি সারা বিশ্বে সুপারহিট হয়ে যায়। অ্যালবামটিতে ছিল বব মার্লের বিশ্ব কাঁপানো গানGet Up, Stand Up For Your Rights। যে গান বিশ্বের দেশে দেশে বর্ণবিদ্বেষ, পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনের  প্রধান হাতিয়ার হয়ে গিয়েছিল।

    যে গানে তিনি সপাটে বলে দিয়েছিলেন, যাজকেরা যা বলেন ঠিক বলেন না। পুরোটা বলেন না। জনসাধারণ বিশ্বাস করে ঈশ্বর আকাশ থেকে এসে, সব দুঃখ সরিয়ে নিয়ে সবাইকে সুখী করবেন। কিন্তু তা ভুল। যিশুর নাম নিয়ে মানুষ মরছে ও স্বর্গে যাচ্ছে। কিন্তু ঈশ্বর তো জীবিত মানুষ। তাই কিছু মানুষকে কিছু সময়ের জন্য বোকা বানানো গেলেও কিন্তু সব মানুষকে চিরকালের জন্য বোকা বানানো যাবে না। আমরা নিজেরা যদি নিজেদের জীবনের মুল্য বুঝতে পারি তাহলে আশার আলো নিজেরাই দেখতে পাব। তাই তিনি বলছেন, “জাগো, উঠে দাঁড়াও তোমার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য”।

    বাফেলো সোলজার গানে নিজেকে ব্রিটিশ বাহিনীর কালো আফ্রিকান ক্রীতদাস যোদ্ধা (Buffalo Soldie) কল্পনা করে  বলছেন, তাঁকে দাস আনা হয়েছিল আফ্রিকা থেকে আমেরিকায়, তাঁর আগমনেও ছিল যুদ্ধ, আমেরিকায় টিকে থাকার জন্যেও ছিল যুদ্ধ। ‘নো ওম্যান, নো ক্রাই‘ গানে বলছেন, নারী তোমার অশ্রু শুকিয়ে নাও সুদিন আসছে। ‘ব্ল্যাক প্রগ্রেস‘ গানে বলেছিলেন, আমরা আমাদের অধিকারের ভাগ না পেলে লড়াই থামাব না। গানগুলি কাঁপিয়ে দিয়েছিল বিশ্বকে, কারণ বব মার্লের গান মানেই বারুদে আগুন।

    ওরা পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল বব মার্লেকে!

    শেতাঙ্গ দুনিয়ায় বসে বর্ণবৈষ্যম্যের বিরুদ্ধে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, লিঙ্গ বৈষ্যম্যের বিরুদ্ধে, ক্ষমতাবান উন্নত দুনিয়ার বিরুদ্ধে, অভিবাসন নীতির  বিরুদ্ধে নিজের গানকে সম্বল করে লড়াই চালিয়ে গেছেন বব মার্লে। বিশ্বের দেশে দেশে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, তাই অনেকের কাছে বব মার্লের মৃত্যু জরুরী হয়ে উঠেছিল।

    ১৯৭৬ সালের ৫ ডিসেম্বর, জামাইকার ‘স্মাইল জামাইকা কনসার্টে অংশগ্রহণ করবেন বব। কনসার্টের দিন দশেকের পরেই জামাইকার সাধারণ নির্বাচন। কনসার্টের মাত্র দুই দিন আগে,৩ ডিসেম্বর, রাত তখন প্রায় সাড়ে আটটা, বব ও তাঁর ব্যান্ডমেটরা রিহার্সাল সেরা বিশ্রাম নিচ্ছেন ববের হোপ রোডের বাড়ির রিহার্সাল রুমে।

    সাত আততায়ী হানা দেয় বন্দুক নিয়ে। নির্বিচারে গুলি চালায়। ববের ম্যানেজার ডন টেলরের পায়ে ও পিঠে গুলি লাগে। ব্যান্ডের কর্মচারী লুই গ্রিফিথের পিঠে গুলি লাগে। স্ত্রী রিটা বাইরেছিলেন তাঁর মাথায় গুলি করা হয়। ববের বুকে ও বাহুতে গুলি লাগে দেওয়ালে ঠিকরে।। ববের স্ত্রী ও টেলরে গুরুতর আহত হয়েও অবিশ্বাস্যভাবেই প্রাণে বেঁচে যান।

    রক্তাক্ত বব মার্লে

    সবাই অনুমান করেছিলেন এই ঘটনার পিছনে ছিল জামাইকার আসন্ন নির্বাচন। বব মার্লে মারা গেলে সুবিধা হত আমেরিকা পোষিত রাজনৈতিক দলটির। পরে অবশ্য ধরা পড়েছিল ৩ ডিসেম্বরের শ্যুটাররা। বিচারে মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। ববের ম্যানেজার বলেছিলেন মৃত্যুর আগে নাকি এক শুটার বলেছিল CIA তাদের ববকে হত্যা করতে পাঠিয়েছিল। বদলে তারা পেয়েছিল কোকেন ও বন্দুক।

    বব মার্লেকে হত্যার চেষ্টার তিনদিন পর ৮০০০০ দর্শকের সামনে  হাজির হন বব মার্লে, একা। সঙ্গে নেই ‘দ্য ওয়েলারস’ ব্যান্ড । সবাই অসুস্থ নয়ত মনের জোর হারিয়েছেন। অকুতোভয় মার্লে গুলির ক্ষতে ব্যান্ডেজ বেঁধে মঞ্চে উঠেছিলেন। ‘দ্য ওয়েলারস’-এর অনুপস্থিতিতে জ্যাপ-পো নামে একটি ব্যান্ড তাঁর সঙ্গে বাজিয়েছিল। পরে যখন মার্লেকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কেন তিনি সেই অবস্থাতেও অনুষ্ঠানটা করেছিলেন, মার্লে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন,”যারা এই পৃথিবীকে কলুষিত করে চলেছে তারা একদিনও তাদের কাজ বন্ধ করে না, আমি কীভাবে আমার কাজ বন্ধ করতে পারি!”

    রক্ত মুছে, গুলির ক্ষত নিয়ে হত্যার চেষ্টা তিন দিন পরে করেছিলেন এই শো

    মাত্র ৩৬ বছরে থেমেছিল চিরবিদ্রোহী মার্লের পথ চলা

    মিয়ামির Cedars Of Lebanon Hospital হাসপাতালে lentiginous melanoma নামে ত্বকের এই ক্যানসারে ১৯৮১ সালের ১১ মে পৃথিবী ছেড়েছিলেন বব মার্লে। রোগটি ধরা পড়েছিল ১৯৭৭ সালে। ফুটবল খেলতে গিয়ে ১৯৭৭ সালে পায়ের একটি নখে আঘাত লাগে। রক্ত জমে যায় জায়গাটাটিতে, ডাক্তাররা জানান ‘মেলানোমা’ হয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটি ক্রমশ ভয়ানক আকার ধারণ করে। জানা যায় সেটি আসলে ক্যানসার।

    বব মার্লেকে বলা হয় তাঁর পায়ের পাতা বাদ দিতে হবে। কিন্তু রাস্তাফারিয়া ধর্মের অনুসারী বব মার্লে তাঁর পায়ের পাতা বাদ দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ তাঁর ধর্মে শরীর হচ্ছে মন্দির, সেখান থেকে কিছু বাদ দেওয়াটা পাপ। তিনি ত্বকের প্রতিস্থাপনে রাজি হন। কিন্তু তা করে কোনও লাভ  হয়নি। ১৯৮০ সালে ক্যানসার পুরো শরীরেই ছড়িয়ে পড়েছিল।

    ১৯৮০ সালে জীবনের শেষ মিউজিক্যাল ট্যুর চলাকালীন একদিন সকালে পার্কে জগিং করার সময় অজ্ঞান হয়ে যান বব মার্লে। তার আগে, সেপ্টেম্বরে পিটার্সবার্গে লাইভ অনুষ্ঠান করেছিলেন। সেটাই ছিল  তাঁর শেষ অনুষ্ঠান। বাকি সমস্ত লাইভ ক্যানসেল করে দিয়ে জার্মানি উড়ে যান জার্মান ডাক্তার জোসেফ ইজেলের কাছে চিকিৎসা করাতে। উন্নতি না হওয়ায় জামাইকায় নিজের বাড়িতে ফিরতে চান বব মার্লে। বাড়ি ফেরার পথে বিমানেই তাঁর অবস্থা খারাপ হয়, তাঁকে পাঠানো হয় মিয়ামির হাসপাতালে। সেখানেই ১৯৮১ সালের ১১ মে প্রয়াত হন ‘রেগে’ সম্রাট  বব মার্লে। মৃত্যুর আগে শেষ বাক্যটি বলেছিলেন নিজের ছেলে জিগগি’কে, বলেছিলেন, “টাকা কোনওদিন জীবন কিনতে পারে না।”

    মার্লের শেষযাত্রা

    খুন হয়েছিলেন বব মার্লে?

    অনেক রাজনৈতিক ভাষ্যকার মনে করেন, পৃথিবীর শক্তিশালী রাষ্ট্রনায়কেরা সত্যিই বব মার্লের মৃত্যু চেয়েছিলেন। CIA-এর কাছে মার্লে ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কৃষ্ণাঙ্গ। কারণ তাঁর গান পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী। যা যুগ যুগ ধরে অত্যচারিত মানুষের মনে বিদ্রোহের বীজ বপন করে চলে।

    ১৯৭৬ সালে জ্যামাইকার হোপ রোডে বব মার্লেকে হত্যার চেষ্টা বিফল হওয়ার পর, সেই সময়কার CIA -এর  ডিরেক্টর উইলিয়াম কলবির ছেলে কার্ল কলবি নাকি বব মার্লেকে একজোড়া বুট দিয়েছিলেন। তার ভেতরে ছিল তেজস্ক্রিয় তামার তার। জুতো পরার পর মার্লে অনুভব করেন পায়ের তলায় কিছু ফুটেছে বলে। জুতোর ভেতর থেকে একটি তামার তার বার করে আনেন। সেই পায়ের সেই আঙুলেই হয়েছিল ক্যানসার।

    সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ যাননি বব মার্লের চিকিৎসক ডাক্তার জোসেফ ইজেলও। এই ডঃ ইজেল প্রাক্তন নাৎসি অফিসার ছিলেন, কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে মানুষ মারার জন্য জেলও খেটেছিলেন। আমেরিকার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন বিশ্বযুদ্ধের পরে। যিনি  নিজে বব মার্লেকে জানিয়েছিলেন, একজন বিশিষ্ট জার্মান নেতা নাকি তাঁকে ববের চিকিৎসা করতে বারণ করেছিলেন। কারণ সেই মানুষটির কাছে বব মার্লে হচ্ছে গ্রহের সবচেয়ে বিপজ্জনক কালো মানুষ।

    ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে, আমেরিকার মার্সি হসপিটালে মৃত্যুশয্যায় শুয়ে ৭৯ বছর বয়স্ক ‘CIA’  অফিসার বিল অক্সলে  কিছু ভয়ংকর স্বীকারোক্তি করেছিলেন। বিল বলেছিলেন, আমেরিকা সরকারের হয়ে ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে তিনি  ১৭ টি গুপ্তহত্যা করেছিলেন। তাঁর শিকারের তালিকায় ছিলেন বব মার্লেও। কিন্তু কীভাবে তা বলেননি। প্রশ্ন জাগে, কার্ল কলবির মার্লেকে দেওয়া জুতোয় ইনি কি তেজস্ক্রিয় তামার তার ঢুকিয়েছিলেন?

    মৃত্যুর আগে ‘CIA’  অফিসার বিল অক্সলে  বলে গেছিলেন তিনি খুন করেছলেন বব মার্লেকে।

    ক্ষণজন্মারা বুঝি বেশি দিন বাঁচেন না

    তাই বব মার্লেও বাঁচেননি, তবে আজও তিনি আছেন, ওইতো শোনা যাচ্ছে তাঁর গলা, ” আমি জানি কে ঈশ্বর, কিন্তু ওরা আমাকে বন্দুকের সামনে দাঁড় করিয়ে বলছে, না ঈশ্বর এখানে নেই। আমি বললাম, হ্যাঁ আছে। তারা এবার গুলি চালায়, লক্ষ্যচ্যুত হয়, আবার চালায়, আবার লক্ষ্যচুত হয়। তারা বার বার গুলি চালিয়ে যায়, কিন্তু  লক্ষ্যচ্যুত হয়, কারণ ইশ্বর আছেন। ”

    তাঁর ভক্তরা বলেন, বব মার্লেকে দেখা যায় না। তাঁকে অনুভব করতে হয়। বব মার্লের কণ্ঠ সাময়িকভাবে রোধ করা যায়, কিন্তু বব মার্লেকে চিরতরে হত্যা করা যায় না। কারণ পৃথিবীর সমস্ত নিপিড়িত শোষিত বঞ্চিত মানবজাতির রক্তে আজও ছুটে চলেছেন বব মার্লে, বিপ্লবের সন্ধানে, আগুনপাখি হয়ে

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More